আযানের পর কোন দুয়া পড়তে হয়? এটার ফজিলত কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4686
Questioner: Afia Jannat
Question Asked: 31 Aug 2026, 09:47 PM
Reviewed & Published: 31 Aug 2026, 10:24 PM
Views: 38
Tokens: 1,836
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আযানের পর কোন দুয়া পড়তে হয়?
এটার ফজিলত কি?

Answer

আযানের পর দু'আ ও এর ফজিলত

আযানের পর দু'আ

আযানের পর নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করা সুন্নত। এটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত:

আরবি:

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ

উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দা'ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল ক্বাইমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ, ওয়াব'আসহু মাক্বামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়া'আত্তাহ্।"

অর্থ: "হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বানের ও কায়েম হওয়া নামাযের প্রভু! মুহাম্মদ (সা.)-কে ওসীলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি দিয়েছেন।"

ফজিলত

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দু'আ পড়বে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হবে।" (সহীহ বুখারী: ৬১৪)

হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবে— 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনান'— তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (সহীহ মুসলিম: ৩৮৬)

হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও হানাফী ফুকাহায়ে কিরামের মতে, আযানের পর দু'আ করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআত লাভের সুসংবাদ রয়েছে।

**ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (রহ.)**在其著名的著作《রদ্দুল মুহতার》中提到:

"আযানের পর দু'আ করা এবং দরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ হাদীসে আযান ও ইকামতের মাঝে দু'আ কবুল হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৯২)

আযান ও ইকামতের মাঝের দু'আ

হাদীসে আরও এসেছে:

"আযান ও ইকামতের মাঝে দু'আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।" (সুনানে আবু দাউদ: ৫২১, তিরমিযী: ২১২)

তাই এই সময়টি দু'আ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফজিলতের সারসংক্ষেপ

১. শাফাআত লাভ: উক্ত দু'আ পড়লে কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআত ওয়াজিব হবে। ২. গুনাহ মাফ: আযানের জবাব দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পর দু'আ করলে গুনাহ মাফ হয়। ৩. দু'আ কবর: আযান ও ইকামতের মাঝের সময় দু'আ কবুলের বিশেষ সময়। ৪. ওসীলা লাভ: দু'আর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওসীলা ও মর্যাদা কামনা করা হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আযানের পর দু'আ পড়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.