- ইউরিন ইনফেকশন হলে পবিত্রতা অর্জন কিভাবে করতে হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার ইউরিন ইনফেকশন হয়েছে।নিম্ন অঙ্গের চারপাশে স্রাব এসে জমে থাকে হয়।কাপড় দ্বারা ক্লিন করলে পুরো পুরি ক্লিন হয় না। আমি দীর্ঘ সময় তাই নখের সাহায্য নিয়ে ক্লিন করে সালাত আদায় করেছি যেটা কষ্টকর, দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ এবংপরবর্তীতে ড. শুনে নিষেধ করেছেন। চিকিৎসারত অবস্থায় আছি স্রাব এখনো আসছে। শুধু পানি দ্বারা পরিষ্কার হয়ে সালাত আদায় করতে পারব? এতে যদি ময়লা থাকে তাহলে করণীয় কী?
এছাড়া মলম বা ক্রিম দিতে হয় কোনটা স্রাব কোনটা ক্রিম বোঝাটা কঠিন।
দয়া করে করণীয় টা বলে উপকৃত করুন।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ইউরিন ইনফেকশনের কারণে স্রাব ও ময়লা জমে থাকা একটি জটিল অবস্থা। ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে অসুস্থ অবস্থায় কিছু সহজ নিয়ম রয়েছে। নিচে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:
১. পানি দিয়ে পরিষ্কার করে সালাত আদায় করা যাবে কি?
হ্যাঁ, পানি দিয়ে পরিষ্কার করে সালাত আদায় করা যাবে, তবে শর্ত হলো—
- স্রাব বা ময়লা সম্পূর্ণরূপে দূর করতে হবে।
- যদি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পরও কিছু ময়লা থেকে যায় (যেমন: দাগ বা গন্ধ), তবে তা মাফ হবে, যদি তা দিরহাম পরিমাণ (প্রায় ৩.৮ সেমি বা তার কম) হয়।
- কিন্তু যদি ময়লা দিরহামের বেশি হয়, তাহলে তা ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।
হাদিস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যদি তোমাদের কারো কাপড়ে ময়লা লাগে, তবে সে যেন তা ধুয়ে ফেলে এবং তারপর সালাত আদায় করে।"
(সহিহ বুখারী, হাদিস: ২৬১)
২. ময়লা থাকলে করণীয় কী?
- প্রথমে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
- যদি ধোয়ার পরও কিছু দাগ থেকে যায় (যেমন: হলুদ বা বাদামি দাগ), তবে তা মাফ হবে, যদি তা দিরহাম পরিমাণের কম হয়।
- দিরহামের বেশি হলে অবশ্যই ধুয়ে ফেলতে হবে।
ফতোয়া:
হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে:
"যদি নাপাকি (ময়লা) দিরহাম পরিমাণের কম হয়, তবে তা মাফ; আর যদি বেশি হয়, তবে ধুয়ে ফেলা ফরজ।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০)
৩. মলম বা ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে করণীয়:
- মলম বা ক্রিম লাগানোর পর যদি তা শুকিয়ে যায় এবং স্রাবের সাথে মিশে না যায়, তবে তা পাক হিসেবে গণ্য হবে।
- কিন্তু যদি মলম বা ক্রিম স্রাবের সাথে মিশে যায় এবং তা শরীর থেকে বের হয়, তবে তা নাপাক হিসেবে গণ্য হবে।
- সমাধান:
- মলম বা ক্রিম লাগানোর পর কাপড় বা টিস্যু দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলুন।
- এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- যদি মলম বা ক্রিমের কারণে স্রাব বোঝা কঠিন হয়, তবে প্রতিটি সালাতের আগে নতুন করে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন এবং ওজু করুন।
৪. অসুস্থ অবস্থায় বিশেষ নিয়ম:
যেহেতু আপনি চিকিৎসারত এবং স্রাব বন্ধ হচ্ছে না, তাই আপনার জন্য মাজুর (অপারগ) এর নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
- মাজুর ব্যক্তির জন্য প্রতিটি সালাতের সময় নতুন করে ওজু করা জরুরি।
- সালাতের সময় শুরু হলে ওজু করে সালাত আদায় করবেন।
- সালাতের মধ্যে স্রাব বের হলেও সালাত ভঙ্গ হবে না, যদি তা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে হয়।
ফতোয়া:
ফতোয়া আলমগীরি-তে বলা হয়েছে:
"যে ব্যক্তির নাক দিয়ে রক্ত, ক্ষত থেকে পুঁজ বা প্রস্রাবের ফোঁটা ইত্যাদি বের হতে থাকে এবং তা বন্ধ না হয়, সে মাজুর। তার জন্য প্রতিটি ফরজ সালাতের সময় নতুন করে ওজু করা জরুরি।"
(ফতোয়া আলমগীরি, ১/৪২)
৫. নক দিয়ে পরিস্কার করা:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যান।
- নক ব্যবহার না করে সহজ উপায়ে পবিত্রতা অর্জন করুন।
- কষ্টকর পদ্ধতি (যেমন: নখ দিয়ে ঘষা) পরিহার করুন, কারণ ইসলামে সহজতা রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত করণীয়:
১. প্রতিটি সালাতের সময় শুরু হলে পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
২. ওজু করুন এবং সালাত আদায় করুন।
৩. সালাতের মধ্যে স্রাব বের হলেও সালাত ভঙ্গ হবে না, যদি তা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে হয়।
৪. মলম বা ক্রিম লাগানোর পর কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন এবং পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
৫. দিরহাম পরিমাণের কম ময়লা থাকলে তা মাফ।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে শীঘ্রই সুস্থতা দান করুন এবং আপনার ইবাদত সহজ করে দিন।
(আমিন)