স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়ে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6091
Questioner: সালমা
Question Asked: 28 Sep 2026, 08:16 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 08:52 PM
Views: 14
Tokens: 11,981
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমার বিবাহিত জীবনের প্রায় ১০ বছর চলছে। আমার স্বামী এর আগে একবার অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে বিয়েও করেছিলেন।ওই নারী ও তাঁর স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় আমার স্বামীকে বিবাহ করেছিলেন।এর পর একসময় আমি এ বিষয়ে জানতে পারলে ঝামেলা ও সমস্যা হওয়ার পর তিনি নিজেই সেই সম্পর্ক থেকে ফিরে আসেন এবং যতটুকু আমি জানি, ওই মেয়েকে তালাক দেন।

কিন্তু ইদানীং আমার স্বামী বারবার বলছেন যে তিনি আবার বিয়ে করতে চান। তিনি এমনও বলেন যে, আমি যদি তার জীবনে থাকি, তাহলে তার আরেকটি বিয়ে করা প্রয়োজন; আর আমি যদি তার জীবনে না থাকি, তাহলে তিনি জীবনে আর বিয়ে করবেন না মজার ছলেই বলেন ।অর্থাৎ তিনি একই সঙ্গে দুই স্ত্রী রাখতে চান।

তিনি জানেন যে এই বিষয়টি আমাকে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট দেয়। তারপরও তিনি বারবার আমাকে বলেন যে তিনি আবার বিয়ে করতে চান।এটা উনার স্বপ্ন দুই বউ থাকবে।

আমার সবচেয়ে বড় ভয় হলো—তিনি যখন আগেরবার ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, তখন আমার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছিলেন এবং আমাদের মধ্যে অনেক ঝামেলা হয়েছিল। তিনি আমাকে আগেও অনেক অসম্মান করেছেন। তাই এখন তিনি যদি আবার বিয়ে করেন এবং একই সঙ্গে দুই স্ত্রী রাখেন, তাহলে তিনি আমার প্রতি আগের মতো দায়িত্ব, ভালোবাসা, সম্মান ও যত্ন ঠিকভাবে রাখবেন কি না—এটা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। তিনি দুই স্ত্রীর প্রতি সমানভাবে ন্যায়বিচার করতে পারবেন কি না, সেটাও আমি জানি না।

এখন আমার মূল প্রশ্ন হলো—আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে আমি যদি এতে আপত্তি করি, বিয়ের বিরোধিতা করি, তাহলে কি আমি গুনাহগার হব? নাকি একজন স্ত্রী হিসেবে তার এই ইচ্ছা মেনে নিয়ে বিষয়টি সহ্য করাই আমার জন্য উচিত?

আমি কি তার দ্বিতীয় বিয়েতে আপত্তি করার অধিকার রাখি, বিশেষ করে যেহেতু তার আগের আচরণের কারণে আমি আশঙ্কা করছি যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে আমার প্রতি তার দায়িত্ব, সম্মান, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচার ঠিক থাকবে না? আবার তিনি প্রায়ই বলেন আমি তাকে ঠিকমতো কেয়ার করিনা অবহেলা করি। যদি আমি বলি আমার ভুল কোথায় হচ্ছে বলুন সংশোধন করার চেষ্টা করবো তিনি সেটাও বলেননা উত্তর দেন বললে কি হবে দরকার নাই।তবে আমি চেষ্টা করি যথাসাধ্য তার কেয়ার করার।এক্ষেত্রে আমার ভুল কি হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না ,যদি এ বিষয়ে আমাকে জানান বা স্বামীর প্রতি কি দ্বায়িত্ব যদি কোরআন হাদিসের আলোকে বুঝতে চাই

আমি চাই, এই বিষয়ে আমাকে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হোক—একজন স্ত্রী হিসেবে আমার করণীয় কী এবং কোন অবস্থায় আমি গুনাহগার হব বা হব না।

Answer

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী একজন স্ত্রীর করণীয়

উত্তর (সংক্ষেপে): ইসলামে স্বামীর জন্য একাধিক (সর্বোচ্চ চারটি) বিয়ে করা বৈধ, তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক বা প্রশংসনীয় কর্তব্য নয়—বরং এটি শর্তসাপেক্ষ অনুমতি। স্ত্রীর জন্য স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে হৃদয়ে অসন্তোষ বা কষ্ট পাওয়া গুনাহ নয়; এটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। কিন্তু স্বামীকে বাধা দেওয়া, বিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা করা, বা শরীয়তবিরোধী পথে (যেমন—মিথ্যা, ষড়যন্ত্র, অপবাদ, বিচ্ছেদের জন্য চাপ) বাধা সৃষ্টি করা গুনাহ। আর স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মূল দায়িত্ব হলো—সাধ্যমতো সেবা, সম্মান, আনুগত্য (শরীয়তের সীমার ভেতরে) ও সংসার রক্ষা। তবে স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ের পর শরীয়তসম্মত ন্যায়বিচার ও অধিকার রক্ষা না করে, তাহলে গুনাহটি স্বামীর, স্ত্রীর নয়।


১. একাধিক বিয়ের বিধান: অনুমতি, বাধ্যবাধকতা নয়

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً

"তোমরা বিবাহ করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে—দুই, তিন বা চার। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে, তোমরা ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনকেই।" (সূরা নিসা: ৩)

এই আয়াত প্রমাণ করে—একাধিক বিয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত (মুবাহ), কিন্তু শর্ত হলো ন্যায়বিচার। ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.), ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর সর্বসম্মত মত হলো—একাধিক বিয়ে করা জায়েয, তবে তা ফরজ বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়। (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪)

গুরুত্বপূর্ণ: স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া ইসলামে শর্ত নয়। তবে স্বামীর উচিত স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি সম্মান করা এবং তাকে বোঝানো—কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ

"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের প্রতি সর্বোত্তম।" (তিরমিজি: ৩৮৯৫)


২. স্ত্রীর আপত্তি করার বিধান

(ক) যা জায়েয—অন্তরের কষ্ট ও কথা বলা

  • দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে মন খারাপ হওয়া, কষ্ট পাওয়া, কাঁদা—এসব গুনাহ নয়; এটি স্বাভাবিক ফিতরত। রাসূল ﷺ-এর স্ত্রীগণও একাধিক বিয়ের বিষয়ে ঈর্ষা প্রকাশ করতেন, এবং রাসূল ﷺ তা নিষিদ্ধ করেননি। (সহিহ বুখারি: ৫২১৫; সহিহ মুসলিম: ২৪৪৫)
  • স্বামীকে নরম ভাষায়, সম্মানের সাথে নিজের কষ্ট ও আশঙ্কার কথা জানানো জায়েয। এতে গুনাহ নেই; বরং এটি সংসার রক্ষার একটি বৈধ প্রচেষ্টা।

(খ) যা নাজায়েয—গুনাহর কারণ

নিম্নলিখিত পথে বাধা দেওয়া গুনাহ:

  1. শরীয়তবিরোধী উপায়ে বিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা—যেমন: মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, কুৎসা রটানো, প্রলোভন বা হুমকি দেওয়া।
  2. স্বামীকে শরীয়তবিরোধী কাজে বাধ্য করা—যেমন: "তুমি বিয়ে করলে আমি আত্মহত্যা করব" বা "আমি ঘর ছেড়ে চলে যাব" বলে চাপ প্রয়োগ করা।
  3. স্বামীর বৈধ অধিকার (যেমন: সহবাস, ভরণপোষণ) অস্বীকার করা—এটি নুশুজ (অবাধ্যতা), যা কুরআনে নিষিদ্ধ। (সূরা নিসা: ৩৪)
  4. তালাক দাবি করা বা বিচ্ছেদের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করা—শুধু দ্বিতীয় বিয়ের কারণে তালাক চাওয়া ইসলামে সমর্থিত নয়। রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে নারী বিনা কারণে স্বামীর কাছে তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম।" (আবু দাউদ: ২২২৬)

সারকথা: আপত্তি করা মানে যদি হয় নরমভাবে বোঝানো ও কষ্ট প্রকাশ করা—তাহলে জায়েয, গুনাহ নেই। আর যদি হয় শরীয়তবিরোধী পথে বাধা, চাপ, বা সংসার ভাঙার চেষ্টা—তাহলে গুনাহ।


৩. স্বামীর ন্যায়বিচার না করার দায়িত্ব কার?

কুরআন স্পষ্ট বলেছে:

وَلَن تَسْتَطِيعُوا أَن تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ

"তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও তোমরা তা কামনা করো। অতএব তোমরা একদিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না, যাতে অন্যজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দাও।" (সূরা নিসা: ১২৯)

এখানে দুটি বিষয়:

  1. ভালোবাসা ও হৃদয়ের ঝোঁক—এটি মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন।
  2. বাহ্যিক ন্যায়বিচার—যেমন: রাত যাপন, খরচ, সময় বণ্টন—এটি স্বামীর উপর ফরজ। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে রাত ও দিনের সময় সমানভাবে বণ্টন করা ওয়াজিব। (আল-হিদায়া; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪)

অতএব: স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ের পর ন্যায়বিচার না করে, তাহলে গুনাহটি তার উপর, স্ত্রীর উপর নয়। স্ত্রীকে এজন্য দোষারোপ করা যায় না।


৪. স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব (কুরআন-হাদিসের আলোকে)

(ক) আনুগত্য ও সেবা (শরীয়তের সীমার ভেতরে)

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ ... فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ

"পুরুষরা নারীদের উপর দায়িত্বশীল... সুতরাং সৎকর্মপরায়ণ নারীরা আনুগত্যশীল এবং আল্লাহর হেফাজতে গোপন বিষয় সংরক্ষণকারী।" (সূরা নিসা: ৩৪)

রাসূল ﷺ বলেছেন:

إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَفِظَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ زَوْجَهَا، قِيلَ لَهَا: ادْخُلِي الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتِ

"যখন কোনো নারী তার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে—তাকে বলা হবে: তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।" (আহমাদ: ১৬৬১)

(খ) স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা

أَيُّمَا امْرَأَةٍ مَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَنْهَا رَاضٍ دَخَلَتِ الْجَنَّةَ

"যে নারী এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (তিরমিজি: ১১৬১)

(গ) স্বামীর দোষ না খোঁজা, ধৈর্য ধারণ

রাসূল ﷺ বলেছেন:

لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ

"কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি (সম্পূর্ণ) ঘৃণা পোষণ করবে না; যদি তার কোনো স্বভাব অপছন্দ করে, তবে অন্যটি পছন্দ করবে।" (সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯)

এই হাদিসটি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য—স্ত্রীরও উচিত স্বামীর দোষ না খোঁজা, বরং তার ভালো দিকগুলো দেখা।


৫. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করণীয়

আপনার স্বামী আগে পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন—এটি তার বড় অন্যায়। শরীয়তে পরকীয়া (যিনা) হারাম, এবং স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহারও নিষিদ্ধ। তবে এখন প্রশ্ন হলো—আপনার করণীয় কী?

ধাপে ধাপে পরামর্শ:

  1. নরমভাবে কথা বলুন: স্বামীকে একান্তে বসিয়ে বলুন—"আমি আপনার দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে কষ্ট পাই, কারণ আগের অভিজ্ঞতায় আমি ভয় পাই যে, আপনি আমার প্রতি ন্যায়বিচার ও ভালোবাসা ঠিক রাখতে পারবেন কি না।" এটি গুনাহ নয়।

  2. নিজের দায়িত্ব পরীক্ষা করুন: আপনি বলেছেন স্বামী অভিযোগ করেন—আপনি তাকে ঠিকমতো কেয়ার করেন না। আপনি যদি সত্যিই কোনো ঘাটতি দেখেন, তা সংশোধন করুন। রাসূল ﷺ বলেছেন: "প্রত্যেক তোমাদের মধ্যে দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সহিহ বুখারি: ৭১৩৮)

  3. স্বামীর সাথে সরাসরি সমাধান: আপনি যদি বলেন—"আমার ভুল কোথায়, বলুন সংশোধন করব"—এবং তিনি উত্তর না দেন, তাহলে আপনি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন; এরপর দায়িত্ব তার। আপনি অজুহাত খুঁজবেন না, বরং আন্তরিকভাবে চেষ্টা করুন।

  4. বাধা দেবেন না, কিন্তু শর্ত জানান: আপনি বলতে পারেন—"আপনি বিয়ে করলে আমি শরীয়তসম্মতভাবে আপনার স্ত্রী থাকব, কিন্তু আমার অধিকার ও সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আপনার।" এটি শরীয়তসম্মত।

  5. অতিরিক্ত চাপ বা হুমকি দেবেন না: "তুমি বিয়ে করলে আমি চলে যাব" বা "আমি তালাক চাইব"—এ ধরনের চাপ ইসলামে সমর্থিত নয়। বরং ধৈর্য ও দুআর আশ্রয় নিন।

  6. দুআ করুন: আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন—"হে আল্লাহ, আমার স্বামীর অন্তরকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন, এবং তাকে ন্যায়বিচার করার তাওফিক দিন।" রাসূল ﷺ বলেছেন: "দুআই ইবাদত।" (তিরমিজি: ৩৩৭২)

  7. প্রয়োজনে অভিভাবক বা মুফতির শরণাপন্ন হোন: যদি স্বামী সীমা ছাড়িয়ে যায় (যেমন: শারীরিক নির্যাতন, ভরণপোষণ বন্ধ), তাহলে স্থানীয় মুফতি বা পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।


৬. আপনি কখন গুনাহগার হবেন?

| অবস্থা | বিধান | |---|---| | দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে মন খারাপ, কষ্ট, কাঁদা | গুনাহ নেই | | নরমভাবে স্বামীকে কষ্টের কথা জানানো | জায়েয, গুনাহ নেই | | শরীয়তবিরোধী পথে (মিথ্যা, চাপ, হুমকি) বাধা দেওয়া | গুনাহ | | স্বামীর বৈধ অধিকার অস্বীকার করা | গুনাহ (নুশুজ) | | শুধু দ্বিতীয় বিয়ের কারণে তালাক দাবি করা | গুনাহ | | স্বামী ন্যায়বিচার না করলে তার গুনাহ | স্ত্রীর উপর কোনো দায়িত্ব নেই |


৭. শেষ কথা

প্রিয় বোন, ইসলাম আপনার অনুভূতিকে অস্বীকার করে না। দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে কষ্ট পাওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো—ধৈর্য, দুআ, এবং শরীয়তের সীমার ভেতরে থেকে সংসার রক্ষা করা। আপনি যদি সাধ্যমতো স্বামীর সেবা, সম্মান ও আনুগত্য করেন, এবং শরীয়তবিরোধী পথে বাধা না দেন—তাহলে আপনি গুনাহগার হবেন না। আর স্বামী যদি ন্যায়বিচার না করে, তাহলে তার হিসাব আল্লাহর কাছে।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারকে শান্তি ও বারাকায় ভরে দিন, আপনার স্বামীর অন্তরকে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট করুন, এবং তাকে ন্যায়বিচার করার তাওফিক দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.