বিধর্মীদের সাহায্য করা ইসলামে জায়েজ কি না?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
হ্যাঁ, বিধর্মীদের সাহায্য করা জায়েজ, তবে কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইসলাম ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানবতার কল্যাণে সবাইকে সাহায্য করতে উৎসাহিত করে। তবে সাহায্যের ধরন ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন ও হাদিসের দলিল
১. সুরা মুমতাহিনা (৬০:৮-৯):
"আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে ও ন্যায়বিচার করতে, যারা তোমাদের সঙ্গে দ্বীন সম্পর্কে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।"
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, যে সব বিধর্মী মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে না, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও সাহায্য করা জায়েজ।
২. হাদিস:
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"প্রত্যেক সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে তাঁর পরিবারের প্রতি বেশি উপকার করে।" (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)
এখানে "সৃষ্টি" শব্দে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
হানাফি ফিকহের রেফারেন্স
১. রদ্দুল মুহতার (২:২৮৩):
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন:
"কাফিরদেরকে (অমুসলিম) দান-সাদকা দেওয়া জায়েজ, যদি তা তাদের ধর্মকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে না হয়।"
২. ফাতাওয়া উসমানী (১/২৮১):
মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানী (দা. বা.) লিখেছেন:
"অমুসলিম প্রতিবেশী, বন্ধু বা আত্মীয়কে সাধারণ সাহায্য (যেমন: খাবার, টাকা, পোশাক) দেওয়া জায়েজ, তবে যাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। কেননা যাকাত কেবল মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত।"
৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪২):
আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:
"বিধর্মীর সঙ্গে সদাচরণ করা এবং প্রয়োজনে সাহায্য করা ফরজ না হলেও মুস্তাহাব (উত্তম), যদি তা দ্বীনি ক্ষতি না করে।"
শর্তাবলী
- সাহায্য এমন বিষয়ে হতে হবে যা শরিয়তে বৈধ (যেমন: খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা)।
- সাহায্যের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা কুফরি কাজকে উৎসাহিত করা যাবে না।
- বন্ধুকে সাহায্য করলে তা সুসম্পর্ক ও মানবতার খাতিরে হতে হবে, ধর্মীয় আপোষ নয়।
সারকথা
বিধর্মী বন্ধুকে টাকা বা অন্য সাহায্য করা জায়েজ, যদি তা তাদের ধর্মীয় ভুল বুঝিয়ে দেওয়ার কারণ না হয় এবং শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে। তবে যাকাত ও ফিতরা শুধু মুসলিমদের জন্য।