বিয়ের পর স্বামীর সাথে থাকার বিধান নিয়ে জানতে চাই

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4689
Questioner: Jannat Binte Alim
Question Asked: 31 Aug 2026, 10:59 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 04:36 AM
Views: 28
Tokens: 2,673
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফ্যামিলিগত মসজিদে কাবিন হয়, বাট বাসায় স্বামীর আসা নিষেধ, তিন মাস পর একেবারে তুলে নিলে আসা যাওয়া হবে। বাট দেড় মাসের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সাথে থাকার অনেক ইচ্ছে করে। এই অবস্থায় স্ত্রীর কি করনীয়??
স্বামীর ডাকে সারা দেওয়া নাকি আরও ১ মাস ওয়েট করা। এতে কি স্ত্রীর গোনাহ হবে??

Answer

বিয়ের পর স্বামীর সাথে থাকার ইচ্ছা ও স্ত্রীর করণীয়

উত্তর

প্রশ্নকারিণীকে প্রথমে জানিয়ে রাখছি, ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিয়ের পর স্ত্রীর উপর স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া এবং স্বামীর সাথে সহবাস করা ওয়াজিব (অবশ্য করণীয়)। এটি স্ত্রীর উপর স্বামীর বৈধ অধিকার। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন:

وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ "আর নারীদের জন্য তেমনি অধিকার রয়েছে, যেমনটি তাদের উপর রয়েছে (স্বামীর) ন্যায়সংগতভাবে; এবং পুরুষদের আছে তাদের উপর মর্যাদা।" (সূরা আল-বাকারা: ২২৮)

স্ত্রীর করণীয়

১. স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া: যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে এবং স্বামী স্ত্রীর সাথে থাকতে চাচ্ছে, তাই স্ত্রীর জন্য স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত। এটি স্ত্রীর উপর ওয়াজিব।

২. পারিবারিক চাপের বিষয়টি সমাধান করা: স্ত্রী তার পরিবারের সাথে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে, ইসলামী বিধান অনুযায়ী স্বামীর সাথে থাকা তার কর্তব্য। পরিবারের নিষেধাজ্ঞা শরীয়তের বিধানের বিপরীতে মান্য করা জায়েয নয়।

৩. মীমাংসার চেষ্টা: স্ত্রী উভয় পরিবারের সাথে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। তবে যদি পরিবার না মানে, তাহলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বামীর সাথে থাকা জরুরি।

গোনাহের বিষয়ে

যদি স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেয় এবং স্বামীর সাথে থাকতে অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রীর গোনাহ হবে। হাদীসে এসেছে:

إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ "যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে এবং স্ত্রী অস্বীকার করে, আর স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তখন সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ স্ত্রীকে অভিশাপ দেয়।" (সহীহ বুখারী: ৫১৯৩, সহীহ মুসলিম: ১৪৩৬)

ফাতাওয়া ও হানাফি কিতাবের আলোকে

রদ্দুল মুহতার (আল-হাসিয়া আলা আদ-দুররিল মুখতার)-এ উল্লেখ আছে:

يجب على المرأة تمكين زوجها من نفسها إذا طلبها في أي وقت "স্ত্রীর উপর স্বামী যেকোনো সময় দৈহিক সম্পর্কের দাবি করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব।"

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)-তে বলা হয়েছে:

إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه وجب عليها أن تجيبه "যখন স্বামী স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, তখন স্ত্রীর উপর সাড়া দেওয়া ওয়াজিব।"

পরিবারের নিষেধাজ্ঞার বিধান

পরিবারের নিষেধাজ্ঞা শরীয়তের বিধানের বিপরীতে মান্য করা জায়েয নয়। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে, পিতা-মাতার আদেশ যদি শরীয়তের কোনো ওয়াজিবের বিপরীতে হয়, তাহলে তা মানা জায়েয নয়। স্বামীর সাথে থাকা স্ত্রীর উপর ওয়াজিব, তাই পরিবারের নিষেধাজ্ঞা এখানে প্রযোজ্য হবে না।

পরামর্শ

১. স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া দেবেন এবং স্বামীর সাথে থাকার ব্যবস্থা করবেন। ২. পরিবারের সাথে বোঝাপড়ার চেষ্টা করবেন, তবে শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন করবেন না। ৩. যদি পরিবার চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে দ্বীনের বিধান অনুযায়ী চলাই উত্তম। ৪. এই বিষয়ে পরিবারের সাথে আলোচনার জন্য একজন আলেম বা মুফতির মাধ্যমে মধ্যস্থতা করতে পারেন।

উপসংহার: স্ত্রীর জন্য স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব। দেরি করা বা অপেক্ষা করা গোনাহের কারণ হবে। তাই স্ত্রীকে স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত এবং পরিবারের নিষেধাজ্ঞা শরীয়তের বিধানের বিপরীতে হওয়ায় তা মান্য করা জায়েয নয়।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ "আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.