স্ত্রী এক তালাক দিলে স্বামীর কত তালাক থাকে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5248
Questioner: Khadiza
Question Asked: 10 Sep 2026, 07:57 PM
Reviewed & Published: 10 Sep 2026, 09:01 PM
Views: 11
Tokens: 6,259
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রথমবার বিবাহ করার পর কোনো একদিন স্বামী তার স্ত্রীকে তালাকের স্বাধীনতা দিলো। স্বাধীনতা দেওয়ার পর স্ত্রী একবার তালাক দিয়ে দিলো । এরপর ইদ্দত পালনের পর যদি পুনরায় উক্ত স্বামীর সাথে বিবাহ হয়; তখন‌ও কি তালাকের অধিকার স্ত্রীর হাতে থাকবে? যদি থাকে তবে কয়টি তালাকের অধিকার থাকবে?
যেহেতু উভয়ের মাঝে একবার তালাক সংগঠিত হয়েছে; সুতরাং দ্বিতীয়বার বিবাহের পর এখন আর কয়টি তালাক দেওয়ার সুযোগ থাকবে? যদিও প্রথম তালাকটি স্বামী দেয়নি, স্ত্রী দিয়েছিল। এক্ষেত্রে কি স্বামীর পূর্ণ তিনটি তালাকের অধিকার বহাল থাকবে?

Answer

স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান (তাফবীজ) ও পুনর্বিবাহের পর তালাকের অধিকার

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রথম বিবাহের পর স্বামী স্ত্রীকে তালাকের স্বাধীনতা (তাফবীজ) দেন। স্ত্রী এক তালাক দেন। ইদ্দত শেষে পুনরায় সেই স্বামীর সাথেই বিবাহ হয়। এখন প্রশ্ন হলো—পুনর্বিবাহের পর স্ত্রীর হাতে কি তালাকের অধিকার থাকবে? থাকলে কতটি? আর স্বামীর হাতে কতটি তালাকের অধিকার থাকবে?


উত্তর

প্রথমে একটি বিষয় স্পষ্ট করছি, তা হল এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি নিজের নফসের উপর তালাক প্রদান করে, তবেই তালাক পতিত হবে।

আর যদি সে স্বামীকে তালাক দেয় তাহলে কোনক্রমেই তালাক পতিত হবে না।

স্ত্রী যদি নিজের নফসের উপর তালাক প্রদান করে, সেক্ষেত্রে যেহেতু এক তালাক পতিত হয়েছে। এমতাবস্থায় পুনর্বিবাহের পর স্ত্রীর হাতে তালাকের অধিকার আর থাকবে না — কারণ তাফবীজের অধিকার প্রথম বিবাহের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, যা এক তালাক সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে।

এখন স্বামীর হাতে বাকি ২ টি তালাকের অধিকার থাকবে

তাফবীজ অর্থ হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা। এটিকে ফিকহের পরিভাষায় "তামলীক" বা "তাফবীজ" বলা হয়। কুরআনে এ বিষয়ের ভিত্তি রয়েছে:

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ... وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ "আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদেরকে তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে... আর পুরুষদের তাদের উপর মর্যাদা রয়েছে।" (সূরা বাকারা: ২২৮)

আর তাফবীজের বৈধতা প্রমাণে হাদীসে রয়েছে—নবী ﷺ বলেছেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ... (তিরমিযী, হাদীস নং ১১০২)

তবে তাফবীজের সরাসরি দলিল হলো—হাদীসে নবী ﷺ হযরত হাফসা (রা.)-কে তালাকের ক্ষমতা দিয়েছিলেন এবং তিনি তা প্রয়োগ করেছিলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৭৯)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.