পাত্রী দেখার বিধান

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5403
Questioner: Sumaiya Rahman Nun
Question Asked: 13 Sep 2026, 02:36 PM
Reviewed & Published: 13 Sep 2026, 03:04 PM
Views: 28
Tokens: 4,122
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র যদি দেশের বাহিরে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে পাত্রী দেখার বিধান কি? কিভাবে পাত্রী দেখবে? ছবির দেওয়ার মাধ্যমে নাকি বড়দের উপস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমে

Answer

বিবাহের ক্ষেত্রে প্রবাসী পাত্রের জন্য পাত্রী দেখার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহপূর্ব পাত্র-পাত্রী দেখা ইসলামে অনুমোদিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো—পাত্র যদি প্রবাসে থাকে, তাহলে ছবি বা ভিডিও কলের মাধ্যমে পাত্রী দেখা শরীয়তসম্মত হবে কি? নিচে কুরআন, হাদীস ও হানাফী ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


১. মূল নীতি: বিবাহের পূর্বে পাত্রী দেখা সুন্নত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ»

"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীর কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি সে তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মতো কিছু দেখতে সক্ষম হয়, তবে সে যেন তা দেখে নেয়।"

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২০৮২; মুসনাদে আহমাদ; মুসতাদরাকে হাকিম — ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন।

আরেক হাদীসে—

«انْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا»

"তাকে দেখে নাও, কারণ এতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে প্রীতি-সম্প্রীতি স্থায়ী হবে।"

সুনানে তিরমিযী, হাদীস ১০৮৭; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৩২৩৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৮৬৬ — ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন।

ফিকহী সিদ্ধান্ত: বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার পর পাত্র পাত্রীর চেহারা ও হাত-পায়ের করতল (যা সাধারণত দেখা যায়) একবার দেখা জায়েয। এটাই ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব।

রেফারেন্স: আল-হিদায়া (কিতাবুন নিকাহ); রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৯, পৃ. ৫১৬-৫১৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৩।


২. প্রবাসী পাত্রের ক্ষেত্রে ছবি দেখার বিধান

(ক) সাধারণ ছবি (স্থির ছবি) প্রেরণ

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী—

  • প্রয়োজনবশত (বিবাহের প্রস্তাবের উদ্দেশ্যে) পাত্রীর ছবি পাঠানো ও দেখা — অনেক হানাফী মুফতি এটিকে শর্তসহ জায়েয বলেছেন, তবে সতর্কতামূলক পথ হলো বড়দের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা
  • শর্তগুলো:
    1. ছবি অবশ্যই পূর্ণ পর্দাসহ হতে হবে (মাথা, চুল, শরীরের অন্যান্য অংশ ঢাকা)।
    2. ছবি শুধু পাত্র ও তার পরিবারের নির্ভরযোগ্য সদস্যরা দেখবে; অন্য কারো কাছে ছড়াবে না।
    3. ছবি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখা যাবে না — দেখা শেষে মুছে ফেলতে হবে।
    4. পাত্র নিজে একাকী ছবি দেখবে না; বরং তার মা/বোন/পরিবারের বড়দের উপস্থিতিতে দেখবে।
    5. ছবি দেখার উদ্দেশ্য শুধু বিবাহের সিদ্ধান্ত — অন্য কোনো উদ্দেশ্য নয়।

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ৩২১-৩২৩ (মুফতি তাকী উসমানী); ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ২৫০-২৫২ (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী); আহকামে নিকাহ — মুফতি মুহাম্মদ শফী।

(খ) ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখা

ভিডিও কলে পাত্রী দেখা সম্পর্কে হানাফী ফিকহের সিদ্ধান্ত—

  • শর্তসহ জায়েয — যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূর্ণ হয়:
    1. পাত্রীর মাহরাম (বাবা, ভাই, চাচা ইত্যাদি) উপস্থিত থাকবে — পাত্রী ও পাত্র কখনো একাকী ভিডিও কলে কথা বলবে না।
    2. পাত্রের মাহরাম (মা, বোন, বাবা) উপস্থিত থাকবে
    3. পাত্রী পূর্ণ পর্দাসহ থাকবে — চুল, গলা, বুক ঢাকা থাকবে; শুধু চেহারা ও হাতের করতল দেখা যাবে।
    4. কথাবার্তা শরীয়তের সীমার মধ্যে — ফ্লার্টিং, হাসি-ঠাট্টা, কোমল কণ্ঠে কথা বলা নিষিদ্ধ।
    5. ভিডিও রেকর্ড করা যাবে না — কোনোভাবেই সংরক্ষণ করা নিষিদ্ধ।
    6. নিকাহর সিদ্ধান্তের পরই এ ধরনের দেখা-সাক্ষাৎ; শুধু সময় কাটানোর জন্য নয়।
    7. একাধিকবার নয় — প্রয়োজনে একবার বা সর্বোচ্চ দুইবার।

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ৩২৩-৩২৫; ফাতাওয়া রহীমিয়া, খণ্ড ৮, পৃ. ১৪৭-১৪৯; কিফায়াতুল মুফতি, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৮৯।


৩. কোনটি উত্তম?

হানাফী ফিকহের আলোকে উত্তম ও নিরাপদ পথ হলো—

| পদ্ধতি | বিধান | মন্তব্য | |---|---|---| | বড়দের উপস্থিতিতে সরাসরি দেখা | সর্বোত্তম | সম্ভব না হলে | | বড়দের উপস্থিতিতে ভিডিও কল | জায়েয (শর্তসহ) | ছবির চেয়ে উত্তম, কারণ সরাসরি দেখা যায় | | শুধু ছবি পাঠানো | জায়েয (শর্তসহ) | সবচেয়ে কম উত্তম; ছবি ধোঁকা দিতে পারে | | একাকী ভিডিও কল/চ্যাট | নাজায়েয | খালওয়াত (নির্জনতা) হারাম | | রেকর্ডকৃত ভিডিও পাঠানো | নাজায়েয | ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা; পূর্ণ পর্দার শর্ত রক্ষা হয় না |

মূল কথা: প্রবাসী পাত্রের জন্য বড়দের উপস্থিতিতে ভিডিও কল হলো ছবির চেয়ে উত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো—পাত্রের পরিবারের কোনো নির্ভরযোগ্য মাহরাম সদস্য (যেমন মা বা বোন) পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি দেখে আসবে, অথবা পাত্রীকে পাত্রের পরিবারের কাছে নিয়ে আসা হবে।


৪. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  1. খালওয়াত (নির্জনতা) সম্পূর্ণ হারাম — পাত্র-পাত্রী একাকী ভিডিও কলে কথা বলা, চ্যাট করা, ফোনে কথা বলা নাজায়েয। রাসূল ﷺ বলেছেন—

    «لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ» "কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না,除非 তার মাহরাম উপস্থিত থাকে।" — সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪১

  2. ছবি বা ভিডিও যেন কোনোভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে — এটা পাত্রীর সম্মান ও পরিবারের ইজ্জতের বিষয়।

  3. নিকাহর আগে প্রেম-ভালোবাসা, ফোনে দীর্ঘ আলাপ, একাকী সাক্ষাৎ — সবই হারাম। শুধু বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাৎই অনুমোদিত।

  4. সন্দেহ হলে বড়দের পরামর্শ নিন — স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতি বা আলেমের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন।


৫. সারসংক্ষেপ

  • বিবাহের প্রস্তাবের পর পাত্রী দেখা সুন্নত
  • প্রবাসী পাত্রের জন্য বড়দের উপস্থিতিতে ভিডিও কল — শর্তসহ জায়েয
  • ছবি পাঠানো — শর্তসহ জায়েয, তবে ভিডিও কলের চেয়ে কম উত্তম।
  • একাকী ভিডিও কল, চ্যাট, রেকর্ডকৃত ভিডিওনাজায়েয
  • সর্বোত্তম পথ — পরিবারের মাহরাম সদস্যের মাধ্যমে সরাসরি দেখা বা বড়দের উপস্থিতিতে ভিডিও কল।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.