খলওয়াতে সহীহা
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
4790
Questioner:
Trisha Tamanna
Question Asked:
01 Sep 2026, 11:47 PM
Reviewed & Published:
02 Sep 2026, 12:45 AM
Views:
24
Tokens:
9,503
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ হুজুর পুনরায় প্রশ্ন করার জন্য দুঃখিত
আমি এর আগেও প্রশ্ন করেছি তবে সেখানে খলওয়াতে সহীহা হয়েছে কি হয়নি সেটার বর্ননা দেওয়া হয়নি অর্থাৎ বিস্তারিত বলা হয়নি তাই আমি চাচ্ছি বিষয়টা আপনাকে আরো ক্লিয়ার করে বলতে যেন আপনার বুঝতে সহজ হয়...আর আমি হানাফি মাজহাব অনুযায়ী জানতে চাচ্ছি +রেফারেন্স সহ আর কেন খলওয়াতে সহীহা হয়নি বা হয়েছে তার কারন টাও উল্লেখ করে দিলে ভালো হতো
এইযে আমার বর্ননা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
আমরা নিজেরা বিয়ে করি দুইজন ছেলে ছিল ১৭ বছর হবে আর ২ জন মেয়ে ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিয়েটা হয় আর বিয়েটা বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিয়ে হয়। আমার হাসবেন্ড এর ফ্যামিলি আমাদের থেকে মুটামুটি ভালো আমাদের ও ভালো!
এখন আমার কথা হচ্ছে
আমাদের মধ্যে সহবাস হয়নি তবে
আমরা একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করি সেখানে আরকি সহবাস ছাড়া আমাদের মাঝে ফোর প্লে হয় তবে শুধু এইটুকুর ই সুযোগ ছিল সহবাসের কোনো সুযোগ ছিল না কেননা যদি আমরা দাঁড়াতাম তাহলে যেখানে খাবার রান্না করা হয় আর ওয়েটার যেখানে বসে থাকে তা দেখা যেত । আর তা একটি কামরার মতো ছিল মানে চারদিকে অর্ধেক টিনের মতো দেওয়া ছিল ছাদ বলতে টিনের ছাদের মতো ছিল তবে অর্ধেক টিন দেওয়া আবার উপরের অরধেক টুকু খুলামেলা ছিল । তবে কোনো দরজা বা পর্দা ছিল না। ওয়েটার আসতো। যদিও সে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতো(এভাবে বলতো যে ভাই আসবো? বা এমনো হয়েছে না বলেই সোজা এসে পড়ত) কিন্তু তাকে তো আর না করা যেত না তবে সে আসার ভয় হতো যার কারণে সহবাসের সুযোগ ছিল না। আর রেস্টুরেন্টে যেমন সিট থাকে সাধারণত তেমন সিট ছিল।সে আসার ভয় হওয়ার কারনে সহবাস এর করার এমন কোনো ইচ্ছে মনে আসেই নাই কারন সুযোগ ছিল না!
আর এটা শুধু বিয়ের পর তালাকের আগে শুধু একদিন এমন স্থানে আমরা দেখা করি যার ফলে এমন জায়গায় যে সহবাস করা যাবে কল্পনাও করি নাই
ওয়েটার যে আসবে এমন ভয় কাজ করছে কিনা তাও আমার জানা নাই কারন ওয়েটার আসবে এটা তো নরমাল বিষয়। যেহেতু গিয়েছিলাম ই একদিন মাএ এখন কথা হচ্ছে....
এর ই মাঝে বিয়ের পর আরকি সে আমাকে বলে আমি তোমাকে এক তালাক দিলাম, আমি তোমাকে দুই তালাক দিলাম, আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম
আমার প্রশ্ন হচ্ছে
১/আমাদের কি খলওয়াতে সহীহা হয়েছে?
২/আর আমাদের কি তালাক হয়ে গেছে? হলে কত তালাক হয়েছে?
৩/আমরা কি আর পুনরায় বিবাহ করতে পারব না?
৪/বিবাহ করতে পারলে কত তালাকের মালিক থাকবেন আমার হাসবেন্ড?
উত্তর টি পেলে অনেক বেশি খুশি হবো ইনশাআল্লাহ
জাজাকাল্লাহু খাইরান হুজুর
আমি এর আগেও প্রশ্ন করেছি তবে সেখানে খলওয়াতে সহীহা হয়েছে কি হয়নি সেটার বর্ননা দেওয়া হয়নি অর্থাৎ বিস্তারিত বলা হয়নি তাই আমি চাচ্ছি বিষয়টা আপনাকে আরো ক্লিয়ার করে বলতে যেন আপনার বুঝতে সহজ হয়...আর আমি হানাফি মাজহাব অনুযায়ী জানতে চাচ্ছি +রেফারেন্স সহ আর কেন খলওয়াতে সহীহা হয়নি বা হয়েছে তার কারন টাও উল্লেখ করে দিলে ভালো হতো
এইযে আমার বর্ননা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
আমরা নিজেরা বিয়ে করি দুইজন ছেলে ছিল ১৭ বছর হবে আর ২ জন মেয়ে ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিয়েটা হয় আর বিয়েটা বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়া গোপনে বিয়ে হয়। আমার হাসবেন্ড এর ফ্যামিলি আমাদের থেকে মুটামুটি ভালো আমাদের ও ভালো!
এখন আমার কথা হচ্ছে
আমাদের মধ্যে সহবাস হয়নি তবে
আমরা একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করি সেখানে আরকি সহবাস ছাড়া আমাদের মাঝে ফোর প্লে হয় তবে শুধু এইটুকুর ই সুযোগ ছিল সহবাসের কোনো সুযোগ ছিল না কেননা যদি আমরা দাঁড়াতাম তাহলে যেখানে খাবার রান্না করা হয় আর ওয়েটার যেখানে বসে থাকে তা দেখা যেত । আর তা একটি কামরার মতো ছিল মানে চারদিকে অর্ধেক টিনের মতো দেওয়া ছিল ছাদ বলতে টিনের ছাদের মতো ছিল তবে অর্ধেক টিন দেওয়া আবার উপরের অরধেক টুকু খুলামেলা ছিল । তবে কোনো দরজা বা পর্দা ছিল না। ওয়েটার আসতো। যদিও সে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতো(এভাবে বলতো যে ভাই আসবো? বা এমনো হয়েছে না বলেই সোজা এসে পড়ত) কিন্তু তাকে তো আর না করা যেত না তবে সে আসার ভয় হতো যার কারণে সহবাসের সুযোগ ছিল না। আর রেস্টুরেন্টে যেমন সিট থাকে সাধারণত তেমন সিট ছিল।সে আসার ভয় হওয়ার কারনে সহবাস এর করার এমন কোনো ইচ্ছে মনে আসেই নাই কারন সুযোগ ছিল না!
আর এটা শুধু বিয়ের পর তালাকের আগে শুধু একদিন এমন স্থানে আমরা দেখা করি যার ফলে এমন জায়গায় যে সহবাস করা যাবে কল্পনাও করি নাই
ওয়েটার যে আসবে এমন ভয় কাজ করছে কিনা তাও আমার জানা নাই কারন ওয়েটার আসবে এটা তো নরমাল বিষয়। যেহেতু গিয়েছিলাম ই একদিন মাএ এখন কথা হচ্ছে....
এর ই মাঝে বিয়ের পর আরকি সে আমাকে বলে আমি তোমাকে এক তালাক দিলাম, আমি তোমাকে দুই তালাক দিলাম, আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম
আমার প্রশ্ন হচ্ছে
১/আমাদের কি খলওয়াতে সহীহা হয়েছে?
২/আর আমাদের কি তালাক হয়ে গেছে? হলে কত তালাক হয়েছে?
৩/আমরা কি আর পুনরায় বিবাহ করতে পারব না?
৪/বিবাহ করতে পারলে কত তালাকের মালিক থাকবেন আমার হাসবেন্ড?
উত্তর টি পেলে অনেক বেশি খুশি হবো ইনশাআল্লাহ
জাজাকাল্লাহু খাইরান হুজুর
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কুরআন, হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দিচ্ছি।
উত্তর
১. আপনাদের কি খলওয়াতে সহীহা (নিরাপদ নির্জনবাস) হয়েছে?
- শরয়ী ফয়সালা: না, আপনাদের মধ্যে খলওয়াতে সহীহা সংঘটিত হয়নি।
- কারণ বিশ্লেষণ: হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী অনুযায়ী, খলওয়াতে সহীহা সহীহ হওয়ার জন্য স্থানটি এমন নিরাপদ, আবৃত ও অন্তরাল হওয়া আবশ্যক, যেখানে অনুমতি ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রবেশ করার সুযোগ থাকে না এবং বাইরের মানুষের অবলোকন বা দেখার কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু আপনাদের বর্ণনা অনুযায়ী:
- স্থানটি ছিল রেস্টুরেন্টের একটি সাধারণ কেবিন, যার কোনো দরজা বা পর্দা ছিল না।
- কেবিনের দেয়াল ছিল মাত্র অর্ধেক টিনের এবং ওপরের অংশ উন্মুক্ত ছিল। আপনারা দাঁড়ালে রান্নাঘর এবং ওয়েটার বসার স্থান থেকে সরাসরি দেখা যেত।
- সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে ওয়েটার বারবার আসত এবং কখনো অনুমতি না নিয়েই সরাসরি প্রবেশ করত ("না বলেই সোজা এসে পড়ত")। এর ফলে আপনাদের মনে সার্বক্ষণিক ওয়েটার চলে আসার গভীর ভয় কাজ করছিল। হানাফী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে অন্য মানুষের কুদৃষ্টির বা হঠাৎ প্রবেশের আশঙ্কা থাকে এবং অন্তরে ভয় কাজ করে, সেখানে সহবাসের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক ও শরয়ী প্রতিবন্ধকতা (মানি’ বা Obstacle) বিদ্যমান থাকে। যেহেতু এই রেস্টুরেন্টের কেবিনটি নিরাপদ ছিল না এবং সেখানে সহবাস করার মতো কোনো সুযোগ বা পরিবেশ ছিল না, তাই আপনাদের এই দেখাসাক্ষাৎকে শরী'আতের দৃষ্টিতে খলওয়াতে সহীহা বলা যাবে না।
- দলীল ও কিতাবের রেফারেন্স:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): 'কিতাবুন নিকাহ', খলওয়াত অনুচ্ছেদ, পৃষ্ঠা নং ১২১। (সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে: "খালওয়াত সহীহ হওয়ার জন্য স্থানটি এমন নিরাপদ হওয়া আবশ্যক যাতে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা ব্যতিরেক স্বামী স্ত্রীর ব্যাপারে কারো পক্ষে অবগতি লাভ করা সম্ভব না হয়...")।
২. আপনাদের কি তালাক হয়ে গেছে? হলে কত তালাক হয়েছে?
- শরয়ী ফয়সালা: হ্যাঁ, আপনাদের মধ্যে তালাক হয়ে গেছে; তবে ৩টি নয়, বরং কেবল ১টি তালাকে বাযেন (Talaq-e-Ba'in) কার্যকর হয়েছে। বাকি ২টি তালাক সম্পূর্ণ বাতিল (লগু) হয়ে গেছে, সেগুলো পতিত হয়নি ।
- কারণ বিশ্লেষণ: হানাফী ফিকহের অকাট্য নিয়ম অনুযায়ী, যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস বা খলওয়াতে সহীহা না হয়ে থাকে (যাকে ফিকহের পরিভাষায় 'গাইরে মুদখুলা বিহা' বা غير مدخول بها বলা হয়), তবে স্বামী যদি তাকে এক বা একাধিক তালাক দেয়, তাহলে প্রথম তালাক উচ্চারণের সাথে সাথেই স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেটির ওপর তৎক্ষণাৎ ১টি 'তালাকে বাযেন' পতিত হয় । যেহেতু প্রথম তালাকের সাথেই স্ত্রী সম্পূর্ণ বেগানা বা আলাদা হয়ে যায় এবং তার ওপর কোনো ইদ্দত (অপেক্ষা করার সময়) থাকে না, তাই এরপর দেওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাকের কথাগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যায়। কারণ তখন সে আর স্ত্রীরূপে অবশিষ্ট থাকে না যে নতুন করে তালাক লাগবে ।
- দলীল ও কিতাবের রেফারেন্স:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): 'কিতাবুত তালাক', সহবাসের পূর্বে তালাক দেওয়ার বিবরণ, পৃষ্ঠা নং ৩৮৪-৩৮৫।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): 'তালাকের প্রকারভেদ ও পরিণাম' অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং ২৬৬-২৬৭। (সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে তা ইদ্দত ছাড়াই বাযেন হয়ে যায় এবং পরের তালাকগুলো পতিত হয় না)।
৩. আপনারা কি আর পুনরায় বিবাহ করতে পারবেন না?
- শরয়ী ফয়সালা: হ্যাঁ, আপনারা অবশ্যই পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। এর জন্য কোনো ধরণের 'হালালা' (অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে হওয়া) শর্ত নয়।
- পদ্ধতি: যেহেতু আপনাদের মধ্যে কেবল ১টি তালাকে বাযেন পতিত হয়েছে, তাই আপনারা উভয়ে চাইলে পারস্পরিক সম্মতিতে নতুন মোহর নির্ধারণ করে এবং নতুন করে দুজন বালেগ মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে পুনরায় নতুন নিকাহ (বিবাহ) সম্পন্ন করতে পারবেন।
- দলীল ও কিতাবের রেফারেন্স:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা নং ২৬৭ (তালাকে বাযেনের হুকুম)। (তালাকের বর্ণনায় বলা হয়েছে: "তালাকে বাযেন অর্থাৎ এমন তালাক যার দ্বারা বিয়ে ভেঙে যায় কিন্তু উভয়ে সম্মত হলে মোহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়।")।
৪. পুনরায় বিবাহ করতে পারলে স্বামী কত তালাকের মালিক থাকবেন?
- শরয়ী ফয়সালা: পুনরায় বিবাহ সম্পন্ন করার পর আপনার স্বামী অবশিষ্ট ২ (দুই) তালাকের মালিক থাকবেন।
- কারণ বিশ্লেষণ: যেহেতু পূর্বের বিবাহে ৩ তালাক উচ্চারণের মধ্য থেকে কেবল প্রথম ১টি বাযেন তালাক কার্যকর হয়েছিল, সেহেতু ১টি তালাকের অধিকার শেষ হয়ে গেছে এবং বাকি ২টি তালাকের অধিকার স্বামীর নিকট অক্ষুণ্ণ রয়েছে ।
- দলীল ও কিতাবের রেফারেন্স:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা নং ২৬৭ / ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা নং ৩৮৫।
জরুরী সতর্কবার্তা ও পরামর্শ:
যেহেতু আপনাদের মাঝে বর্তমানে ১টি তালাকে বায়েন হয়ে গেছে, তাই আপনারা এখন আর শরী'আতের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী নন। অতএব, নতুন বিবাহ সম্পন্ন করার পূর্ব পর্যন্ত আপনাদের ফোনে কথা বলা, দেখা করা বা নির্জনে মেলামেশা করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও গুনাহের কাজ। আপনারা যদি পুনরায় সংসার করতে চান, তবে অতি দ্রুত আপনাদের অভিভাবক বা নির্ভরযোগ্য সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নতুন মোহর ধার্য করে বিবাহ করে নিন।