বিয়ের আগে পাত্রপক্ষকে মানসিক সমস্যার কথা বলা জরুরি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4671
Questioner: Shima hadi
Question Asked: 31 Aug 2026, 04:12 PM
Reviewed & Published: 31 Aug 2026, 05:29 PM
Views: 27
Tokens: 5,878
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন বোন মানসিকভাবে পূর্ণ সুস্থ। ভদ্র।
বাহ্যিকভাবে সব ঠিক। নামাজি। দুয়া আমল করেন।
কিন্তু তার ধারাবাহিকভাবে 3রকম মানসিক রুটিন যায়;
১.কিছুদিন ভারসাম্যপূর্ণ। সাভাবিক।
২.কিছুদিন ৫ নামাজ , টয়লেট ইত্যাদি ফরজ কাজ বাদে বাকিপ্রায় 16/18/20 ঘণ্টা ধরে শুয়ে থাকেন। নমনীয় মনোভাব থাকে, তবে শুয়ে থাকতে নিষেধ করলে অপারগতা প্রকাশ করে(গভীর ঘুমায়না, তবে উঠতে চায়না, খেতে চায়না, কোন সাংসারিক কাজ করতে চায়না)
৩. কিছুদিন খুব বেশি এক্সাইটেড থাকেন অনেক একটিভ ও সেনসিটিভ থাকেন।
অনেকের মতে এটি বায়োলজিক্যাল সূত্রে পাওয়া বদভ্যাস।
রুকিয়া করে সবসময় ব্যালেন্স থাকার মুটামুটি চেষ্টা করলেও তিনি নিজের উপর পূর্ন চেষ্টা করতে পারছেননা।
যেহেতু বিষয়টা ধরা সূক্ষ্ম , সহজেই কেউ বুঝতে পারেনা,
কয়েকমাস তাঁর সঙ্গে থাকলে বিষয়টা স্পষ্ট হয় তাই পরিবার এটা ছেলে পক্ষকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনা। কারন তার এই লাইফ রুটিন শুনলে পাত্রপক্ষ ভুল বুঝে বড় ইস্যু মনে করে আগাবেনা , ফলে বিয়ে না হওয়ায় আরো মানসিক সমস্যা হতে পারে।
যেহেতু বর্তমান সমাজে এমন সমস্যা কমন,
অনেকেরই এ সমস্যা দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলছেনা।
এবং অনেকেই এটা গুরুতর মনে করেন না
এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সুস্থ হওয়ার আশায় বিষয়টা পাত্রকে না জানিয়ে বিয়ে দেয়া জায়েয?

Answer

উত্তর:

পূর্বের প্রশ্নেও আপনি এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, দ্বিতীয়বারে প্রশ্ন করার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে আপনার বোনের রোগ আসলেই খুবই গুরুতর।

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলে রাখি, ইসলাম ধর্মে বিবাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র বন্ধন। এই বন্ধন টিকিয়ে রাখার জন্য এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সততা ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।

আপনার বোনের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে পাত্রপক্ষকে না জানিয়ে বিয়ে দেওয়া জায়েয (বৈধ) হবে না এবং এটি ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল হবে।

দলিল ও যুক্তি:

১. হাদিসের নির্দেশনা: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১০১)। পাত্রপক্ষের কাছ থেকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা স্পষ্টতই ধোঁকা দেওয়ার শামিল।

২. বিবাহের উদ্দেশ্য: ইসলামে বিবাহের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো শান্তি, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুখী জীবন গঠন করা। পাত্রপক্ষ যদি আপনার বোনের এই মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানার পরও রাজি হয়, তবে তারা এই অবস্থাকে মেনে নিয়ে বিয়ে করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে তা সহ্য করার মানসিকতা নিয়ে আসবে। কিন্তু যদি পরে জানতে পারে, তাহলে এটি দাম্পত্য জীবনে বড় ধরনের অশান্তি, হতাশা এবং এমনকি বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।

৩. ফিকহের নীতি: হানাফি ফিকহের প্রখ্যাত ইমামগণ (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) এবং পরবর্তী যুগের ফকিহগণ (যেমন: ইমাম ইবনে আবিদীন) বিবাহের সময় এমন কোনো ত্রুটি বা রোগ গোপন করাকে বৈধ মনে করেননি। রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী) গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো পক্ষ বিবাহের সময় এমন কোনো ত্রুটি গোপন করে যা বিবাহের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, তবে অপর পক্ষের বিবাহ ভঙ্গ করার অধিকার রয়েছে। যদিও মানসিক রোগকে শারীরিক ত্রুটির মতো একই পর্যায়ে গণ্য করা হয়, তবুও এটি একটি গুরুতর বিষয় যা দাম্পত্য জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

৪. সুস্পষ্ট ধোঁকা: আপনি নিজেই লিখেছেন, "কয়েকমাস তাঁর সঙ্গে থাকলে বিষয়টা স্পষ্ট হয়"। এর অর্থ হলো, বিয়ের পর পাত্রপক্ষ এটি জানতে পারবেই। তখন তারা মনে করবে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। ফলে সম্পর্কের ভিত নষ্ট হয়ে যাবে।

সমাধান ও পরামর্শ:

১. সৎ উপায়ে জানানো: পাত্রপক্ষকে সরাসরি না বলে, তাদের সাথে একটি গোপনীয় ও সৌজন্যমূলক আলোচনার ব্যবস্থা করুন। তাদেরকে বোঝান যে, আপনার বোন একজন ভালো মানুষ, কিন্তু তার একটি মানসিক অবস্থা রয়েছে যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সে চেষ্টা করছে। এটি একটি "বায়োলজিক্যাল" বা মানসিক ভারসাম্যের সমস্যা, যা অনেকেরই থাকে এবং চিকিৎসা বা রুকিয়ার মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২. চিকিৎসার পরামর্শ: আপনার বোনের জন্য একজন ভালো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট) বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসার মাধ্যমে যদি সে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে, তাহলে পাত্রপক্ষকে জানানো সহজ হবে এবং তারা আশ্বস্ত হতে পারবে।

৩. পাত্রপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিন: বিষয়টি জানানোর পর পাত্রপক্ষ যদি বিয়ে করতে রাজি হয়, তবে এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে তারা তা মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। এটি ইসলামী নীতি অনুযায়ীই সঠিক।

সারকথা: পূর্বের প্রশ্নেও আপনি এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, দ্বিতীয়বারে প্রশ্ন করার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে আপনার বোনের রোগ আসলেই খুবই গুরুতর।

তাই এক্ষেত্রে আমরা জবাবে বলবোঃ- কোনো গুরুতর রোগ যাহা সাংসারিক জীবনকে প্রভাবিত করে,সেই রোগের বিষয়ে পাত্রকে না জানিয়ে বিয়ে দেওয়া জায়েয নয়

কেননা সেই রোগটি দাম্পত্য জীবনকে প্রভাবিত করবে।

এটি প্রতারণার শামিল এবং ইসলামে নিষিদ্ধ।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত রোগ সম্পর্কে পাত্রপক্ষকে না জানিয়ে বিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েয নয় এবং এটি একটি গুনাহের কাজ। এটি করলে আপনার বোনের ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বর্তমানে অনেক মানুষ মানসিক সমস্যাকে গুরুত্ব সহকারে না নিলেও, এটি একটি বাস্তব সমস্যা।

তাই সততার সাথে বিষয়টি উপস্থাপন করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ তায়ালা সৎ ও সত্যবাদী ব্যক্তিদের জন্য উত্তম প্রতিদান দেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.