তালাকের হুমকি দিলে কি তালাক পতিত হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এটা অনেকদিন আগের ঘটনা।
আমার স্বামীর অপছন্দের একজন মানুষ নিয়ে একটা অবান্তর কথা বলে ফেলি। ওই কথা শুনে আমার স্বামী বারবার আমাকে তালাকের হুমকি দিচ্ছিলো। বারবার বলতেছিলো তালাক দিয়ে দিবো। তার ঠিক দুইদিন পর আমি তাকে জিগাই যে সেদিন বারবার তালাকের হুমকি দিচ্ছিলা কেন? তখন আমার স্বামী উত্তরে বলে " তো কইবা কেন? কইলে তো হবেই"। শুধু এতটুকুই বলছিলো। আমার স্বামীর এসব কথা মনে নেই। মানে কথায় কথায় বলে ফেলছিলো, এবং সে বলেছে সে কোনো শর্ত দেয় নি।
এখন আমার প্রশ্ন স্বামীর এ কথার দ্বারা তালাকের শর্ত পড়ে গেলো নাকি? মুহতারাম দয়া করে জানাবেন।
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনার স্বামী প্রথমে বারবার তালাকের হুমকি দিয়েছিল (যেমন: "তালাক দিয়ে দিবো")। এটি কেবল হুমকি বা ভয় দেখানো, যা দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয় না। এরপর দুই দিন পর আপনি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "তো কইবা কেন? কইলে তো হবেই" (অর্থাৎ: তুমি কেন বলবে? বললে তো হবেই)।
মাসআলার নীতি: হানাফি ফিকহের নীতি অনুযায়ী, তালাকের শর্ত (তা'লিক) তখনই পতিত হয়, যখন স্বামী স্পষ্টভাবে কোনো ভবিষ্যতের ঘটনাকে শর্ত বানিয়ে বলে, যেমন: "যদি তুমি অমুক কাজ করো, তাহলে তুমি তালাক" (ইন ফা'আলতি কাযা ফাআন্তি ত্বলিক)। কিন্তু এখানে স্বামী কোনো শর্ত আরোপ করেননি; বরং তিনি কেবল বলেছেন, "বললে তো হবেই" — এটি একটি সাধারণ জবাব বা হুমকি, যা দ্বারা ভবিষ্যতের জন্য কোনো শর্ত স্থির হয় না।
রদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামী)-এর আলোকে: রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ আছে, তালাকের শর্ত (তা'লিক) সাব্যস্ত হতে হলে স্বামীর উক্তি হতে হবে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন, যা দ্বারা বোঝা যায় যে তিনি একটি নির্দিষ্ট কাজকে তালাকের সাথে সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু হুমকি, রাগ বা কথার প্রসঙ্গে বলা সাধারণ কথা দ্বারা তা'লিক সাব্যস্ত হয় না। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক, বাবু তা'লিকিত তালাক)
ফতোয়ায়ে উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়ার নির্দেশনা: ফতোয়ায়ে উসমানি এবং ইমদাদুল ফতোয়ায়ও উল্লেখ আছে, স্বামী যদি কেবল হুমকি দেয় বা রাগের মাথায় বলে "তালাক দিয়ে দেবো" কিন্তু পরে বলে সে শর্ত দেয়নি এবং তার কথা মনে নেই, তাহলে কেবল এই ধরনের হুমকিমূলক বাক্য দ্বারা তালাক পতিত হয় না। যতক্ষণ না সে স্পষ্টভাবে তিনটি তালাক বা একটি তালাকের শর্ত আরোপ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিবাহ বহাল থাকবে।
আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর: আপনার স্বামীর উক্তি "তো কইবা কেন? কইলে তো হবেই" — এটি কোনো শর্ত নয়। এটি একটি সাধারণ জবাব, যার অর্থ: "তুমি কেন (অবান্তর কথা) বলবে? (কারণ) বললে তো (ঝগড়া) হবেই।" এখানে তিনি তালাকের শর্ত দেননি, বরং তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের কথা বললে সমস্যা হবে। তাই এই কথার দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয়নি এবং কোনো শর্তও (তা'লিক) স্থির হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে।
উপদেশ: ভবিষ্যতে এ ধরনের কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যেন রাগের মাথায় তালাকের শব্দ উচ্চারণ না করেন। তালাকের শব্দ অত্যন্ত গুরুতর, যা উচ্চারণ করলে তা পতিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আপনাদের সম্পর্কে বরকত দান করুন। (আমিন)
রেফারেন্সসমূহ:
- রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক, বাবু তা'লিকিত তালাক
- ফতোয়ায়ে উসমানি, জিলদ ২, কিতাবুত তালাক
- ইমদাদুল ফতোয়া, জিলদ ২, কিতাবুত তালাক
- ফতোয়ায়ে আলমগিরি, জিলদ ১, কিতাবুত তালাক