ব্যাংকের IT Department এর Data centre এ জব করা জায়েজ কি?২য় প্রশ্ন:রেফারেন্সে জব পেলে সেটা জায়েজ আছে কিনা?
Business and Job · Hanafi
Question
১) প্রাইভেট ব্যাংকের IT Department এ সরাসরি ডেটা সেন্টারে জব করা জায়েজ আছে কি?এটা সম্পূর্ণভাবে আলাদা অফিস কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে।বর্তমান পরিস্থিতিতে জব পাওয়া যাচ্ছে না বিধায় কেউ যদি এখানে জব করে তবে কি জায়েজ হবে?
২)
আমার প্রশ্ন হল 'রেফারেন্স' এ কোনো চাকরি হলে সেটার উপার্জন জায়েজ হবে কিনা। BFRI, BRRI, BARI ইত্যাদি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে লিখিত পাশ করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য সিলেক্ট হলে অনেকে স্যারদের রেফারেন্স এর শরণাপন্ন হয়, মৌখিক এর জন্য সাধারণত বরাদ্দকৃত আসনের ৩গুণ ক্যান্ডিডেটকে ডাকা হয়, আমার জানা সম্ভব নয় যে আমার মেরিট (পজিশন) কত? এমতাবস্থায়, আমি যদি কোনো টিচার এর রিকমেন্ডেশন নেই, তাহলে সেটা আমার জন্য ঠিক হবে কিনা?
আমাদের রিসার্চ সেক্টরগুলো অনেক বেশি দূর্নীতিগ্রস্ত, প্রায় ৯০% অযোগ্য ব্যক্তিরা চাকরির সুযোগ পায়,তাদের অধিকাংশ আসে দলীয় ক্ষমতা প্রয়োগে। সেক্ষেত্রে আমি যদি ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভাইভা পর্যন্ত গিয়ে কোনো টিচারের রেফারেন্স নিয়ে চাকরি পাই সেটা কি হালাল হবে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন ১: প্রাইভেট ব্যাংকের IT ডিপার্টমেন্টে ডেটা সেন্টারে চাকরি করা জায়েজ কি না?
উত্তর: প্রাইভেট ব্যাংকের IT ডিপার্টমেন্টে বা ডেটা সেন্টারে চাকরি করা জায়েজ আছে কি না, তা নির্ভর করে কাজের প্রকৃতির উপর। যদি আপনার কাজ শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার (যেমন: সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্কিং, ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আপনি সরাসরি সুদী লেনদেন (যেমন: সুদ হিসাব করা, সুদ আদায়-প্রদান, সুদভিত্তিক চুক্তি সম্পাদন) বা হারাম কাজে (যেমন: হারাম বিনিয়োগ, জুয়া, শেয়ারবাজার) সহায়তা না করেন, তবে মূল কাজটি জায়েজ। তবে, যেহেতু ব্যাংক একটি সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, তাই সেখানে কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। ফুকাহায়ে কেরামগণ বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কাজে নিয়োজিত থাকে যা সুদী লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়, বরং এটি একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত সেবা, তবে তা জায়েজ হওয়ার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু যদি কাজটি সুদী লেনদেনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন বা সহায়তা করে, তবে তা জায়েজ হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৫/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৪৫)
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, ডেটা সেন্টারটি ব্যাংকিং সেক্টরের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে। যদি আপনার কাজটি ব্যাংকের সুদী কার্যক্রমকে সরাসরি সহায়তা করে (যেমন: সুদী লেনদেনের সফটওয়্যার তৈরি বা রক্ষণাবেক্ষণ), তবে তা জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি আপনার কাজটি শুধুমাত্র সাধারণ প্রযুক্তিগত সহায়তা হয় (যেমন: নেটওয়ার্ক বা সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ) এবং সুদী লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়, তবে তা জায়েজ হওয়ার অবকাশ রয়েছে। বর্তমান বেকারত্বের কারণে চাকরি না পাওয়া একটি বাস্তব সমস্যা, তবে হারাম কাজে জড়িয়ে পড়া জায়েজ নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)
প্রশ্ন ২: রেফারেন্স বা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া জায়েজ কি না?
উত্তর: রেফারেন্স বা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া জায়েজ, যদি প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে যোগ্য হয় এবং সুপারিশটি অন্যায় বা দুর্নীতির মাধ্যমে না হয়। ইসলামে যোগ্য ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের কাজের দায়িত্ব অর্পণ করে, অথচ সে জানে যে, তাদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তি রয়েছে, সে আল্লাহ, রাসূল এবং মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১৫০)
আপনি যদি ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভাইভা পর্যন্ত যান এবং আপনার মেধা ও যোগ্যতা থাকে, তাহলে কোনো শিক্ষকের রেফারেন্স নেওয়া জায়েজ হবে, যদি সেই রেফারেন্সটি অন্যায়ভাবে অন্য কারও অধিকার খর্ব করার জন্য না হয়। তবে, যদি রেফারেন্সটি ঘুষ বা অন্যায় সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে হয়, তবে তা হারাম। আপনার ক্ষেত্রে, যেহেতু আপনি জানেন না আপনার মেধা তালিকায় অবস্থান কোথায়, তাই আপনি যদি কোনো শিক্ষকের নিকট সুপারিশ চান, তবে তা জায়েজ হবে, যদি আপনি প্রকৃতপক্ষে যোগ্য হন এবং সেই সুপারিশটি অন্যায়ভাবে কাউকে বঞ্চিত করার জন্য না হয়। তবে, যদি আপনি জানেন যে, আপনার চেয়ে বেশি যোগ্য কেউ আছে এবং আপনি সুপারিশের মাধ্যমে তাকে বঞ্চিত করছেন, তবে তা জায়েজ হবে না। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩০৫)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তাওফিক দান করুন। আমিন।