তালাকের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ, স্বামীর অস্বীকৃতি এবং সহবাসের বিধান।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4608
Questioner: Jannat
Question Asked: 29 Aug 2026, 01:37 PM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 02:10 PM
Views: 19
Tokens: 3,898
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী বিভিন্ন কারন অকারনে রাগে অনেকবার ১ তালাক দিয়েছে বা শর্ত রেখেছেন এমন করলে তালাক হবে। এখন তালাকের এমন পরিস্থিতি হলে সহবাস করলে নাকি ১ তালাক থাকে না। কিন্তু এমন ২/ ৩ বার হয়েছে আমার মনে হচ্ছে কিন্তু আমার স্বামীর নাকি কিছু মনে নেই। আজকে নরমাল বিষয় নিয়ে বলছে তালাক যা আর সংসার করা লাগবে না। এখন এটার পর উনি বলেছে সহবাস করলেই হয় ইদ্দত বা আবার বিয়ে করা লাগে না এখন আমার মনে সন্দেহ হয় আগেও তো এমন হয়েছে এখন কি হবে আমার? আর আমার স্বামীর নাকি আগের কিছুই মনে নেই। আমার কি করা উচিত একটু বলেন দয়া করে

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। আমি হানাফি মাযহাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তালাকের মূলনীতি

ইসলামী আইনে তালাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে:

১. তালাকের গণনা: স্বামী যদি বিভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথকভাবে ১টি করে তালাক দিয়ে থাকে, তবে সেগুলো জমা হবে। অর্থাৎ, ১ম তালাকের পর আবার ২য় তালাক দিলে তা ২য় তালাক হিসেবে গণ্য হবে, এবং ৩য় তালাক দিলে তা ৩য় তালাক হিসেবে গণ্য হবে।

২. তালাকের শর্ত: যদি স্বামী শর্তারোপ করে বলে, "যদি তুমি এমন করো, তাহলে তালাক" — এবং সেই শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তালাক পতিত হবে।

আপনার প্রশ্নের উত্তর

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • আপনার স্বামী বিভিন্ন সময়ে রাগের বশে ১টি করে তালাক দিয়েছেন
  • শর্তারোপ করে বলেছেন, "এমন করলে তালাক হবে"
  • আপনার মনে হচ্ছে ২/৩ বার এমন হয়েছে
  • আপনার স্বামী বলছেন তার কিছু মনে নেই
  • আজ আবার বলেছেন "তালাক, সংসার করা লাগবে না"
  • এরপর বলেছেন "সহবাস করলেই হবে, ইদ্দত বা নতুন বিয়ে লাগবে না"

গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:

১. তালাকের সংখ্যা নির্ধারণ: তালাকের সংখ্যা নির্ধারণে স্বামীর স্মৃতি এবং স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্বামী অস্বীকার করে যে সে আগে তালাক দেয়নি, কিন্তু স্ত্রী মনে করে সে দিয়েছে — তাহলে এই বিষয়ে শরয়ী বিধান হলো, স্বামীর কথাই প্রাধান্য পাবে যদি সে শপথ করে। তবে যদি স্ত্রীর কাছে প্রমাণ থাকে (যেমন সাক্ষী), তাহলে সেটি বিবেচনা করা হবে।

২. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত: যদি স্বামী অস্বীকার করে যে সে তালাক দিয়েছে, এবং স্ত্রী দাবি করে যে সে দিয়েছে — তাহলে স্বামীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি না স্ত্রীর কাছে সাক্ষী থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫৩)

৩. তালাকের পর সহবাস: যদি ১ম বা ২য় তালাকের পর (রাজয়ী তালাক) ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সহবাস করে, তাহলে তা রুজু (ফিরে আসা) হিসেবে গণ্য হবে এবং বিয়ে বহাল থাকবে। কিন্তু ৩য় তালাকের পর সহবাস করলে তা বৈধ হবে না এবং বিয়ে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাবে।

আপনার করণীয়

এমন ২-৩ বার হয়েছে অর্থাৎ আপনার স্বামীর দুই-তিনবার শর্ত যুক্ত তালাকের পর দুই তিনবারই শর্ত ভঙ্গ হয়েছে।

তার মানে তিনি যে কয়বার শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছেন, এক্ষেত্রে যতবার সে শর্তগুলো ভঙ্গ হয়েছে, তত তালাকই আপনার উপর পতিত হয়েছে।

যদি ১/২ তালাক পতিত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তিনি যেহেতু স্পষ্ট বাক্যে শর্তযুক্ত তালাক দিয়েছেন,তাই সহবাস করে নিলে যথেষ্ট হবে। তথা ফিরিয়ে নেয়া হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি তিন বা তার চেয়ে বেশি তালাক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে শরয়ী হালালাহ ব্যাতিত তার সাথে ঘর সংসার করার আর কোনো সুযোগ নেই।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.