অভাবগ্রস্থ বোনকে কি যাকাত দেয়া যাবে?
Zakat and Charity · Hanafi
Question
আমার আপন বোন শারিরীক দিক থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, যার কারণে তার বিয়ে দেওয়া ও সম্ভব নয়। সে পুরোপুরি আমার উপর নির্ভর। আমার আর্থিক অবস্থা ও খুব একটা ভালো নয় কোনো নির্দিষ্ট আয় না থাকায়। আমার যাকাত ফরজ। এখন ওই যাকাত এর টাকা থেকে আমার বোনকে তার চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন এর জন্য অর্থ প্রদান করা যাবে কি??
Answer
উত্তর:
প্রশ্নদ্বয়ের উত্তর নিম্নে হানাফি ফিকহের কিতাব ও ফাতাওয়ার আলোকে দেওয়া হলো:
প্রথম প্রশ্ন:
বিবাহিত বোনের স্বামীর ব্যবসায় ক্ষতি ও ঋণ। বোনের নিজের কিছু স্বর্ণ আছে (নিসাবের কম) যা বিক্রি করলে ঋণ পরিশোধ হতে পারে। তাকে কি যাকাত দেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার বোনকে যাকাত দেওয়া জায়েজ। কারণ:
১. স্বর্ণের পরিমাণ নিসাবের কম – যাকাত গ্রহণের শর্ত হলো, ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকা। আপনার বোনের স্বর্ণ যদি নেসাবের কম হয় (সোনার নেসাব ৭.৫ তোলা বা ৮৭.৪৮ গ্রাম), তবে তিনি দারিদ্র্যের সীমার মধ্যে গণ্য হবেন। স্বর্ণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের অলঙ্কার হলেও তা নেসাবের কম হলে যাকাত গ্রহণে বাধা নয়। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৮৯)
২. স্বামীর ঋণ বোনের উপর বাধ্যতামূলক নয় – ইসলামী আইনে স্ত্রী স্বামীর ঋণের জন্য দায়ী নয়। বোনের নিজস্ব সম্পদ কম থাকায় তিনি অসহায়। বর্তমানে তাঁর সংসার চালানোর জন্য, বাচ্চাদের স্কুল ফি ও ভাড়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন। তাই তিনি যাকাতের হকদার। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৪৫)
৩. বোন যাকাতের খাত – যাকাত দেওয়া যায়: ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত, ইত্যাদি। আপনার বোন ফকির বা মিসকিন হিসেবে বিবেচিত। (সূরা তওবা: ৬০)
সতর্কতা: স্বর্ণ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা থাকলেও, যেহেতু তা নেসাবের কম এবং ওই স্বর্ণ তাঁর প্রয়োজন (পোশাক-আভরণ বা সঞ্চয় হিসেবে), তাই তাঁকে জোর করে বিক্রি করতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি চাইলে বিক্রি করতে পারেন, কিন্তু না করলেও তিনি যাকাত গ্রহণের অযোগ্য হবেন না। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/৪০৮)
সিদ্ধান্ত: আপনার বোনকে যাকাত দেওয়া বৈধ। তবে সুবিধা হলে স্বামীকে এড়িয়ে সরাসরি বোনকে প্রদান করুন।
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
আপনার প্রতিবন্ধী আপন বোন, যিনি সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভরশীল। আপনার নিজের আয় নেই, কিন্তু যাকাত ফরজ। কি সেই যাকাত থেকে তাকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনে দিতে পারবেন?
উত্তর: হ্যা, আপনার ঐ (প্রতিবন্ধী) বোনকে যাকাত দেওয়া জায়েজ হবে।
উল্লেখিত কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
- ফাতাওয়া শামী
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী)
- আলহিদায়া (মারগীনানী)
- আহসানুল ফাতাওয়া (মুফতি রশীদ আহমদ)