পর্দা
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি একজন মুসলিম নারী। পর্দা সম্পর্কে আমার কিছু বিষয় পরিষ্কারভাবে জানতে চাই। অনুগ্রহ করে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এবং প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য ফিকহের দলিলসহ উত্তর দেবেন।
১. মুসলিম নারীর পর্দার জন্য কি বোরকা পরাই একমাত্র শরিয়তসম্মত উপায়? কুরআন বা সহিহ হাদিসে কি নির্দিষ্টভাবে “বোরকা” নামের কোনো পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
২. বর্তমানে আমরা যে ধরনের বোরকা/আবায়া পরি, এর প্রচলন কোথা থেকে এসেছে? এটি কি রাসুল ﷺ-এর যুগে ঠিক বর্তমানের এই পোশাকের আকৃতিতেই ছিল, নাকি মূলত শালীন ও শরীর আবৃত করার পোশাকের বিভিন্ন ধরন ছিল?
৩. কুরআনে নারীদের জিলবাব ও খিমার সম্পর্কে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত অর্থ কী? এগুলো কি নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের নাম, নাকি পর্দার একটি পদ্ধতি/পোশাকের ধরন?
৪. একজন মুসলিম নারী যদি শাড়ি পরেন এবং শাড়িটি এমনভাবে পরেন যাতে শরীর যথাযথভাবে আবৃত থাকে, পোশাক স্বচ্ছ বা আঁটসাঁট না হয় এবং চুল ও প্রয়োজনীয় অংশ ঢেকে রাখেন—তাহলে কি সেটি শরিয়তসম্মত পর্দা হতে পারে?
৫. একইভাবে সেলোয়ার-কামিজ যদি ঢিলেঢালা, অস্বচ্ছ এবং শরীর যথাযথভাবে আবৃত রাখে, তাহলে কি এতে পর্দা আদায় হয়?
৬. পর্দার ক্ষেত্রে ইসলামে কি পোশাকের নির্দিষ্ট নাম/জাতি/সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, নাকি পোশাকের বৈশিষ্ট্য—যেমন শরীর আবৃত করা, ঢিলেঢালা হওয়া, অস্বচ্ছ হওয়া, সৌন্দর্য প্রদর্শন না করা—এসবই মূল বিষয়?
৭. রাসুল ﷺ-এর যুগে আরবের নারীরা যে পোশাক পরতেন, সেটিই কি মুসলিম নারীদের জন্য আজও হুবহু অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক? নাকি ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির শালীন পোশাক শরিয়তের শর্ত পূরণ করলে তা পরা বৈধ?
৮. যদি কোনো পরিবার মনে করে “বোরকা ছাড়া কোনো পোশাকেই পর্দা হয় না”, তাহলে কুরআন ও সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক?
৯. একজন মুসলিম নারী যদি বোরকা না পরে, কিন্তু শরিয়তের পর্দার অন্যান্য শর্ত মেনে শালীন শাড়ি বা সেলোয়ার-কামিজ পরেন, তাহলে তাকে কি বলা যাবে যে তিনি “পর্দা করেন না”?
দয়া করে উত্তর দেওয়ার সময় শুধু কোনো একটি মত উল্লেখ না করে কুরআনের আয়াত, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহের ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে বলবেন। বিশেষ করে “বোরকা” এবং “পর্দা”—এই দুটো কি একই বিষয় নাকি আলাদা বিষয়, সেটিও পরিষ্কার করবেন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
Answer
পর্দা ও বোরকা: কুরআন, হাদিস ও ফিকহের আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ভূমিকা
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। পর্দা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান, তবে "বোরকা" নামক নির্দিষ্ট পোশাকটি পর্দার একটি মাধ্যম মাত্র, উদ্দেশ্য নয়। নিম্নে কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহের আলোকে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।
১. বোরকা কি একমাত্র শরিয়তসম্মত পর্দার উপায়?
উত্তর: না, বোরকা একমাত্র শরিয়তসম্মত পর্দার উপায় নয়। কুরআন বা সহিহ হাদিসে "বোরকা" নামে কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বোরকা একটি ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পোশাক, যা মূলত উপমহাদেশে প্রচলিত।
কুরআনে পর্দার জন্য যে শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
সূরা আন-নূর (২৪:৩১):
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ...
"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে পড়ে তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের খিমার (ওড়না) বক্ষদেশে ফেলে রাখে..."
সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৯):
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ...
"হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাব (বাইরের চাদর) নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের কষ্ট দেওয়া হবে না।"
ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যা: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন জিলবাব (চাদর) দ্বারা মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করে, শুধু একটি চোখ খোলা রাখে। (তাফসির ইবনে কাসির)
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:
ইমাম আবু বকর আল-জাসসাস (রহ.) তাঁর "আহকামুল কুরআন"-এ বলেন: পর্দার মূল উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্য গোপন করা এবং ফিতনা থেকে বাঁচা। পোশাকের নির্দিষ্ট নাম বা আকৃতি উদ্দেশ্য নয়, বরং শর্তগুলো পূরণ করাই মূল।
ফতোয়ায়ে আলমগীরি (৫:৩২৮): নারীর পর্দার জন্য প্রয়োজন—সমগ্র শরীর আবৃত থাকা, পোশাক এমন হওয়া যেন শরীরের গঠন প্রকাশ না পায় এবং পোশাক স্বচ্ছ না হয়।
২. বর্তমান বোরকার প্রচলন কোথা থেকে এসেছে?
উত্তর: বর্তমান যে ধরনের বোরকা বা আবায়া আমরা দেখি, এর বর্তমান রূপটি মূলত বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আরবের নারীরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরতেন, যার মধ্যে ছিল:
১. দির' (درع): একটি লম্বা জামা বা শার্ট ২. খিমার (خمار): মাথা ও বুক ঢাকার জন্য ওড়না ৩. জিলবাব (جلباب): বাইরের চাদর বা আবরণ ৪. মিল'আফ (ملاءة): বড় চাদর
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "জিলবাব হলো এমন একটি পোশাক যা নারী তার নিয়মিত পোশাকের উপর পরে, যা তাকে আবৃত করে।" (মাজমু ফাতাওয়া, ১৫:৩৭১)
বর্তমান বোরকার আকৃতি মূলত ইরান, তুরস্ক, আরব ও উপমহাদেশের সংস্কৃতির মিশ্রণে গঠিত। এটি কোনো নির্দিষ্ট শরয়ি পোশাক নয়, বরং সময় ও স্থানভেদে পরিবর্তিত একটি সাংস্কৃতিক রূপ। যা কুরআনে হাদীসে বর্ণিত পর্দার রক্ষার পোষাক হিসেবে বেশী কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত।
৩. জিলবাব ও খিমারের প্রকৃত অর্থ
উত্তর: কুরআনে উল্লেখিত "জিলবাব" ও "খিমার" নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের নাম নয়, বরং পর্দার পদ্ধতি ও পোশাকের ধরন বোঝায়।
খিমার (خمار): এটি আরবি "খামর" (ঢাকা) মূল থেকে এসেছে। খিমার হলো মাথা ঢাকার কাপড়, যা ঘাড় ও বুক পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এটি বর্তমানের ওড়না, হিজাব বা স্কার্ফের সমতুল্য।
জিলবাব (جلباب): এটি বাইরের আবরণ বা চাদর, যা নারী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পরিধান করে। এটি বর্তমানের বোরকা, আবায়া বা বড় চাদরের সমতুল্য।
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসিরে বলেন: "জিলবাব হলো চাদর যা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখে।" (তাফসির ইবনে কাসির, ৬:৪৮২)
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মা'আরিফুল কুরআন"-এ (৭:২৩৪) বলেন: "জিলবাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাইরের চাদর বা আবরণ, যা নারীর শরীরকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে রাখে।"
৪. শাড়ি পরা কি শরিয়তসম্মত পর্দা হতে পারে?
উত্তর: যদি শাড়ি নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে তা শরিয়তসম্মত পর্দা হতে পারে:
১. সমগ্র শরীর আবৃত থাকা — শাড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড়, বুক, হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢেকে রাখতে হবে ২. পোশাক স্বচ্ছ না হওয়া — শরীরের রং বা গঠন যেন দেখা না যায় ৩. আঁটসাঁট না হওয়া — শরীরের গঠন যেন প্রকাশ না পায় ৪. চুল সম্পূর্ণ আবৃত থাকা ৫. সৌন্দর্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকা
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, ৬:৩৬০):
وَلَا بُدَّ مِنْ سَتْرِ جَمِيعِ الْبَدَنِ وَأَنْ لَا يَكُونَ ثَوْبٌ رَقِيقًا يَصِفُ الْبَشَرَةَ وَلَا ضَيِّقًا يَصِفُ الْحَجْمَ
"সমগ্র শরীর আবৃত করা আবশ্যক, এবং পোশাক এমন পাতলা হওয়া যাবে না যা ত্বক প্রকাশ করে, আর এমন আঁটসাঁটও হওয়া যাবে না যা শরীরের গঠন প্রকাশ করে।"
তবে শাড়ি সাধারণত দুই টুকরো কাপড়ের সমন্বয়ে গঠিত এবং এটি পরিধান করার সময় শরীরের কিছু অংশ (কোমর, পেট) খোলা থাকে। তাই শাড়ি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্দা করা কঠিন। যদি কেউ শাড়ির সাথে অতিরিক্ত কাপড় (ব্লাউজ, ওড়না) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখে এবং উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে তা পর্দা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
৫. সেলোয়ার-কামিজে কি পর্দা আদায় হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি সেলোয়ার-কামিজ নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করে:
১. ঢিলেঢালা হওয়া — শরীরের গঠন প্রকাশ না করা ২. অস্বচ্ছ হওয়া — শরীরের রং দেখা না যাওয়া ৩. সমগ্র শরীর আবৃত করা — মাথা, ঘাড়, হাত ও পা ঢেকে রাখা ৪. দৃষ্টি আকর্ষণকারী না হওয়া — অতি উজ্জ্বল রং বা আকর্ষণীয় ডিজাইন না থাকা ৫. সাথে হিজাব/ওড়না — মাথা ও বুক ঢাকার জন্য
ফতোয়ায়ে উসমানি (২:৪৩২): মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "পর্দার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের নাম বা আকৃতি ইসলামে নির্ধারিত নয়। বরং শর্ত হলো—সমগ্র শরীর আবৃত থাকা, পোশাক ঢিলেঢালা ও অস্বচ্ছ হওয়া এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকা। এই শর্তগুলো পূরণ করলে যেকোনো শালীন পোশাক পর্দা হিসেবে গণ্য হবে।"
৬. পর্দার ক্ষেত্রে পোশাকের নাম/সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ নাকি বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: পর্দার ক্ষেত্রে ইসলামে পোশাকের নির্দিষ্ট নাম, জাতি বা সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল বিষয় হলো পোশাকের বৈশিষ্ট্য:
১. শরীর আবৃত করা — সমগ্র শরীর ঢেকে রাখা ২. ঢিলেঢালা হওয়া — শরীরের গঠন প্রকাশ না করা ৩. অস্বচ্ছ হওয়া — ত্বকের রং দেখা না যাওয়া ৪. সৌন্দর্য প্রদর্শন না করা — দৃষ্টি আকর্ষণ না করা ৫. পুরুষের পোশাকের সাদৃশ্য না থাকা — নারীর পোশাক নারীসুলভ হতে হবে ৬. অমুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় পোশাকের সাদৃশ্য না থাকা
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, পর্দার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিতনা প্রতিরোধ করা। যে পোশাকই এই উদ্দেশ্য পূরণ করবে, তা-ই পর্দা হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
আল-হিদায়া (৪:৪৫৭):
وَالْمَرْأَةُ الْحُرَّةُ كُلُّهَا عَوْرَةٌ إِلَّا وَجْهَهَا وَكَفَّيْهَا فِي رِوَايَةٍ
"স্বাধীন নারীর সমগ্র শরীর সতর (আবৃত করা আবশ্যক), তবে এক রেওয়ায়েতে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ছাড়া।"
৭. রাসুল (ﷺ)-এর যুগের পোশাক কি আজও হুবহু অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, রাসুল (ﷺ)-এর যুগের আরব নারীদের নির্দিষ্ট পোশাকের আকৃতি হুবহু অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। ইসলাম পোশাকের নির্দিষ্ট সংস্কৃতি বা রূপ নির্ধারণ করেনি, বরং শর্ত ও নীতিমালা নির্ধারণ করেছে।
প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম নারীরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরতেন। ইসলামের বিস্তারের পর পারস্য, রোম, আফ্রিকা ও এশিয়ার নারীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির শালীন পোশাক পরিধান করতেন, যা শরিয়তের শর্ত পূরণ করত।
মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) "তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম" (৪:৩২১)-এ বলেন: "পোশাকের ক্ষেত্রে ইসলাম মূলনীতি নির্ধারণ করেছে, নির্দিষ্ট রূপ নয়। যেকোনো সংস্কৃতির পোশাক, যা ইসলামী মূলনীতি পূরণ করে, তা গ্রহণযোগ্য।"
৮. "বোরকা ছাড়া পর্দা হয় না" — এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক?
উত্তর: এই বক্তব্য যুক্তিযুক্ত নয়। কুরআন, সহিহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ফিকহের কোনো গ্রন্থেই বলা হয়নি যে "বোরকা" নামক নির্দিষ্ট পোশাক ছাড়া পর্দা হয় না।
প্রমাণ:
১. কুরআনে "বোরকা" শব্দটি কোথাও উল্লেখ নেই। কুরআনে ব্যবহৃত শব্দ হলো "খিমার" ও "জিলবাব"।
২. সহিহ হাদিসে "বোরকা" নামে কোনো নির্দিষ্ট পোশাকের কথা উল্লেখ নেই। হাদিসে "খিমার", "জিলবাব", "মিল'আফ" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য ইমামগণ পর্দার শর্তগুলো উল্লেখ করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট পোশাকের নাম উল্লেখ করেননি।
ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ (৮:২৮৪): "পর্দার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের নাম বা আকৃতি ইসলামে নির্ধারিত নয়। যে পোশাকই শরিয়তের শর্ত পূরণ করবে—শরীর আবৃত করা, ঢিলেঢালা হওয়া, অস্বচ্ছ হওয়া—তা-ই পর্দা হিসেবে গণ্য হবে।"
৯. বোরকা না পরে শালীন পোশাক পরলে তাকে "পর্দা করেন না" বলা যাবে কি?
উত্তর: না, যদি কোনো মুসলিম নারী শরিয়তের পর্দার শর্তগুলো পূরণ করে শালীন পোশাক পরেন, তাহলে তাকে "পর্দা করেন না" বলা যাবে না। পর্দা একটি বিধান, আর বোরকা একটি মাধ্যম। মাধ্যম পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বিধান একই থাকে।
শর্তগুলো পূরণ হলে:
- সমগ্র শরীর আবৃত থাকা
- পোশাক ঢিলেঢালা ও অস্বচ্ছ হওয়া
- চুল ও সৌন্দর্য গোপন করা
- দৃষ্টি আকর্ষণ না করা
তাহলে তিনি পর্দা পালন করছেন, যদিও তিনি বোরকা পরছেন না।
ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪:১৬৮): মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.) বলেন: "পর্দার মূল উদ্দেশ্য হলো শরীর আবৃত করা ও ফিতনা প্রতিরোধ করা। এই উদ্দেশ্য যেকোনো শালীন পোশাকে পূরণ হলে তা পর্দা হিসেবে গণ্য হবে।"
"বোরকা" ও "পর্দা" — কি একই বিষয়?
উত্তর: "বোরকা" এবং "পর্দা" একই বিষয় নয়, বরং দুটি ভিন্ন বিষয়:
আল্লাহই ভালো জানেন।