সুধভিত্তিক ঋণ নিয়ে ব্যবসা কারীর সাথে শেয়ার নেওয়ার প্রসঙ্গে

Business and Job · Hanafi

Question No: 5101
Questioner: Bin Siraj
Question Asked: 07 Sep 2026, 05:33 PM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 06:03 PM
Views: 58
Tokens: 4,557
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার পরিচিত একজনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন।
একজন ছোট ভাই সুদের কিস্তিতে টাকা কর্জ নিয়ে ব্যাবসা শুরু করেছিলো। কোনো কারনে ব্যাবসাটি বন্ধ হয়ে যায় । বাট ব্যাবসায়িক পন্যগুলো এখোনো আছে। তার কিস্তির টাকাও এখনো অপরিশোধিত। এখন আবার নতুন করে পার্টনার সঙ্গে নিয়ে ব্যাবসা শুরু করতে চায় । এমতাবস্থায় পার্টনারের জন্য করণীয় কী?
বি: দ্র: ব্যবসায়িক পণ্য হলো হোটেল-রেস্টুরেন্ট এর সামানা ।
জাঝাকাল্লাহ ওস্তাদ

Answer

সুদভিত্তিক ঋণ নিয়ে ব্যবসা ও শরীক নেওয়ার বিধান

উত্তর:

সুদি ঋণের টাকা দিয়ে কেনা মালামাল নিয়ে নতুন করে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করার ব্যাপারে হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে আপনার পরিচিত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় শরয়ী সমাধান নিচে বিস্তারিত পেশ করা হলো:

১. সুদি ঋণে কেনা মালামাল দিয়ে ব্যবসার হুকুম:

  • শরয়ী সমাধান: যদিও সুদের চুক্তিতে ঋণ গ্রহণ করা মারাত্মক গুনাহের কাজ, তবুও উক্ত ঋণের টাকা দিয়ে যদি শরীয়তসম্মত কোনো হালাল পণ্য (যেমন হোটেল বা রেস্টুরেন্টের আসবাবপত্র) ক্রয় করা হয়, তবে ঐ মালামাল ব্যবহার করে ব্যবসা করা এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা বা লাভ সম্পূর্ণরূপে হালাল হবে
  • শরয়ী কারণ: হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, সুদি ঋণের মাধ্যমে হস্তগত হওয়া টাকা 'মালিকানায়ে ফাসিদ' বা ত্রুটিযুক্ত মালিকানায় হলেও তার মালিকানায় চলে আসে। অতঃপর ঐ টাকা দিয়ে যখন কোনো বৈধ পণ্য ক্রয় করা হয়, তখন সেই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিটি স্বতন্ত্রভাবে সহীহ হয়ে যায়। ফলে সেই পণ্য বা আসবাবপত্র দিয়ে ব্যবসা করে যে লাভ হবে, তা ভোগ করা জায়েয। তবে সুদের লেনদেনে লিপ্ত হওয়ার কারণে ঐ ছোট ভাই পৃথকভাবে কবিরা গুনাহের জন্য অপরাধী হবেন এবং এজন্য তাকে আল্লাহর নিকট খাঁটি তওবা করতে হবে।
  • ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর (দলিল):
    • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ২১১-২১২ (অধ্যায়: মালিকানাধীন হারাম সম্পদের বিধান — বাদায়েউস সানায়ে-এর বরাতে)।

২. নতুন পার্টনারের জন্য করণীয় ও ব্যবসার বৈধতা:

  • শরয়ী সমাধান: আপনার পরিচিত ব্যক্তি (নতুন পার্টনার) যদি উক্ত ছোট ভাইয়ের সাথে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় অংশীদার হতে চান, তবে তিনি নিঃসঙ্কোচে অংশীদার হতে পারবেন এবং তার লভ্যাংশও হালাল হবে
  • শর্তাবলী:
    1. নতুন পার্টনারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, রেস্টুরেন্টে কোনো হারাম খাবার বা পানীয় বিক্রয় করা হবে না।
    2. অংশীদারিত্বের চুক্তিতে লভ্যাংশের হার (যেমন: লাভের ৫০% বা ৪০%) স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকতে হবে।
    3. ছোট ভাই যে সুদি ঋণ নিয়েছেন, তার কিস্তি বা সুদ পরিশোধের দায়িত্ব একান্তই তার নিজের; নতুন পার্টনার বা যৌথ ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে সুদের কিস্তি পরিশোধ করা যাবে না।
  • ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর (দলিল):
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড): পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫ (অধ্যায়: যৌথ মালিকানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য — শারিকাতুল আমলাক ও শারিকাতুল উকূদ-এর বিবরণ) ।
    • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৮৭-১৮৮ (ঋণের উপর আরোপিত সুদ প্রসঙ্গ)।

৩. সুদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ সংক্রান্ত পরামর্শ:

  • দায়ভার নির্ধারণ: ছোট ভাই যে সুদি কিস্তিতে ঋণ নিয়েছিলেন, সেই ঋণের আসল টাকা এবং সুদের বাড়তি অংশ পরিশোধ করার শরয়ী বাধ্যবাধকতা কেবল তার ওপরই বর্তাবে । নতুন পার্টনারের উচিত হবে ব্যবসার হিসাব এমনভাবে রাখা যাতে তার মূলধন বা লভ্যাংশের অংশ থেকে কোনোভাবেই ঐ ঋণের সুদ পরিশোধ করতে না হয়।
  • পরামর্শ: ছোট ভাই যেন দ্রুততম সময়ে কোনো হালাল পন্থায় (প্রয়োজনে বাড়তি মালামাল বিক্রয় করে হলেও) সুদের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন, কারণ সুদ ইসলামে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ২১১-২১২ (মালিকানাধীন হারাম সম্পদের মালিকানা ও ব্যবহারবিধি)। ২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৮৭-১৮৮ (ঋণের সুদ ও তার ভয়াবহতা)। ৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড): পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫ (অংশীদারিত্ব বা শিরকতের মৌলিক নিয়মাবলী)।

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.