মাগরিবের সালাত আদায়ের পর মাসিক হলে করণীয় কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
মাগরিবের সালাত আদায়ের পর মাসিক শুরু হলে কাযার বিধান
উত্তর
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: আপনি ট্রেনে থাকা অবস্থায় মাগরিবের ওয়াক্তে অজু ছাড়া বসে সালাত আদায় করেছেন। এরপর মাগরিবের ওয়াক্ত থাকা অবস্থায় আপনার মাসিক শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, অজু ছাড়া পড়া সেই সালাতের কাযা আদায় করতে হবে কি না?
শরয়ী বিধান
উত্তর: না, আপনার উপর সেই মাগরিবের সালাতের কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে এর কিছু শর্ত ও বিস্তারিত রয়েছে:
১. মাসিক শুরু হওয়ার কারণে সালাত মাফ হয়ে যায়
যখন কোনো মহিলার মাসিক শুরু হয়, তখন তার উপর সালাত আদায় করা হারাম হয়ে যায় এবং ঐ সময়ের সালাত তার থেকে মাফ হয়ে যায়। এটি সর্বসম্মত বিধান। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আল্লাহ তা'আলা মাসিক অবস্থায় মহিলার সালাত মাফ করে দিয়েছেন এবং রোযা কাযা করার আদেশ দিয়েছেন।" (সহীহ বুখারী: ৩০৪)
২. অজু ছাড়া সালাত আদায়ের বিধান
অজু ছাড়া সালাত আদায় করা গুনাহের কাজ এবং তা সহীহ হয় না। তবে মাসিক শুরু হওয়ার কারণে যদি সালাতের সময় শেষ হয়ে যায় বা সালাত মাফ হয়ে যায়, তাহলে কাযা ওয়াজিব হয় না।
৩. ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, যদি কোনো মহিলা সালাত আদায়ের পর (যদিও তা ভুলভাবে অজু ছাড়া হয়) মাসিক শুরু হয়, তাহলে ঐ সালাতের কাযা আদায় করতে হবে না। কারণ মাসিক শুরু হওয়ার সাথে সাথে সালাতের দায়িত্ব থেকে সে মুক্তি পেয়েছে।
৪. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত
ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, যদি সালাতের সময়ের মধ্যে মাসিক শুরু হয়, তাহলে কাযা ওয়াজিব নয়। তবে যদি মাসিক শুরু হওয়ার আগেই সালাতের সময় শেষ হয়ে যায় (অর্থাৎ সালাত আদায়ের সময়ই ছিল না), তাহলে ভিন্ন বিধান।
৫. ইবনে আবেদীন (রহ.)-এর বক্তব্য
ইবনে আবেদীন (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "রদ্দুল মুহতার" এ উল্লেখ করেছেন:
"যদি মহিলার মাসিক শুরু হয়, তাহলে তার উপর সালাত মাফ হয়ে যায়। এমনকি যদি সে সালাত আদায় করে থাকে কিন্তু তা সহীহ না হয় (যেমন অজু ছাড়া), তবুও মাসিক শুরু হওয়ার কারণে কাযা ওয়াজিব হবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪০৫)
৬. ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (আলমগীরী)-তে উল্লেখ আছে
"মহিলার মাসিক শুরু হলে তার উপর সালাত মাফ হয়ে যায়। যদি সে সালাত আদায় করে থাকে কিন্তু তা সহীহ না হয়, তবুও কাযা ওয়াজিব নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ১/৩৮)
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. অজু ছাড়া সালাত আদায় করা গুনাহ: অজু ছাড়া সালাত আদায় করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। আপনার উচিত ছিল অজু করার চেষ্টা করা। ট্রেনে থাকা অবস্থায়ও পানি থাকলে অজু করা সম্ভব ছিল। যদি পানি না থাকত, তাহলে তায়াম্মুম করার বিধান রয়েছে।
২. তওবা করা: অজু ছাড়া সালাত আদায় করার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।
৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা: ভবিষ্যতে এমন অবস্থায় পড়লে অজু বা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবেন।
সারসংক্ষেপ
আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু মাগরিবের ওয়াক্ত থাকা অবস্থায় মাসিক শুরু হয়েছে, তাই ঐ সালাতের কাযা আদায় করতে হবে না। মাসিক শুরু হওয়ার সাথে সাথে সালাতের দায়িত্ব মাফ হয়ে গেছে। তবে অজু ছাড়া সালাত আদায় করার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।