বিয়ে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
বিয়ে সংক্রান্ত ওয়াদা ভঙ্গের বিধান
প্রশ্নের উত্তর:
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করছি:
ওয়াদা ভঙ্গের বিধান
ইসলামে ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূরণ করো।" (সূরা আল-মায়িদা: ১)
তবে, বালিগা (প্রাপ্তবয়স্ক) নারীর বিবাহের ক্ষেত্রে তার নিজের সম্মতি অপরিহার্য। কোনো ছেলের সাথে বিবাহের "কথাবার্তা" বা "প্রতিশ্রুতি" একটি সামাজিক ওয়াদা, যা ইসলামী আইনে আনুষ্ঠানিক বিবাহের চুক্তি (নিকাহ) নয়।
এই ক্ষেত্রে বিধান
১. বিবাহের প্রতিশ্রুতি একটি সাধারণ ওয়াদা, যা পূরণ করা উত্তম, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং এতে উভয় পক্ষের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।
২. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) -এর মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূর্ণাঙ্গ বিবাহের চুক্তি নয়। যদি পরবর্তীতে কোনো বৈধ কারণে সেই বিবাহ না হয়, তবে তা গুনাহ নয়।
৩. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তে উল্লেখ আছে যে, বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া বা নেওয়া একটি ওয়াদা মাত্র, যা ভঙ্গ করলে গুনাহ হবে না, তবে উত্তম হলো ওয়াদা পূরণ করা।
আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দিক
- আপনার বাবা-মা যদি কখনো বিয়ের জন্য চাপ না দেন, তাহলে আপনি অপেক্ষা করতে পারেন।
- কিন্তু যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, আপনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য হন অথবা ভালো পাত্র পাওয়া যায়, তাহলে সেই ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা জায়েয হবে।
- যেহেতু আপনার মধ্যে কোনো হারাম সম্পর্ক ছিল না, তাই এটি সম্পূর্ণ বৈধ।
গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা
"প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) তবে হারাম নয়, বিশেষ করে যখন তা বিবাহের ক্ষেত্রে হয় এবং কোনো বৈধ কারণ থাকে।" (রদ্দুল মুহতার, ৫ম খণ্ড)
উপসংহার
আপনি যদি সেই ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তবে ওয়াদা ভঙ্গের গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম হলো, যদি সম্ভব হয়, তাহলে তাকে জানিয়ে দেওয়া যে আপনি অন্যত্র বিয়ে করছেন, যাতে তার মনে কোনো কষ্ট না থাকে।
আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।