ব্যবহার্য ১ভড়ি স্বর্ণ এবং সাথে কিছু টাকা থাকলে, যাকাত এবং কুরবানি কি ওয়াজিব হবে?
Zakat and Charity · Hanafi
Question
আমার কাছে ১ ভরির মত স্বর্ণ আছে যার মধ্যে একটা কানের দুল রেগুলার ব্যবহার করা হয়। কোনো রূপা নাই। আমার কোনো ইনকাম সোর্স নাই।
প্রতিমাসে আমার হাজবেন্ড আমাকে ১০০০ টাকা হাত খরচ দেয়। যেই টাকা দিয়ে আমি আমার কিছু কসমেটিকস যেমন ফেসওয়াশ,শ্যাম্পু, ব্যাগ এগুলো কিনি। এছাড়াও বই কিনি বা অনলাইনে দ্বীনি কোর্স করি মাঝেমধ্যে। মোটকথা ঐ এক হাজার টাকা দিয়ে আমি আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনি আবার কিছু শখের জিনিস ও কিনি। যেমন: ঘর সাজানোর জিনিস।
বেশিরভাগ সময় টাকাটা খরচ হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে ২/৩ মাসের টাকা জমা করে বাবার বাড়ি যাই তখন ওখানে গিয়ে নিজের বা পরিবারের পিছনে খরচ করি। আমার মাকে ৫০০ দেই অনেক মাস পরপর।
এই অবস্থায় আমার ওপর কি যাকাত আর কুরবানী ফরজ হবে?
Answer
উত্তরঃ
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার নিকট প্রায় ১ ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) স্বর্ণ আছে, যা আপনি ব্যবহার করেন। কোনো রূপা নেই এবং আপনার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। আপনার স্বামী আপনাকে মাসিক ১০০০ টাকা হাতখরচ দেন, যা আপনি প্রয়োজনীয় ও শখের জিনিস কিনে শেষ করে দেন; মাঝে মাঝে জমা করে পিতার বাড়ি যাওয়া বা মাকে কিছু দেওয়ার কাজে ব্যয় করেন।
এই অবস্থায় আপনার উপর যাকাত এবং কুরবানী কোনোটিই ফরজ বা ওয়াজিব হবে না। নিম্নে তার বিস্তারিত কারণ ও দলিল দেওয়া হলো।
যাকাতের বিধান
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরীঃ
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া (সোনার জন্য নিসাব = ২০ মিসকাল বা ৭.৫ ভড়ি যা প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম; এবং রুপার জন্য = ২০০ দিরহাম বা ৫২.৫ ভড়ি যা প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম)।
- ঐ সম্পদ এক চান্দ্র বছর ধরে নিজের মালিকানায় থাকা শর্ত।
আপনার কাছে আছে কেবল ১ ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) স্বর্ণ, যা সোনার নিসাবের (৮৭.৪৮ গ্রাম) চেয়ে অনেক কম। অপরদিকে মাসিক ১০০০ টাকা আপনি সাধারণত খরচ করে ফেলেন; এমনকি বৎসরের শুরু বা শেষে আপনার নিকট উপস্থিত থাকলেও যেহেতু স্বর্ণ এবং উক্ত টাকা মিলিত হয়ে ৫২.৫ ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হচ্ছে না, তাই আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
হানাফি কিতাবের দলিলঃ
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): সোনার নিসাব ২০ মিসকাল (৮৭.৪৮ গ্রাম) নির্ধারিত। (২/২৯৫)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ‘যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়, তার উপর যাকাত ফরজ নয়’। (১/১৭২)
- ফাতাওয়া উসমানী: ‘ব্যবহার্য সোনার অলংকার এর নিসাব পূর্ণ হলে এবং বছর অতিক্রান্ত হলে যাকাত ফরয হবে। (২/২৭৫)
আপনার স্বর্ণ নিসাবের নিচে, তাই যাকাত ফরজ নয়।
কুরবানীর বিধান
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিম্ন শর্তগুলো থাকতে হবেঃ
- মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া।
- কুরবানীর দিন সমূহে (১০/১১/১২ জিলহজ্জ) ক্রমবর্ধমান বা অক্রমবর্ধমান নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। অক্রমবর্ধমান মানে প্রয়োজন অতিরিক্ত ঘরের আসবাবপত্র,জমি,গাড়ী-বাড়ীর মূল্য ৫২.৫ ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হওয়া।
আপনার নিকট কুরবানীর সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকার দরুণ কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
হানাফি কিতাবের দলিলঃ
- আল-হিদায়া: ‘কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাবের মালিক হওয়া শর্ত’। (৪/৭০)
- ফাতাওয়া আলমগীরী: ‘যার নিকট কুরবানীর দিন নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব’। (৫/২৯২)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): ‘যাকাতের নিসাবই কুরবানীর জন্য প্রযোজ্য’। (২/২৩১)
অতএব, আপনার উপর কুরবানীও ওয়াজিব নয়।
সারসংক্ষেপ
- যাকাত ফরজ নয় (কারণ সোনা নিসাবের নিচে, নগদ টাকা স্থায়ীভাবে জমা থাকে না)।
- কুরবানী ওয়াজিব নয় (কারণ কুরবানীর সময় আপনার নিসাব পরিমাণ (অক্রমবর্ধমান) সম্পদ নেই)।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বুঝ দান করুন।