ফিসফিস করে তালাক দিলাম বললে তালাক হবে কি

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5491
Questioner: Amina Siddika
Question Asked: 15 Sep 2026, 03:48 AM
Reviewed & Published: 15 Sep 2026, 06:10 AM
Views: 5
Tokens: 3,372
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম স্বামী যদি ফিসফিস করে কোন কথা বলে আর স্ত্রী যদি জিজ্ঞাসা করে আপনি তালাক দিলাম বলেছেন তখন স্বামী যদি ঐ ঐডা কইছি এমন কিছু বলে তাহলে কি তালাক হবে আসলে কিন্তু ফিসফিস করে তালাক দিলাম বলেনি??

Answer

প্রশ্ন: ফিসফিস করে বলা কথা অস্বীকার করলে কি তালাক পতিত হবে?

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু স্ত্রীর জিজ্ঞাসার ভিত্তিতে তালাক পতিত হবে না। তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা শর্ত। যদি স্বামী ফিসফিস করে তালাকের শব্দ না বলে থাকে এবং পরে তা অস্বীকার করে, তবে স্ত্রীর সন্দেহ বা জিজ্ঞাসার কারণে তালাক সংঘটিত হবে না

তবে বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।


বিস্তারিত আলোচনা

১. তালাক সংঘটিত হওয়ার শর্ত

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য দুটি মূল শর্ত:

  1. স্বামীর পক্ষ থেকে তালাকের শব্দ (সরীহ বা কিনায়া) উচ্চারণ করা।
  2. উচ্চারণটি সচেতনভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে, তখন তাদেরকে তালাক দেবে তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে।" — (সূরা আত-তালাক: ১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, ভুল ও বিস্মৃতিজনিত কাজসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" — (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সহীহ)

২. ফিসফিস করে বলা ও অস্বীকারের বিধান

যদি স্বামী ফিসফিস করে কিছু বলে, কিন্তু তালাকের শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ না করে, এবং পরে জিজ্ঞাসার মুখে বলে যে "আমি তালাক দিইনি" বা "তালাকের কথা বলিনি" — তাহলে:

  • স্ত্রীর সন্দেহ বা জিজ্ঞাসা তালাকের প্রমাণ নয়।
  • তালাক পতিত হবে না, কারণ তালাকের শব্দ প্রমাণিত হয়নি।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য শব্দের উচ্চারণ শর্ত। শুধু সন্দেহ বা অনুমানের দ্বারা তালাক পতিত হয় না।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩০)

৩. যদি স্বামী সত্যিই তালাক দিয়ে থাকে কিন্তু অস্বীকার করে

যদি স্বামী প্রকৃতপক্ষে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে থাকে (ফিসফিস করে হলেও), কিন্তু পরে অস্বীকার করে — তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক পতিত হয়ে যাবে, যদিও সে অস্বীকার করছে। কারণ তালাক একটি ইবাদত-বিহীন বিধান, যা শুধু শব্দ উচ্চারণেই সংঘটিত হয়, সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।

তবে প্রমাণের দিক থেকে স্ত্রী যদি দাবি করে আর স্বামী অস্বীকার করে, তাহলে শরীয়তের আদালতে প্রমাণের ভার স্ত্রীর উপর বর্তাবে।

৪. ফিসফিস করে বলা যদি অস্পষ্ট হয়

যদি ফিসফিস করে বলা কথাটি তালাকের সরীহ শব্দ (যেমন: "তালাক", "তালাক দিলাম") না হয়, বরং কিনায়া শব্দ (যেমন: "যাও", "তোমাকে ছেড়ে দিলাম") হয় — তাহলে:

  • কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত প্রয়োজন।
  • যদি স্বামী বলে যে "আমি তালাকের নিয়ত করিনি", তাহলে তালাক পতিত হবে না।

ইমাম সারাখসী (রহ.) বলেন:

"কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।" — (আল-মাবসূত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৭২)


ব্যবহারিক নির্দেশনা

| অবস্থা | বিধান | |--------|--------| | স্বামী ফিসফিস করে তালাকের শব্দ বলেনি, অস্বীকার করেছে | তালাক হয়নি | | স্বামী ফিসফিস করে তালাকের শব্দ বলেছে, কিন্তু অস্বীকার করছে | তালাক হয়ে গেছে (গোপনীয়ভাবে), তবে প্রমাণের সমস্যা | | স্বামী কিনায়া শব্দ বলেছে, নিয়ত ছিল না | তালাক হয়নি | | স্বামী সরীহ শব্দ বলেছে, নিয়ত ছিল | তালাক হয়ে গেছে |


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  1. সন্দেহের বশে তালাক পতিত হয় না। শয়তান দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন:

    "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, সুতরাং তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।" — (সূরা ফাতির: ৬)

  2. যদি সত্যিই সন্দেহ থাকে, তবে উভয়ে মিলে কোনো বিশ্বস্ত মুফতি বা আলেমের কাছে সরাসরি গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন। এখানে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়।

  3. স্ত্রী যদি মিথ্যা সন্দেহ করে স্বামীকে তালাকের কথা চাপ দেয়, এটি হারাম। রাসূল ﷺ বলেন:

    "যে ব্যক্তি এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, সে দুই জিহ্বার মধ্যে বাস করবে।" — (সহীহ বুখারী)

  4. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত পরস্পরের প্রতি সদাচরণ করা। আল্লাহ বলেন:

    "তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" — (সূরা নিসা: ১৯)


সারসংক্ষেপ

  • ফিসফিস করে তালাকের শব্দ না বললে এবং অস্বীকার করলে তালাক হয় না।
  • স্ত্রীর জিজ্ঞাসা বা সন্দেহ তালাকের কারণ নয়।
  • তালাক পতিত হয় শুধু স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.