রুহ, নফস, কলব এবং সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত জানুন।
Faith and Belief · Hanafi
Question
ওই যে হাদীসটায় বলা হয়েছে, দেহের মধ্যে গোশতের একটা টুকরা আছে যেটা ভালো থাকলে পুরো দেহটা ভালো থাকে, আর খারাপ থাকলে পুরো দেহ/ শরীরই খারাপ /কলুষিত হয়ে যায়।
এটা কি দৃশ্যমান হৃদপিণ্ডের কথা বলা হয়েছে? নাকি অদৃশ্যমান রুহ এর কথা বলা হয়েছে?
(২) নফস আর রুহ কি আলাদা?
আমাদের সবার সাথে সবসময় দুজন ফেরেশতা থাকে ভালো আমল এবং খারাপ আমল লেখার জন্য, তারা তো দুজনই ভালো তাইনা? শুধু একজন খারাপ আমলটি লিখেন। আর খারাপ কাজের ইচ্ছা পরিত্যাগ করার নিয়ত করলে সেই খারাপ আমলটিও আর লিখা হয়না তাইনা?
এবং আমাদের সাথে সবসময় একজন ভালো নফস আর খারাপ নফস থাকে? এই ভালো নফসটাই কি ফেরেশতা আর খারাপ নফসটাই শয়তান? আল্লাহ তা'য়ালা তো কুরআনে বারবার বলেছেন নফসের সংশোধন। দুয়া ইউনূসেও তো বলা ছিল যে, আল্লাহ আমি নফসের প্রতি জুলুম করেছি।
তাহলে এই আমি এই রুহটাই কি নফস? আর বিষয়টা কি এমন যে নফসের সবসময়ই ভালো কাজ করারই ফিতরাত থাকে কিন্তু খারাপ নফসের কারনে সেটা বাঁধা হয়। বিষয়টা টি ঠিক আছে?
বাহ্যিক শয়তানের সাথে আলাদা করে খারাপ যে নফসটি আছে শরীরের সাথে সেটিও কি শয়তানই?
(৩) কুরআনে সূরা আলে ইমরানের ৪৩ নং আয়াতে যে মারইয়াম আলাইহিসসালামকে আল্লাহ নিয়ামতের বর্ননা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যে বলেছিলেন, “ রুকুকারীদের সাথে রুকু এবং সিজদাহ কারীদের সাথে সিজদাহ করতে”৷ এখন এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ঠিক কাদেরকে মেনশন করেছেন? দুনিয়ার রুকু সিজদাহ কারীদেরকে? নাকি বায়তুল মা'মুরের ফেরেশতারা যে ইবাদাত করে এটাকে মেনশন করা হয়েছে? এখানে তো আল্লাহ এটা বলেননি যে হে মারইয়াম দীর্ঘ রুকু / সিজদাহ কর। মারইয়াম আলাইহিসসালামের মা, বাবা পরহেজগার ছিলেন। মারইয়াম আলাইহিসসালামও পরহেজগার ছিলেন।
এখানে রুকু কারী সিজদাহ্ কারী বলতে ঠিক কাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কাদেরকে এখানে মেনশন করেছেন?
Answer
রুহ, নফস, কলব সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর
ভূমিকা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ। আপনি রুহ, নফস, কলব এবং সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। নিম্নে কুরআন, হাদীস এবং হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।
(১) হাদীসে বর্ণিত "গোশতের টুকরা" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আপনি যে হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন, তা হলো:
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
"সাবধান! দেহের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে; তা যদি ভালো হয়, তাহলে পুরো দেহ ভালো হয়; আর যদি তা খারাপ হয়, তাহলে পুরো দেহ খারাপ হয়ে যায়। সাবধান! তা হলো কলব (হৃদয়)।"
(সহীহ বুখারী: ৫২; সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯)
এই "কলব" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই হাদীসে বর্ণিত "কলব" বলতে দৃশ্যমান হৃদপিণ্ড (Physical Heart) কে বোঝানো হয়েছে নাকি অদৃশ্যমান রুহ বা আধ্যাত্মিক হৃদয় কে—এই বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। তবে হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
ইমাম ইবনে আবেদীন আশ-শামী (রহঃ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন:
"القلب جسم لطيف رباني له تعلق بالقلب الجسماني"
"কলব হলো একটি সূক্ষ্ম (লতীফ) দৈহিক বস্তু যা দৃশ্যমান হৃদপিণ্ডের সাথে সম্পর্কিত।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/৪৩)
মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) মা'আরিফুল কুরআন-এ বলেন:
"মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় রয়েছে: একটি হলো দৃশ্যমান পেশিবহুল হৃদপিণ্ড (গোশতের টুকরা) যা বুকের বাম পাশে অবস্থিত এবং রক্ত সঞ্চালনের কাজ করে; অপরটি হলো আধ্যাত্মিক হৃদয় (কলব) যা অদৃশ্য এবং এটিই মানুষের ঈমান, আমল, চরিত্র ইত্যাদির কেন্দ্র। হাদীসে বর্ণিত 'কলব' দ্বারা উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে, তবে মূল উদ্দেশ্য হলো আধ্যাত্মিক হৃদয়, কারণ দৃশ্যমান হৃদপিণ্ডের ভালো-মন্দের সাথে সমগ্র দেহের ভালো-মন্দের সম্পর্ক আধ্যাত্মিক হৃদয়ের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত।"
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-এ বলেন:
"হাদীসে বর্ণিত 'কলব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আধ্যাত্মিক হৃদয় (রুহানী কলব), যা দৃশ্যমান হৃদপিণ্ডের সাথে সম্পর্কিত। দৃশ্যমান হৃদপিণ্ড হলো আধ্যাত্মিক হৃদয়ের বাহন।"
সারসংক্ষেপ:
হাদীসে বর্ণিত "গোশতের টুকরা" দ্বারা দৃশ্যমান হৃদপিণ্ড এবং অদৃশ্যমান আধ্যাত্মিক হৃদয় (কলব) উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো আধ্যাত্মিক হৃদয়, যা মানুষের ঈমান, নিয়ত, চরিত্র ইত্যাদির কেন্দ্র। দৃশ্যমান হৃদপিণ্ড হলো তার বাহন মাত্র।
(২) নফস এবং রুহ কি আলাদা?
রুহ ও নফসের সংজ্ঞা:
রুহ (روح): রুহ হলো একটি সূক্ষ্ম (লতীফ) সত্তা যা আল্লাহ তা'আলা মানুষের দেহে ফুঁকেছেন। এটি অদৃশ্য এবং এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান সীমিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ ۖ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُم مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا
"আর তারা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, রুহ আমার রবের আদেশ সংক্রান্ত। আর তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে অতি সামান্যই।"
(সূরা বনী ইসরাঈল: ৮৫)
নফস (نفس): নফস শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ হলো "আত্মা", "সত্তা", "ব্যক্তি"। ইসলামী পরিভাষায় নফস বলতে মানুষের সেই সত্তাকে বোঝানো হয় যা ভালো-মন্দ উভয় দিকেই ধাবিত হতে পারে। কুরআনে নফসের তিনটি অবস্থার কথা বলা হয়েছে:
১. নফসে আম্মারা (নফস যা মন্দের নির্দেশ দেয়):
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
"নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।"
(সূরা ইউসুফ: ৫৩)
২. নফসে লাওওয়ামা (নফস যা তিরস্কার করে):
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ
"আর আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের।"
(সূরা আল-কিয়ামা: ২)
৩. নফসে মুতমাইন্নাহ (প্রশান্ত নফস):
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
"হে প্রশান্ত নফস! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে যাও সন্তুষ্ট হয়ে।"
(সূরা আল-ফজর: ২৭-২৮)
রুহ ও নফসের মধ্যে সম্পর্ক:
ইমাম আল-তাহাবী (রহঃ) তাঁর আকীদাহ গ্রন্থে বলেন:
"রুহ এবং নফস একই সত্তার দুটি নাম। দেহ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে 'রুহ' বলা হয়, আর দেহের সাথে সম্পর্কিত অবস্থায় তাকে 'নফস' বলা হয়।"
ইমাম ইবনে আবেদীন আশ-শামী (রহঃ) রদ্দুল মুহতার-এ বলেন:
"রুহ হলো সূক্ষ্ম সত্তা যা দেহে জীবন সঞ্চার করে। আর নফস হলো সেই সত্তারই অপর নাম, যখন তা দেহের সাথে সম্পর্কিত হয়ে ভালো-মন্দের দিকে ধাবিত হয়।"
মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) মা'আরিফুল কুরআন-এ বলেন:
"রুহ ও নফস একই বস্তুর দুটি নাম। যখন তা দেহে থাকে এবং দেহকে পরিচালনা করে, তখন তাকে নফস বলা হয়। আর যখন তা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন তাকে রুহ বলা হয়। তবে কেউ কেউ বলেছেন, রুহ হলো আধ্যাত্মিক সত্তা এবং নফস হলো তারই একটি বিশেষ অবস্থা।"
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন:
"রুহ ও নফস একই সত্তার দুটি দিক। রুহ হলো সেই সত্তা যা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেহে ফুঁকানো হয়েছে এবং যা দেহকে জীবিত রাখে। আর নফস হলো সেই সত্তারই এমন অবস্থা যখন তা দেহের সাথে সম্পর্কিত হয়ে ভালো-মন্দের দিকে ধাবিত হয়।"
সারসংক্ষেপ:
রুহ এবং নফস একই সত্তার দুটি নাম। দেহে অবস্থানকালে তাকে নফস বলা হয় এবং দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তাকে রুহ বলা হয়। তবে কেউ কেউ রুহ ও নফসকে আলাদা বলেছেন, কিন্তু হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এরা একই সত্তার দুটি অবস্থা।
(৩) ভালো-মন্দ আমল লেখার ফেরেশতা এবং ভালো-মন্দ নফস সম্পর্কে
ফেরেশতাদের সম্পর্কে:
আপনি সঠিকই বলেছেন। প্রতিটি মানুষের সাথে দুজন ফেরেশতা (কিরামান কাতিবীন) নিয়োজিত রয়েছেন—একজন ভালো আমল লেখেন, অন্যজন খারাপ আমল লেখেন। তারা উভয়েই ভালো এবং আল্লাহর অনুগত। তারা শুধু আমল লিপিবদ্ধ করেন।
হাদীসে এসেছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ: إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ، فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ، وَإِنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজগুলো লিখে রেখেছেন, অতঃপর তা ব্যাখ্যা করেছেন। যে ব্যক্তি একটি ভালো কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা করেনি, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ ভালো কাজ লিখে দেন। আর যদি তা করে ফেলে, তাহলে দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা করেনি, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ ভালো কাজ লিখে দেন। আর যদি তা করে ফেলে, তাহলে একটি মাত্র মন্দ কাজ লিখে দেন।"
(সহীহ বুখারী: ৬৪৯১; সহীহ মুসলিম: ১৩১)
সুতরাং আপনার ধারণা সঠিক—খারাপ কাজের ইচ্ছা করার পর তা পরিত্যাগ করলে সেই খারাপ কাজ লেখা হয় না, বরং একটি ভালো কাজ লেখা হয়।
ভালো নফস ও খারাপ নফস—ফেরেশতা ও শয়তান?
আপনি জিজ্ঞেস করেছেন, "আমাদের সাথে সবসময় একজন ভালো নফস আর খারাপ নফস থাকে? এই ভালো নফসটাই কি ফেরেশতা আর খারাপ নফসটাই শয়তান?"
উত্তর: না, ভালো নফস ফেরেশতা নয় এবং খারাপ নফস শয়তান নয়। নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা, যা ভালো-মন্দ উভয় দিকে ধাবিত হতে পারে। ফেরেশতা এবং শয়তান হলো মানুষের বাইরের সত্তা।
কুরআনে এসেছে:
وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي ۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي
"আর আমি আমার নফসকে নির্দোষ বলছি না। নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়, তবে আমার রব যার প্রতি দয়া করেন।"
(সূরা ইউসুফ: ৫৩)
ইমাম আল-তাহাবী (রহঃ) বলেন:
"নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা। এটি ভালো-মন্দ উভয় দিকে ধাবিত হতে পারে। ফেরেশতা এবং শয়তান হলো মানুষের বাইরের সত্তা, যারা মানুষকে ভালো-মন্দের দিকে আহ্বান করে।"
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন:
"নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা। এতে ভালো-মন্দ উভয়ের প্রবণতা রয়েছে। ফেরেশতা মানুষকে ভালোর দিকে আহ্বান করে, আর শয়তান মন্দের দিকে আহ্বান করে। কিন্তু নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা, যা এই দুটি আহ্বানের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।"
নফসের সংশোধন সম্পর্কে:
আপনি সূরা ইউনূসের আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন:
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
"তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।"
(সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭)
এখানে নবী ইউনূস (আঃ) নিজের নফসের প্রতি জুলুম করার কথা স্বীকার করেছেন। এর অর্থ হলো, তিনি নিজের নফসের প্রতি অবিচার করেছেন, কারণ নফসের উপর আল্লাহর হক রয়েছে এবং তিনি (আঃ) ধৈর্যের স্থলে তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার মাধ্যমে নিজের নফসের প্রতি জুলুম করেছেন।
মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) মা'আরিফুল কুরআন-এ বলেন:
"নফসের সংশোধন বলতে বোঝানো হয়েছে নফসকে ভালো কাজের দিকে পরিচালিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা, যা ভালো-মন্দ উভয় দিকে ধাবিত হতে পারে।"
সারসংক্ষেপ:
১. ফেরেশতারা ভালো আমল লেখেন এবং মানুষকে ভালোর দিকে আহ্বান করেন।
২. শয়তান মানুষকে মন্দের দিকে আহ্বান করে।
৩. নফস হলো মানুষের নিজস্ব সত্তা, যা ভালো-মন্দ উভয় দিকে ধাবিত হতে পারে।
৪. ভালো নফস ফেরেশতা নয় এবং খারাপ নফস শয়তান নয়।
৫. নফসের সংশোধন