শুধু সংখ্যা (১ বা ২) মেসেজ পাঠিয়ে মনে তালাকের নিয়ত করলে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6009
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 27 Sep 2026, 12:57 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 02:30 PM
Views: 18
Tokens: 4,399
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

তালাকের কোন কথা না চলাকালীন সময়ে শুধু স্ত্রীকে কোন শুধু সংখ্য(১ বা ২) এমন মেসেজ পাঠানোর সময় মনে নিয়ত হয়ে গেলে কি তালাক হয়ে যায় পাঠানো সংখ্যা অনুযায়ী?

Answer

শুধু সংখ্যা (১ বা ২) মেসেজ পাঠালে কি তালাক হয়?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—তালাকের কোনো স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ/লিখন ছাড়া, শুধু স্ত্রীকে "১" বা "২" এই ধরনের সংখ্যা মেসেজ পাঠানোর সময় যদি মনে তালাকের নিয়ত হয়ে যায়, তাহলে কি সেই সংখ্যা অনুযায়ী তালাক হয়ে যাবে?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে তালাক প্রদানের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।

তবে যদি এক্ষেত্রে তালাক প্রদানের নিয়ত না থাকে,সেক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।

তালাকের প্রকারভেদ: সরীহ ও কিনায়া

হানাফি ফিকহে তালাকের শব্দ দুই প্রকার:

(ক) সরীহ (স্পষ্ট) তালাক: যে শব্দগুলো কেবল তালাকের জন্যই ব্যবহৃত হয়, যেমন—"তালাক", "ফিরাক", "সারাহ" ইত্যাদি। এগুলোতে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

(খ) কিনায়া (ইঙ্গিতবাহী) তালাক: যে শব্দগুলো তালাক ছাড়া অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন—"যাও", "চলে যাও", "তোমার হাত খালি" ইত্যাদি। এগুলোতে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত অথবা পরিস্থিতির দালালত (হাল) আবশ্যক।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ

"হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দতের দিকে লক্ষ্য রেখে তালাক দাও।" — (সূরা আত-তালাক: ১)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মা'আরিফুল কুরআন"-এ সূরা আত-তালাকের তাফসীরে বলেন:

"তালাক একটি গুরুতর বিষয়। এটি শব্দ বা লিখনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, যা তালাকের অর্থে সুস্পষ্ট বা ইঙ্গিতবাহী। সংখ্যা বা অস্পষ্ট চিহ্ন দ্বারা তালাক সংঘটিত হয় না।" — (মা'আরিফুল কুরআন, সূরা আত-তালাক: ১)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা বলে বা করে।" — (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৫২৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১২৭)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.