বিয়ের প্রতি অনিহা কি সুন্নাতকে অপছন্দ করার শামিল?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5252
Questioner: MHMA
Question Asked: 10 Sep 2026, 08:29 PM
Reviewed & Published: 10 Sep 2026, 08:34 PM
Views: 27
Tokens: 5,331
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন student manush. আমার আশে পাশে অনেক মানুসের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখে,অনেকের স্বামী খারাপ দেখে আমার বিশে করার প্রতি অনিহা কাজ করে মাঝে মাঝে।আমার এক পরিচিত আত্মীয়ের স্বামী পরকীয়া করে,বউকে মারধর করে দেকে আমি সব ছেলেকেই খারাপ মনে করতে থাকি।এখন এমন হয়েছে যে,বিয়ে করতে হবে ভাবলেই ভয় লাগে,পরিবারে কেউ দাম্পত্য জীবন,বিশে নিয়ে গল্প করলেও আমার ভাল লাগে না কেন যানি।তবে আমি মনে মনে চাই, আমার একজন স্বামী থাকুক।এখন আমার ভয় লাগে যে,এভাবে বিয়ে করতে অনিহা লাগা,বিয়ে করতে ইচ্ছা না করা,ভাল না লাগা কি সুন্নাত কে অপছন্দ করার শামিল হচ্ছে? but,আমি তো সব সুন্নাত কেই ভালবাসি,বিয়ে কেও পছন্দ করি।কিন্তু জীবনসঙ্গী কেমন হবে তা নিয়ে ভয় কাজ করে?Amar ei biye niye oniha ki sunnat ke obogga korar moto hosse?

Answer

বিয়ের প্রতি অনিহা ও সুন্নাতকে অপছন্দ করার প্রশ্ন — একটি ফিকহি বিশ্লেষণ

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী একজন ছাত্রী। আশপাশে দাম্পত্য জীবনের অশান্তি, স্বামীর পরকীয়া, স্ত্রীকে মারধর ইত্যাদি দেখে তার মনে বিয়ের প্রতি এক ধরনের ভয় ও অনিহা (অনিচ্ছা) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে মনে স্বামী চান, বিয়েকেও পছন্দ করেন, সুন্নাতকেও ভালোবাসেন — কিন্তু "জীবনসঙ্গী কেমন হবে" এই অনিশ্চয়তা ও ভয় তাকে পীড়া দিচ্ছে। তিনি জানতে চান: এই অনিহা কি সুন্নাতকে অপছন্দ করার শামিল?


১. বিয়ে সুন্নাত — এর ফজিলত ও মর্যাদা

বিয়ে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সুন্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও..." (সূরা আন-নূর: ৩২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে ফেলে; কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।" (সহীহ বুখারী: ৫০৬৫, সহীহ মুসলিম: ১৪০০)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন:

"বিয়ে আমার সুন্নাত। যে আমার সুন্নাতকে ভালোবাসল না, সে আমার দলভুক্ত নয়।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)

হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে: বিয়ে করা সুন্নাত মুআক্কাদাহ — যার সামর্থ্য আছে এবং যার দ্বারা যিনার আশঙ্কা আছে তার জন্য ওয়াজিবের কাছাকাছি। (রাদ্দুল মুহতার: ৩/৫, আল-হিদায়া: ১/১৯১)


২. প্রশ্নকারীর অনুভূতির প্রকৃত বিশ্লেষণ

প্রশ্নকারীর অনুভূতি দুটি স্তরে বিভক্ত:

(ক) বিয়ে বা সুন্নাতের প্রতি অনিহা — এটা নেই

তিনি স্পষ্ট বলেছেন: "আমি তো সব সুন্নাতকেই ভালোবাসি, বিয়েকেও পছন্দ করি।" তিনি মনে মনে স্বামীও চান। অর্থাৎ বিয়ে বা সুন্নাতের প্রতি তার কোনো অবজ্ঞা বা অপছন্দ নেই।

(খ) ভয় ও উদ্বেগ — এটা আছে

তার ভয় হলো: "জীবনসঙ্গী কেমন হবে?" — এই অনিশ্চয়তা, আশপাশের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি দেখে তার মনে ট্রমা ও ভয় সৃষ্টি হয়েছে।

এটি সুন্নাতকে অপছন্দ করা নয়; বরং এটি একটি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব। ফিকহি দৃষ্টিতে এটি "সুন্নাতের অবজ্ঞা" (ইস্তিখফাফ) নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক ভয় (খাওফ) ও সতর্কতা।


৩. ফিকহি রuling: এই অনিহা কি সুন্নাতকে অপছন্দ করার শামিল?

উত্তর: না, এটি সুন্নাতকে অপছন্দ করার শামিল নয়।

কারণ:

  1. নিয়ত ও বিশ্বাস: তিনি বিয়েকে সুন্নাত হিসেবে বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন এবং চান। শুধু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও ভয় তাকে কাবু করছে।

  2. ভয় ≠ অবজ্ঞা: ইসলামে কোনো ইবাদত বা সুন্নাতকে ভয় পাওয়া বা তার কঠিন দিক নিয়ে চিন্তা করা "অপছন্দ" নয়। বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতেন।

  3. হানাফি উসুল: ইস্তিখফাফ (অবজ্ঞা) তখন হয় যখন কেউ সুন্নাতকে হালকা মনে করে, তার মর্যাদা অস্বীকার করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে তুচ্ছ করে। প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে তা নেই।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতারে বলেন:

"সুন্নাতের অবজ্ঞা তখনই হবে যখন কেউ তা হালকা মনে করবে বা তার ফজিলত অস্বীকার করবে।" (রাদ্দুল মুহতার: ১/১২৩)


৪. তবে সতর্কতা ও করণীয়

যদিও এটি সুন্নাতের অবজ্ঞা নয়, তবুও এই ভয় ও অনিহা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিয়ে না করার কারণ হতে পারে, যা ইসলামে নিন্দনীয়। তাই করণীয়:

(ক) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বাড়ানো

"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)

(খ) ভালো জীবনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্কতা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"নারীকে চারটি গুণ দেখে বিয়ে করা হয়: সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদারকে অগ্রাধিকার দাও।" (সহীহ বুখারী: ৫০৯০)

অর্থাৎ ভয়ের সমাধান হলো — সঠিক দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা, সবাইকে খারাপ মনে করা নয়।

(গ) অভিভাবকের সাথে পরামর্শ

বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিবারের সাথে পরামর্শ করুন, ইস্তিখারা করুন, এবং আল্লাহর কাছে দুআ করুন।

(ঘ) মানসিক চাপ কাটাতে

আশপাশের নেতিবাচক ঘটনা সব বিয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। অনেক সফল ও সুখী দাম্পত্য জীবনও আছে। শুধু নেতিবাচক দিক দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।


৫. বিশেষ নোট: "সব ছেলেকে খারাপ মনে করা"

প্রশ্নকারী বলেছেন: "আমি সব ছেলেকেই খারাপ মনে করতে থাকি।" — এটি একটি মানসিক প্রবণতা, যা ইসলামে সমর্থিত নয়। কারণ:

  • সন্দেহ (সু-ধারণা) করা: আল্লাহ বলেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই কিছু ধারণা গুনাহ।" (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)
  • সবাইকে খারাপ মনে করা — এটি জুলুম ও অন্যায় ধারণা। প্রত্যেককে তার ব্যক্তিগত কর্মের জন্য বিচার করা উচিত, সামগ্রিকভাবে নয়।

৬. উপসংহার

| বিষয় | ফিকহি রuling | |------|-------------| | বিয়ের প্রতি অনিহা (ভয়বশত) | সুন্নাতের অবজ্ঞা নয় | | বিয়েকে সুন্নাত মনে করা | ঈমানের অংশ | | জীবনসঙ্গী নিয়ে ভয় | স্বাভাবিক, তবে কাটানো কর্তব্য | | সব ছেলেকে খারাপ মনে করা | নাজায়েজ প্রবণতা, পরিহার্য | | বিয়ে না করার দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত | ইসলামে নিন্দনীয় (যদি সামর্থ্য থাকে) |

সারকথা: আপনার এই অনিহা সুন্নাতকে অপছন্দ করার শামিল নয়। এটি একটি মানসিক ভয়, যা কাটিয়ে উঠতে হবে। বিয়েকে ভালোবাসুন, দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খুঁজুন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং দুআ করুন। আল্লাহ আপনার জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন। আমিন।


📚 রেফারেন্স

  1. আল-কুরআন: সূরা আন-নূর (৩২), সূরা আত-তালাক (২), সূরা আল-হুজুরাত (১২)
  2. সহীহ বুখারী: হাদিস ৫০৬৫, ৫০৯০
  3. সহীহ মুসলিম: হাদিস ১৪০০
  4. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস ১৮৪৬
  5. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ৩/৫, ১/১২৩
  6. আল-হিদায়া: ১/১৯১
  7. ফাতাওয়া উসমানি: বিয়ে অধ্যায়
  8. ইমদাদুল ফাতাওয়া: বিয়ে ও দাম্পত্য অধ্যায়
  9. বেহেশতী জেওর: বিয়ে অধ্যায়
  10. মাআরিফুল কুরআন: সূরা আন-নূরের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা আপনার মনে প্রশান্তি দান করুন এবং উত্তম জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.