Talak er odhikar ar talaker odhikarer mojlish

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6015
Questioner: disha ebnat
Question Asked: 27 Sep 2026, 05:01 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 05:12 PM
Views: 20
Tokens: 12,360
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি একজন OCD (waswasa) রোগী। আমার স্বামীর সঙ্গে গত কিছুদিনে কয়েকবার স্বাভাবিকভাবে ঝগড়া হয়েছে। সর্বশেষ ঝগড়ার সময় স্বামীর একটি কথায় আমি খুব কষ্ট পাই এবং রাগের কারণে আমি তাকে কয়েকবার বলি, “আমি আপনার সাথে থাকব না, আমাকে ছেড়ে দেন।” আমি স্বীকার করছি, এভাবে বলা আমার উচিত হয়নি। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আমার স্বামী বুঝেছিলেন যে আমি এর মাধ্যমে তালাকের কথাই বোঝাচ্ছি।
এরপর আমার স্বামী আমাকে বলেন, “ঠিক আছে, তুমি তোমার বাবাকে ডাকো, তোমার বাবার সাথে কথা বলো, তোমার বাবা কী বলে দেখো।” কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বলেন, “আমি কোনোদিন তোমাকে বলিনি, তবে আজকে আমি নিজে বলছি—তুমি তোমার বাবার সাথে কথা বলো, তোমার বাবাকে বলো, তোমার ডিসিশন জানাও তোমার বাবাকে।” এরপর তিনি আরও বলেন, “তুমি তোমার মতো ডিসিশন নাও, তোমার বান্ধবীদের সাথে, তোমার ফ্যামিলির সাথে কথা বলো; সময় নাও।”
আমার প্রশ্ন হলো:
১. আমার স্বামী এভাবে “তুমি তোমার বাবার সাথে কথা বলো”, “তোমার ডিসিশন নাও”, “তোমার ডিসিশন তোমার বাবাকে জানাও”, “তুমি তোমার মতো ডিসিশন নাও”—এ ধরনের কথা বলার মাধ্যমে কি আমাকে কোনোভাবে তালাকের অধিকার (তাফউইযে তালাক) দিয়েছেন?
২. তালাকের অধিকার স্ত্রীকে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর নিয়ত/ইচ্ছা থাকা কি আবশ্যক? অর্থাৎ, তিনি যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তার মনে কি অবশ্যই স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক নেওয়ার অধিকার দেওয়ার নিয়ত থাকতে হবে?
৩. শুধু “বাবার সাথে কথা বলো”, “তোমার সিদ্ধান্ত নাও” বা “তোমার সিদ্ধান্ত আমাকে/তোমার বাবাকে জানাও”—এ ধরনের কথার দ্বারা কি নিজে থেকেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়ে যায়, নাকি স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার অর্পণ করার বিষয় থাকতে হয়?
৪. আমার স্বামী যখন এসব কথা WhatsApp-এ আমাকে লিখছিলেন এবং তিনি বিদেশে ছিলেন, তখন আমি কোনো মুহূর্তেই নিজেকে তালাক দেওয়ার অধিকার গ্রহণ করিনি এবং “আমি নিজের উপর তালাক নিলাম” বা এ ধরনের কোনো কথা তাকে বলিনি। আমি শুধু তার কথার পর সেখান থেকে বের হয়ে যাই।
৫. কিন্তু পরবর্তীতে একজন পরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলার সময়, তাকে পুরো ঘটনা বোঝানোর জন্য আমি বলেছিলাম, “আমি নিজের উপর তালাক নিলাম।” আমি বাস্তবে তখন আমার স্বামীর কাছ থেকে কোনো তালাকের অধিকার গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে এ কথা বলিনি; বরং ঘটনাটি বোঝানোর সময় এভাবে বলেছিলাম। এই কথার কারণে কি কোনো তালাক সংঘটিত হতে পারে?আমি বিশেষভাবে জানতে চাই—উপরের পুরো ঘটনার মধ্যে আমার স্বামীর কথাগুলো দ্বারা আদৌ কি আমাকে তালাকের কোনো অধিকার (তাফউইয) দেওয়া হয়েছিল? আর যদি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অধিকার কার্যকর হওয়ার জন্য কী কী শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন এবং আমার পরবর্তীতে পরিচিত ব্যক্তির কাছে বলা “আমি নিজের উপর তালাক নিলাম” কথাটির কোনো শরয়ি প্রভাব আছে কি না?
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।Ar Ami oi somoi onak khola talaker kothao bolsilam j apnr asa lagbe na ami nea nichi amr baba. Kk bole

Answer

তালাকের অধিকার অর্পণ (তাফউইযে তালাক) সম্পর্কিত বিস্তারিত ফতোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে আপনি OCD (waswasa) রোগী। ইসলামী শরীয়তে এ ধরনের সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার (waswasa) ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি হলো—সন্দেহের উপর ভিত্তি করে কোনো আমল বা বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না; নিশ্চিত বিষয়ই মূল ভিত্তি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى...» — সহীহ মুসলিম (হাদিস নং ৫৭১)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

«دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ» "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে, তা ছেড়ে দাও এবং যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ করো।" — সহীহ তিরমিযী (২৫১৮), সহীহ আল-জামি (৩৩৭৭)

তাই আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমরা নিশ্চিত ও স্পষ্ট দলিলের উপর ভিত্তি করব, এবং সন্দেহ-ভিত্তিক কোনো কিছুকে তালাক সংঘটিত হওয়ার কারণ হিসেবে গ্রহণ করব না।


প্রথমে একটি মূলনীতি: তালাকের মূল অধিকার স্বামীর হাতে

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ» "তালাক (রাজ'ঈ) দুইবার; অতঃপর হয় ন্যায়সঙ্গতভাবে স্ত্রীকে ধরে রাখা, নয়তো সদয়ভাবে ছেড়ে দেওয়া।" — সূরা আল-বাকারা: ২২৯

«يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ» "হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দেবে, তখন তাদের ইদ্দতের সময় তালাক দেবে।" — সূরা আত-তালাক: ১

এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে তালাকের মূল অধিকার পুরুষের (স্বামীর) হাতে। তবে শরীয়ত স্বামীকে এই অধিকার স্ত্রীর কাছে অর্পণ করার অনুমতি দিয়েছে, যাকে তাফউইযে তালাক বলা হয়। এর দলিল:

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ... وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ» — সূরা আল-বাকারা: ২২৮

আর সূরা আল-আহযাবের ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন:

«يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا» "হে নবী! আপনার স্ত্রীদের বলে দিন—যদি তোমরা দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভরণপোষণ দেব এবং সুন্দরভাবে বিদায় করব।"

এখানে নবী ﷺ-কে স্ত্রীদের ইচ্ছার উপর ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে ফকীহগণ তাফউইযে তালাকের বৈধতা গ্রহণ করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণ করা (তাফউইয) জায়েয, যদি তা স্পষ্ট শব্দে বা এমন শব্দে হয় যা তালাকের প্রতি ইঙ্গিত করে। কিন্তু শুধু সাধারণ কথাবার্তা বা পরামর্শমূলক কথা তাফউইয হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না তাতে তালাকের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত বা নিয়ত থাকে।" — মাজমু'উল ফাতাওয়া (৩৩/৮৪-৮৫)


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর

প্রশ্ন ১: স্বামীর কথাগুলো কি তাফউইযে তালাক হিসেবে গণ্য?

উত্তর: না, ইনশাআল্লাহ। আপনার স্বামী যা বলেছেন—

  • "তুমি তোমার বাবার সাথে কথা বলো"
  • "তোমার ডিসিশন নাও"
  • "তোমার ডিসিশন তোমার বাবাকে জানাও"
  • "তুমি তোমার মতো ডিসিশন নাও, তোমার বান্ধবীদের সাথে, ফ্যামিলির সাথে কথা বলো; সময় নাও"

এগুলো তালাকের অধিকার অর্পণের স্পষ্ট শব্দ নয়। এগুলো সাধারণ পরামর্শ, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা। তালাকের অধিকার অর্পণ করতে হলে স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হয়, যেমন:

  • "তোমার হাতে তালাকের অধিকার দিলাম"
  • "তুমি নিজের উপর তালাক দিতে পারবে"
  • "তোমার ইচ্ছায় তালাক হবে"
  • অথবা এমন শব্দ যা স্পষ্টভাবে তালাকের প্রতি ইঙ্গিত করে

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"তাফউইযে তালাকের জন্য শর্ত হলো—স্বামী এমন শব্দ ব্যবহার করবে যা তালাকের প্রতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে, অথবা তার নিয়ত থাকবে তালাকের অধিকার অর্পণ করার। শুধু 'তুমি তোমার সিদ্ধান্ত নাও' বা 'তোমার বাবার সাথে কথা বলো'—এ ধরনের কথা তাফউইয হিসেবে গণ্য হবে না।" — আশ-শারহুল মুমতি' (১৩/৪২)

শাইখ ইবন বায (রহ.)-কে অনুরূপ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণ করতে হলে স্পষ্ট শব্দ বা নিয়ত থাকতে হবে। শুধু পরামর্শমূলক কথা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া তাফউইয হিসেবে গণ্য নয়।" — মাজমু'উ ফাতাওয়া ইবন বায (২১/২৩৪)

সিদ্ধান্ত: আপনার স্বামীর কথাগুলো তাফউইযে তালাক হিসেবে গণ্য নয়, ইনশাআল্লাহ।


প্রশ্ন ২: তাফউইযে তালাকের জন্য স্বামীর নিয়ত/ইচ্ছা কি আবশ্যক?

উত্তর: হ্যাঁ, আবশ্যক। তালাকের অধিকার অর্পণ করতে হলে স্বামীর অন্তরে তালাকের অধিকার দেওয়ার নিয়ত থাকতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى» "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" — সহীহ বুখারী (১), সহীহ মুসলিম (১৯০৭)

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণ (তাফউইয) একটি চুক্তি বা শর্ত, যা নিয়ত ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় না। যদি স্বামী শুধু পরামর্শ বা আলোচনার উদ্দেশ্যে কথা বলে, তালাকের অধিকার দেওয়ার নিয়ত না থাকে, তবে তা তাফউইয হিসেবে গণ্য হবে না।" — মাজমু'উল ফাতাওয়া (৩৩/৮৬)

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণের ক্ষেত্রে নিয়ত মূল ভিত্তি। কারণ এটি একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম, যা নিয়ত ছাড়া সম্পন্ন হয় না।" — ইগাসাতুল লাহফান (১/৩৪৫)

সিদ্ধান্ত: আপনার স্বামীর যদি তালাকের অধিকার দেওয়ার নিয়ত না থাকে, তবে তাফউইয সংঘটিত হয়নি। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি শুধু আপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন—তালাকের অধিকার অর্পণের নিয়ত তার ছিল না।


প্রশ্ন ৩: শুধু "বাবার সাথে কথা বলো", "তোমার সিদ্ধান্ত নাও" ইত্যাদি কথায় কি তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়?

উত্তর: না, ইনশাআল্লাহ। তালাকের অধিকার অর্পণ করতে হলে স্পষ্ট শব্দ বা স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকতে হবে। শুধু সাধারণ পরামর্শমূলক কথা তাফউইয হিসেবে গণ্য নয়।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণ করতে হলে স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যেমন—'তোমার হাতে তালাকের অধিকার দিলাম' বা 'তুমি নিজের উপর তালাক দিতে পারবে'। শুধু 'তোমার সিদ্ধান্ত নাও' বা 'তোমার বাবার সাথে কথা বলো'—এ ধরনের কথা তাফউইয হিসেবে গণ্য হবে না।" — আল-মুলাখখাসুল ফিকহী (২/৩৪৫)

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) আরও বলেন:

"তাফউইযে তালাকের জন্য শর্ত হলো—স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার অর্পণ করবে। যদি সে শুধু বলে 'তুমি তোমার সিদ্ধান্ত নাও', তবে তা তাফউইয নয়; বরং এটি সাধারণ অনুমতি, যা তালাকের অধিকার প্রদান করে না।" — আশ-শারহুল মুমতি' (১৩/৪৩)

সিদ্ধান্ত: আপনার স্বামীর কথাগুলো স্পষ্ট তালাকের অধিকার অর্পণ নয়। তাই আপনার উপর তালাকের অধিকার অর্পিত হয়নি, ইনশাআল্লাহ।


প্রশ্ন ৪: আপনি তালাকের অধিকার গ্রহণ করেননি এবং "আমি নিজের উপর তালাক নিলাম" বলেননি

উত্তর: যেহেতু আপনার স্বামী তাফউইযে তালাক দেননি, তাই আপনি তালাকের অধিকার গ্রহণ করবেন কীভাবে? তাফউইয সংঘটিত না হলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক সংঘটিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"তাফউইযে তালাক তখনই কার্যকর হয়, যখন স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার অর্পণ করে এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে। যদি স্বামী তাফউইয না দেয়, তবে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো তালাক সংঘটিত হয় না।" — মাজমু'উল ফাতাওয়া (৩৩/৮৭)

সিদ্ধান্ত: আপনি তালাকের অধিকার গ্রহণ করেননি, এবং স্বামীও তাফউইয দেননি—তাই কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।


প্রশ্ন ৫: পরবর্তীতে পরিচিত ব্যক্তির কাছে "আমি নিজের উপর তালাক নিলাম" বলা

উত্তর: ইনশাআল্লাহ, এতে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি। কারণ:

১. তালাকের অধিকার অর্পিত হয়নি — যেহেতু স্বামী তাফউইয দেননি, তাই আপনার পক্ষ থেকে তালাক সংঘটিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

২. আপনার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না — আপনি শুধু ঘটনা বোঝানোর জন্য এ কথা বলেছিলেন। নিয়ত ছাড়া তালাক সংঘটিত হয় না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» — সহীহ বুখারী (১)

৩. তালাকের শব্দ স্পষ্ট হতে হবে — "আমি নিজের উপর তালাক নিলাম" কথাটি যদি তালাকের নিয়তে বলা না হয়, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হয় না।

শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:

"তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো—তালাকদাতার নিয়ত থাকতে হবে অথবা স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হবে। যদি কেউ শুধু ঘটনা বর্ণনা করার জন্য 'আমি তালাক দিয়েছি' বলে, কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, তবে তালাক সংঘটিত হয় না।" — মাজমু'উ ফাতাওয়া ইবন বায (২১/২৩৬)

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"যদি কেউ তালাকের কথা বলে কিন্তু তার নিয়ত তালাক দেওয়ার না থাকে, বরং সে শুধু ঘটনা বর্ণনা করছে বা অন্য কিছু বোঝাচ্ছে, তবে তার তালাক সংঘটিত হয় না।" — আশ-শারহুল মুমতি' (১৩/৪৫)

সিদ্ধান্ত: আপনার পরবর্তীতে বলা কথাটি তালাক সংঘটিত করেনি, ইনশাআল্লাহ। কারণ আপনার নিয়ত তালাক দেওয়ার ছিল না, বরং ঘটনা বোঝানোর ছিল।


অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: OCD (waswasa) রোগীর জন্য বিশেষ নির্দেশনা

আপনি যেহেতু OCD (waswasa) রোগী, তাই আপনার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

১. সন্দেহকে উপেক্ষা করুন — শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) হলো শয়তানের পক্ষ থেকে, যা মুমিনের অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মুমিনের উচিত তা উপেক্ষা করা এবং নিশ্চিত বিষয়ের উপর ভিত্তি করা।" — মাজমু'উল ফাতাওয়া (১৪/১৪৩)

২. তালাকের বিষয়ে সন্দেহ হলে তা তালাক হিসেবে গণ্য করবেন না — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا طَلَاقَ فِي إِغْلَاقٍ» "বন্ধ (মনের) অবস্থায় তালাক নেই।" — সহীহ আবু দাউদ (২১৯৩), সহীহ আল-জামি (৭৪৩৭)

ইমাম আহমাদ (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি হলো রাগের অবস্থায় তালাক, যখন মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।"

৩. আপনার স্বামীর সাথে পুনরায় আলোচনা করুন — যদি তার মনে তালাকের নিয়ত না থাকে, তবে কোনো তালাক হয়নি। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করুন: "আপনি কি আমাকে তালাকের অধিকার দিয়েছিলেন?" যদি সে বলে "না", তবে বিষয়টি স্পষ্ট।

৪. আপনার বিবাহ এখনও বহাল আছে — ইনশাআল্লাহ, আপনার বিবাহ এখনও বৈধ এবং বহাল আছে। আপনি আপনার স্বামীর সাথে স্বাভাবিকভাবে সংসার চালিয়ে য


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.