আমার বিয়ে পালিয়ে গিয়ে ৪ জন ছেলে বন্ধুকে স্বাক্ষী রেখে হজুর কে দিয়ে করা। এবং আমার বউ প্রস্তাবে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5992
Questioner: Md Hanifa Hossein Sheikh
Question Asked: 26 Sep 2026, 10:49 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 01:29 AM
Views: 16
Tokens: 3,742
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বিয়ে পালিয়ে গিয়ে ৪ জন ছেলে বন্ধুকে স্বাক্ষী রেখে হজুর কে দিয়ে করা।
এবং আমার বউ প্রস্তাবের জবাবে আলহামদুলিল্লাহ রাজি বলছিল কবুল কথাটা উচ্চারণ করে নি তাইলে কি আমার বিয়ে হয়েছে

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম


সংক্ষিপ্ত শরয়ী ফায়সালা:

হ্যাঁ, আপনার বিবাহ শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণভাবে সম্পাদিত ও বিশুদ্ধ (সহীহ) হয়েছে। আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বৈধভাবে সংসার করতে পারবেন।


বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ:

১. "আলহামদুলিল্লাহ রাজি" বলায় ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া সংক্রান্ত ফায়সালা:

  • শরয়ী মূলনীতি: ইসলামি শরীআতে বিবাহের মূল ভিত্তি হলো 'ইজাব ও কবুল' (প্রস্তাব ও সম্মতি)। সম্মতি প্রকাশের জন্য কেবল "কবুল করলাম" শব্দটিই সুনির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবের জবাবে এমন যেকোনো শব্দ বলা—যাতে স্পষ্ট ও সানন্দ সম্মতি প্রকাশ পায় (যেমন: "আলহামদুলিল্লাহ রাজি", "আমি রাজি হলাম", "স্বীকৃতি দিলাম")—তা দ্বারা শরীয়তের দৃষ্টিতে কবুল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যায়।
  • ফতোয়ার দলিল:
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫–২৬: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ২য় পরিচ্ছেদ: যে সকল শব্দ ও বাক্য দ্বারা বিবাহ শুদ্ধ হয় — "যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বলে, তুমি তোমাকে আমার বিবাহে সোপর্দ করে দাও, আর সে বলে, রাজি হলাম, তবে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।")।
    • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৭–১১৮: (অধ্যায়: প্রযুক্তির সাহায্যে বিবাহ ও ইজাব-কবুলের শর্তসমূহ — শাব্দিক প্রস্তাবে পাত্র বা পাত্রীর স্পষ্ট সম্মতি প্রকাশ পাওয়া)।

২. ৪ জন বন্ধুকে সাক্ষী রেখে পালিয়ে বিয়ে করার শরয়ী ফায়সালা:

  • সাক্ষীর উপস্থিতি: ইসলামে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অন্তত ২ জন বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) মুসলিম পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত থাকা। আপনারা ৪ জন বালেগ ছেলে বন্ধুকে সাক্ষী রেখেছেন, ফলে সাক্ষীর শরয়ী শর্ত শতভাগ পূরণ হয়েছে।
  • বালেগ ছেলে-মেয়ের পালিয়ে বিবাহ: ফিকহে হানাফীর (ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ.) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) ও আকিল (সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন) নারী ও পুরুষ যদি অভিভাবকের উপস্থিতি ছাড়াও দুই বা ততোধিক বালেগ মুসলিম সাক্ষীর সামনে আকদে নিকাহ (ইজাব-কবুল) সম্পন্ন করে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের নিকাহ বা বিবাহ সম্পূর্ণ শুদ্ধ ও কার্যকর হয়ে যায়।
  • অভিভাবকের অধিকার: তবে মা-বাবা বা অভিভাবককে না জানিয়ে পালিয়ে যাওয়া নৈতিক ও সামাজিকভাবে অনুচিত কাজ হলেও, এর কারণে বিবাহ বাতিল হয় না; বরং বিবাহ শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ বহাল ও হালাল থাকে।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২০–২১: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ১ম পরিচ্ছেদ: সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা ও শর্তাবলী)।
  • পৃষ্ঠা: ২৫–২৬: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ২য় পরিচ্ছেদ: ইজাব-কবুল ও সম্মতিজ্ঞাপক শব্দাবলীর বিবরণ)।
  • পৃষ্ঠা: ৭২–৭৩: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ৫ম পরিচ্ছেদ: বালেগ নর-নারীর অভিভাবক ছাড়া বিবাহের হুকুম)।

২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১১৭–১১৮: (অধ্যায়: ইজাব-কবুলের বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলী)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.