স্বামী যদি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া কেবল উপদেশ হিসেবে "ডিভোর্স নিয়ে নিস" বলেন, তবে স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিতে পারবে কি?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6239
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 02 Oct 2026, 01:05 PM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 02:59 PM
Views: 17
Tokens: 4,469
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি বলেন যে, তোমার যদি ফিউচারে আমাকে ভালো না লাগে তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না। বা ডিভোর্স নিয়ে নিস বা নিস বা নিবি নিয়ে দিয়ে খারাপ হোস অথবা আমাকে বাদ দিবি, অথবা ডিভোর্স দিবি দিয়ে খারাপ হস
—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত বুঝিয়েছেন আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।

Answer

প্রশ্নের বিশ্লেষণ ও উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী বলেছেন: "ভবিষ্যতে যদি তোমার আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না। অথবা ডিভোর্স নিয়ে নিস, অথবা নিস/নিবি নিয়ে দিয়ে খারাপ হোস, অথবা আমাকে বাদ দিবি, অথবা ডিভোর্স দিবি দিয়ে খারাপ হস।"

প্রশ্নকারীর বক্তব্য: স্বামী এসব বলেছেন অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া — মূলত স্ত্রীকে উপদেশ দিয়েছেন যেন খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকে। খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে স্বামীর কাছ থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যেন যা ইচ্ছা করতে পারে। নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার তিনি দেননি।

তাহলে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে?


ফিকহি মূলনীতি (Salafi/Ahle Hadith দৃষ্টিভঙ্গি)

১. তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দাও তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে..." — [সূরা আত-তালাক: ১]

আরও বলেন:

"পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল..." — [সূরা আন-নিসা: ৩৪]

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তালাক কেবল সেই ব্যক্তির অধিকার, যে স্ত্রীর মালিক (স্বামী)।" — [সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৮১, শায়খ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন]

২. তাফবীদুত তালাক (তালাকের অধিকার প্রদান) — শর্তসাপেক্ষ

স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করেন, তবে তা স্পষ্ট নিয়ত ও ইজাব (প্রস্তাব) সহ হতে হবে। শুধু উপদেশমূলক বা শর্তসাপেক্ষ কথাবার্তা যা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলা হয়, তা দ্বারা তালাকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়yah (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবীদ) তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে তা প্রদান করে এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে। আর যদি কেবল উপদেশ বা ভয়প্রদর্শনের জন্য বলা হয়, তবে তা তাফবীদ হিসেবে গণ্য হবে না।" — [মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ৩৩, পৃষ্ঠা ২৪-২৫]

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ত ও স্পষ্ট ইজাব শর্ত। শুধু শর্তসাপেক্ষ বা উপদেশমূলক বাক্য দ্বারা তাফবীদ সাব্যস্ত হয় না।" — [ইগাসাতুল লাহফান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪৫]

৩. শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-এর ফতোয়া

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

"এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: 'যদি তুমি অমুক কাজ কর, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্ত।' কিন্তু তার নিয়ত ছিল কেবল ভয়প্রদর্শন, তালাকের নিয়ত ছিল না।"

তিনি উত্তর দেন:

"যদি তার নিয়ত কেবল ভয়প্রদর্শন বা নিষেধ করার হয়, তালাকের নিয়ত না হয়, তবে তালাক পতিত হবে না। কারণ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত।" — [ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব, খণ্ড ১২]

৪. শায়খ ইবনে বায (রহ.)-এর ফতোয়া

শায়খ ইবনে বায (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবীদ) স্পষ্টভাবে হতে হবে। যদি স্বামী কেবল উপদেশ দেয় বা শর্ত দেয় কিন্তু তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত না থাকে, তবে স্ত্রী তালাক দিতে পারবে না।" — [মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায, খণ্ড ২১]

৫. শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

"তালাকের অধিকার প্রদান একটি চুক্তি। চুক্তির জন্য স্পষ্ট ইজাব ও কবুল শর্ত। শুধু শর্তসাপেক্ষ বাক্য বা উপদেশমূলক কথা দ্বারা চুক্তি সম্পন্ন হয় না।" — [আল-মুলাখখাস আল-ফিকহী, কিতাবুত তালাক]


প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে:

স্বামী যদি বলেন:

  • "ভবিষ্যতে যদি তোমার আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা"
  • "ডিভোর্স নিয়ে নিস"
  • "নিস বা নিবি নিয়ে দিয়ে খারাপ হোস"
  • "আমাকে বাদ দিবি"
  • "ডিভোর্স দিবি দিয়ে খারাপ হস"

এবং তার নিয়ত হয় কেবল উপদেশ দেওয়া — যেন স্ত্রী খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকে, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে স্বামীর কাছ থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যেন যা ইচ্ছা করতে পারে — তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত না থাকে —

তাহলে:

✅ স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দেওয়ার অধিকার পাবে না।

কারণ:

  1. তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে [সূরা আত-তালাক: ১]
  2. তাফবীদুত তালাকের জন্য স্পষ্ট নিয়ত ও ইজাব শর্ত [ইবনে তাইমিয়yah, ইবনুল কাইয়্যিম]
  3. শুধু উপদেশমূলক বা শর্তসাপেক্ষ বাক্য দ্বারা তাফবীদ সাব্যস্ত হয় না [ইবনে উসাইমীন, ইবনে বায]
  4. প্রশ্নেই বলা হয়েছে — স্বামী অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়াই বলেছেন

📌 তবে স্ত্রীর করণীয়:

স্ত্রী যদি তালাক চান, তবে:

  • খুলআ (স্বামীর সম্মতিতে মুক্তিপণ দিয়ে তালাক) চাইতে পারেন
  • অথবা স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাইতে পারেন
  • অথবা শরীয়াহ আদালতে বিচারকের কাছে গিয়ে তালাকের আবেদন করতে পারেন (যদি স্বামী অন্যায়ভাবে আটকে রাখে)

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য এতে উত্তম উপদেশ রয়েছে।" — [সূরা আত-তালাক: ২]


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | স্বামীর উপদেশমূলক বাক্য | তালাকের অধিকার প্রদান নয় | | তাফবীদুত তালাকের শর্ত | স্পষ্ট নিয়ত + ইজাব + কবুল | | প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি | স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না | | স্ত্রীর করণীয় | খুলআ বা স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া |

উপসংহার: প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে স্বামী যদি অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়াই কেবল উপদেশ হিসেবে এসব কথা বলে থাকেন, তবে স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দেওয়ার অধিকার পাবেন না। এটি Salafi/Ahle Hadith ফিকহের সুস্পষ্ট মত।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.