তাফবীযে তালাকের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4729
Questioner: Santona Khan
Question Asked: 01 Sep 2026, 12:39 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 12:53 PM
Views: 14
Tokens: 4,123
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি রাগের মাথায়, মনে কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া মুখে বলেন—'তোমাকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম', তবে সালাফি (আহলে হাদিস) মতানুযায়ী স্ত্রী কি আসলেই তালাকের অধিকার পাবেন? আর এই কথার ওপর ভিত্তি করে স্ত্রী যদি পরবর্তীতে নিজে নিজে তালাক গ্রহণ করেন, তবে আল্লাহর কাছে কি সেই তালাক বৈধ এবং কার্যকর হবে? আর স্ত্রী যদি বিরক্ত হয়ে মনে কোনো গ্রহণের নিয়ত ছাড়া মুখে 'আচ্ছা' বলে এবং কিছুক্ষণ পরেই আবার 'না' বলে দেয়, তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে?"

Answer

তালাকের অধিকার প্রদান সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

ভূমিকা

প্রশ্নটি তিনটি অংশে বিভক্ত:

  1. রাগের মাথায় স্বামী "তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম" বললে স্ত্রী কি প্রকৃতই তালাকের অধিকার পাবে?
  2. স্ত্রী নিজে নিজে তালাক গ্রহণ করলে তা কি বৈধ ও কার্যকর হবে?
  3. স্ত্রী "আচ্ছা" বলে পরে "না" বললে তালাক হবে কি?

১ম অংশ: "তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম" বলার বিধান

কুরআন ও হাদিসের আলোকে

তালাকের অধিকার ইসলামে স্বামীর হাতে ন্যস্ত। আল্লাহ বলেন:

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ "পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল।" (সূরা আন-নিসা: ৩৪)

তালাক প্রদানের ক্ষমতা স্বামীর। তবে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে পারে। এটি ইসলামি ফিকহে "তফবীযুত তালাক" (তালাকের ক্ষমতা অর্পণ) নামে পরিচিত।

সালাফি পণ্ডিতদের মত

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন:

إذا خيّر الرجل امرأته أو ملكها أمرها، فاختارت نفسها طلقت واحدة بائنة "যদি স্বামী স্ত্রীকে ইখতিয়ার দেয় বা তার ব্যাপার তার হাতে অর্পণ করে, আর সে নিজেকে বেছে নেয় (অর্থাৎ তালাক গ্রহণ করে), তবে একটি বায়েন তালাক পতিত হবে।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৩/২৮৫)

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) বলেন:

إذا قال الزوج لزوجته: أمرك بيدك، أو طلقي نفسك، فلها أن تطلق نفسها "যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে: তোমার ব্যাপার তোমার হাতে, অথবা তুমি নিজেকে তালাক দাও, তবে সে নিজেকে তালাক দিতে পারবে।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৮০)

রাগের অবস্থায় বলা হলে

এখানে মূল বিষয় হলো—স্বামী কি সচেতনভাবে বলেছে নাকি এমন রাগে ছিল যে তার কথার নিয়ন্ত্রণই ছিল না?

শায়খ ইবনে বায (রহঃ) বলেন:

إذا كان الرجل في حالة غضب شديد لا يعي ما يقول، فلا يقع طلاقه "যদি স্বামী এমন তীব্র রাগে থাকে যে সে কী বলছে তা জানে না, তবে তার তালাক পতিত হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২/৮০)

তবে মধ্যম রাগ (যা স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণ থাকে) হলে তালাক পতিত হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

لَا طَلَاقَ وَلَا عِتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ "বন্ধ অবস্থায় তালাক নেই এবং আযাদ করাও নেই।" (আবু দাউদ: ২১৯৩, ইবনে মাজাহ: ২০৪৬)

শায়খ আল-আলবানী (রহঃ) এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন যে "إغلاق" অর্থ হলো এমন ক্রোধ যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। (সহিহ আবু দাউদ, ২/২৬০)

আমাদের উত্তর

যদি স্বামী রাগের মাথায় স্পষ্টভাবে "তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম" বলে এবং সে বুঝে বলেছে (অর্থাৎ তার জ্ঞান-বিবেক intact ছিল), তাহলে:

  1. স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে
  2. স্ত্রী চাইলে তা গ্রহণ করতে পারবে
  3. গ্রহণ করলে একটি বায়েন তালাক পতিত হবে

কিন্তু যদি রাগ এত তীব্র ছিল যে স্বামী সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় ছিল, তাহলে তা পতিত হবে না।

২য় অংশ: স্ত্রী নিজে নিজে তালাক গ্রহণ করলে

যদি স্বামী বৈধভাবে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়ে থাকে এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তাহলে:

শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

إذا ملك الزوج زوجته أمرها وقال لها: طلقي نفسك، فطلقت نفسها، وقع الطلاق "যদি স্বামী স্ত্রীকে তার ব্যাপারের মালিক বানায় এবং বলে: তুমি নিজেকে তালাক দাও, আর সে নিজেকে তালাক দেয়, তবে তালাক পতিত হবে।" (আল-মুলাখ্খাসুল ফিকহী, ২/৩৩০)

তবে শর্ত হলো—স্ত্রী স্পষ্ট নিয়তে তালাক গ্রহণ করবে। যদি সে বিরক্ত হয়ে "আচ্ছা" বলে কিন্তু তালাক গ্রহণের নিয়ত না থাকে, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।

৩য় অংশ: "আচ্ছা" বলে পরে "না" বললে

এখেত্রে মূল বিষয় হলো নিয়ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" (বুখারী: ১, মুসলিম: ১৯০৭)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন:

الطلاق لا يقع إلا بالنية أو باللفظ الصريح "তালাক পতিত হয় না নিয়ত ছাড়া অথবা স্পষ্ট শব্দ ছাড়া।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৩/১০২)

যদি স্ত্রী "আচ্ছা" বলে তালাক গ্রহণের নিয়তে, তাহলে তা পতিত হবে। কিন্তু যদি সে বিরক্ত হয়ে বা অন্য কারণে বলে এবং সাথে সাথে "না" বলে দেয় (যা প্রমাণ করে তার গ্রহণের নিয়ত ছিল না), তাহলে তালাক পতিত হবে না।

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) বলেন:

إذا قالت المرأة: قبلت، ثم رجعت وقالت: لم أقصد الطلاق، فإن كان لها نية القبول فطلاقها واقع، وإن لم تكن لها نية فلا يقع "যদি স্ত্রী বলে: গ্রহণ করলাম, তারপর ফিরে বলে: আমার তালাকের নিয়ত ছিল না, তবে যদি তার গ্রহণের নিয়ত থাকে তাহলে তালাক পতিত হবে, আর যদি নিয়ত না থাকে তাহলে পতিত হবে না।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৮৫)

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

  1. "তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম" — যদি স্বামী সচেতন অবস্থায় (মধ্যম রাগে) বলে, তাহলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে। কিন্তু যদি এমন তীব্র রাগে বলে যা তাকে অচেতন করে দিয়েছে, তাহলে পতিত হবে না।

  2. স্ত্রী নিজে নিজে তালাক গ্রহণ করলে — যদি স্বামী বৈধভাবে অধিকার দিয়ে থাকে এবং স্ত্রী স্পষ্ট নিয়তে গ্রহণ করে, তাহলে একটি বায়েন তালাক পতিত হবে।

  3. "আচ্ছা" বলে পরে "না" বললে — যদি গ্রহণের নিয়ত না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না। নিয়তই মূল বিষয়।

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

শায়খ ইবনে বায (রহঃ) বলেন:

الواجب على المسلم أن يتقي الله في زوجته، ولا يتسرع في الطلاق، فإن الطلاق من أحب الحلال إلى الله ولكن أبغضه إليه "প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা এবং স্ত্রীর ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা। কেননা তালাক আল্লাহর নিকট হালাল বস্তুর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ২২/৩০)

তালাক একটি গুরুতর বিষয়। রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

لَا تَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَأَنْتَ غَضْبَانُ "রাগান্বিত অবস্থায় দুইজনের মধ্যে ফয়সালা করো না।" (বুখারী: ৭১৫৮, মুসলিম: ১৭১৭)


দ্রষ্টব্য: এই উত্তরটি সাধারণ ফতোয়া হিসেবে প্রদত্ত। বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট মামলার জন্য স্থানীয় আলেম বা ইসলামি আদালতের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.