বিবাহ ও ইজাব কবুল
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
বিবাহ ও ইজাব কবুল সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
২ পক্ষের সাক্ষী ও বর-কনের সাক্ষরের মাধ্যমে বিয়ে করা হয়েছে, কিন্তু মৌখিক ইজাব-কবুল হয়নি। তারা ২ বছর সংসার করেছে এবং এর মধ্যে ২টি তালাকও হয়েছে। এখন তাদের করণীয় কী?
ইসলামী বিধান
কাবিননামায় শুধু স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বিবাহ কি সংঘটিত হয়? বর ও কনে উভয়পক্ষ মজলিসে উপস্থিত থাকা অবস্থায় মুখে ইজাব-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) না করে, শুধুমাত্র কাবিননামায় দস্তখত বা স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বিবাহ শরীয়তের দৃষ্টিতে সংগঠিত হয় না। ১. ফিকহের প্রামাণিক দলিল হানাফী মাজহাবের প্রখ্যাত ফিকহ গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান বর্ণিত হয়েছে:
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (3/ 12): (فلا ينعقد) بقبول بالفعل... ولا بكتابة حاضر... فلو كتب تزوجتك فكتبت قبلت لم ينعقد بحر والأظهر أن يقول فقالت قبلت الخ إذ الكتابة من الطرفين بلا قول لا تكفي ولو في الغيبة تأمل।
الفتاوی الھندیۃ (1/ 270، ط: دار الفکر): ولا ينعقد بالكتابة من الحاضرين فلو كتب تزوجتك فكتبت قبلت لم ينعقد هكذا في النهر الفائق।
الفقہ الاسلامی و ادلتہ (9/ 6531، ط: دار الفکر): إن كان العاقدان حاضرين معاً في مجلس العقد وكانا قادرين على النطق فلا يصح بالاتفاق الزواج بينهما بالكتابة أو الإشارة।
২. সহজতার দৃষ্টিভঙ্গি (দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়া) শরীয়তের মূল বিধান কড়া হলেও, সাধারণ মানুষের সহজতা ও বাস্তব অবস্থ াকে সামনে রেখে দারুল উলূম দেওবন্দের একটি ফাতাওয়ায় কিছুটা অবকাশের কথা বলা হয়েছে।
ফাতাওয়া নং: 209-1375/L=1/1440 "যদি মেয়েকে এটি অবগত করা হয়ে থাকে যে এটি একটি নিকাহনামা এবং সে কোনো ধরনের জবরদস্তি বা ইকরাহ ছাড়াই স্বেচ্ছায় তাতে স্বাক্ষর করে থাকে, তবে নিকাহ সহীহ ও درست (সঠিক) হয়ে গেছে।"
৩. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ সুপ্রিয় দ্বীনী ভাই/বোন! উপরোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো:
- মূল বিধান: শরীয়তের আসল বিধান অনুযায়ী কেবল দস্তখত বা স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয় না; বরং মুখে ইজাব-কবুল বলা জরুরি।
- বিশেষ পরিস্থিতি: যদি অতীতে অজ্ঞতাবশত মুখে ইজাব-কবুল ছাড়া কেবল স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিবাহ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসারও শুরু হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষের জটিলতা এড়াতে কতিপয় ফকীহের মতে তা বৈধ হিসেবে ধর্তব্য হবে। এটি মূলত মূল বিধানের ওপর কড়াকড়ি না করে সহজতার ওপর আমল করার অবকাশ মাত্র।
- সতর্কতামূলক পরামর্শ: আমাদের দৃষ্টিতে, এমতাবস্থায়ও সাবধানতা অবলম্বন করে সতর্কতামূলকভাবে বিবাহ নবায়ন (তাজদীদ-ই নিকাহ) করে নেওয়া উচিত। এতে ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং বিবাহ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।