গর্ভবতী মহিলার কোমরে পাট পড়া বা তাবিজ বেঁধে দেওয়ার শরীয়ত বিধান কী?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 5472
Questioner: Md munsur Ali
Question Asked: 14 Sep 2026, 02:47 PM
Reviewed & Published: 14 Sep 2026, 03:58 PM
Views: 12
Tokens: 6,136
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ‌আমাদের এলাকায় গর্ব অবস্থায় পেটে ব্যথা হলে হুজুরের থেকে বা অন্য কোন মুরুব্বির কাছ থেকে পাট পড়া এনে গর্ভবতী মহিলাদের কোমরে বেঁধে দেওয়া হয় যতদিন না পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব হয় । বিশ্বাস করা হয় যে এটা দিলে বাচ্চা নিরাপদ থাকবে পেট ব্যথা হবে না । উনারা বলেন যে এটা কুরআনের আয়াত পড়ে পাটে ফুঁ দিয়ে দেওয়া হয় । এটা করা কি শরীয়ত সম্মত? এটা কি শিরকের পর্যায়ে যাবে ?এই সম্পর্কে বিস্তারিত দলিল সহ জানতে চাই ।আমার পরিবারে একজন প্রেগন্যান্ট মহিলা আছে উনার জন্য পাট পড়া দিতে বলতেছে । আর প্রেগন্যান্ট অবস্থায় সাথে ম্যাচ লোহা এগুলো রাখা যাবে কি নিরাপত্তার জন্য?
জাযাকুমুল্লাহূ খাইরান

Answer

গর্ভবতী মহিলার কোমরে তাবিজ-কবজ (পাট পড়া) বেঁধে দেওয়ার বিধান

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে — অর্থাৎ কুরআনের আয়াত পড়ে কাগজ/পাটে ফুঁ দিয়ে গর্ভবতী মহিলার কোমরে বেঁধে দেওয়া হলে আকীদা বিশুদ্ধ রেখে তাহা ব্যবহার করা যাবে।

*রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী রহ.)**-এ উল্লেখ আছে:

"কুরআন, আল্লাহর নাম ও দুআ দ্বারা তাবিজ লিখে ঝুলানো জায়েজ; তবে শর্ত হলো তাতে শিরকী কিছু না থাকা এবং তাবিজকে স্বতন্ত্র প্রভাবশালী মনে না করা।"
(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, কিতাবুল হাজার ওয়াল ইবাহা)

★প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ম্যাচ, লোহা রাখা

প্রেগন্যান্ট মহিলার সাথে ম্যাচ, লোহা, চাবি ইত্যাদি রাখা — নিরাপত্তার জন্য বা কু-নজর থেকে বাঁচার জন্য — এতে কোনো দলিল নেই। তবে:

  • যদি শুধু নিরাপত্তার সরঞ্জাম হিসেবে রাখা হয় (যেমন আগুন জ্বালানোর জন্য ম্যাচ, বা কোনো কাজে লোহা) — জায়েজ

★যদি কু-নজর বা জিন থেকে বাঁচার জন্য এই বিশ্বাসে রাখা হয় যে এগুলো নিজে থেকে রক্ষা করবে — তাহলে এটি কুসংস্কার ও শিরকের দিকে নিয়ে যায়, যা পরিহার্য।

  • কু-নজর থেকে বাঁচার সুন্নত পদ্ধতি হলো: আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া, সকাল-সন্ধ্যা রাসূল ﷺ-এর শেখানো দুআ পড়া, এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন রা.-কে এই দুআ পড়ে ফুঁ দিতেন:
"أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ"
"আমি তোমাদের আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী ও কু-নজর থেকে আশ্রয় দিচ্ছি।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৭১)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.