বিয়ের আগের দিন মেহেদী দেওয়া, নাশিদ শোনা জায়েজ কিনা?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
বিয়ের আগের দিন বোনরা মিলে আর কিছু আত্নীয়স্বজনরা (মেয়ে) মিলে কনের হাতে মেহেদী দিবে আর সবাই সবার হাতে মেহেদী দিবে। আর কিছু খাবার মেহমানের জন্য আয়োজন করবে কনের বাসার মানুষ আর ঘর পরিপাটি রাখবে আর নাশিদ শুনবে। আর মেয়েরা হালকা একটু সাজবে আর ভালোজামা পরবে। কোনো ছেলেমানুষ থাকবে না সেখানে।
নিয়ত কোনো মেহেন্দির অনুষ্টান না
নিয়ত হল বউয়ের হাতে মেহেদী দিবে আর বোনরাও দিবে আর মেহমান এসেছে তাই ঘর পরিপাটি আর খাবারের আয়োজন করা হয়েছে আর কালকে বিয়ে তাই একটু আনন্দে নাশিদ শুনবে সবাই আর মেহেদী দিবে আর আত্নীয়রা(মেয়েরা) বেড়াতে আসবে তাই একটু ভালোজামাকাপড় পরবে আর হালকা সাজবে আর কনের বাসায় মেহমান আসবে তাই কনে ভালো জামা পরবে আর একটু সাজবে। এই নিয়ত।
এটা কি জায়েজ হবে?
পরের দিন বিয়ে সুন্নাহ মোতাবেক হবে।কোনো অপসংস্কৃতি হবে না।
এখন আমি জানতে চাচ্ছি এই মেহেদী দেওয়ার বিষয়টা কি অপসংস্কৃতি হয়ে যাবে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের বিবরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, বিয়ের আগের দিন মেহেদী দেওয়া, নাশিদ শোনা, মেয়েরা একত্রিত হওয়া এবং হালকা সাজসজ্জা করা—এসবের নিয়ত কোনো অপসংস্কৃতি বা বিদ'আত পালনের জন্য নয়, বরং এটি একটি সাধারণ সামাজিক আনন্দ ও মেহমানদারির আয়োজন। ইসলামে বিবাহ একটি সুন্নত এবং আনন্দের বিষয়। তাই বিবাহ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা, মেহমানদের আপ্যায়ন করা এবং খাবার পরিবেশন করা বৈধ।
মেহেদী দেওয়ার বিধান: মেহেদী দেওয়া বা লাগানো ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ নয়। এটি একটি প্রসাধনী বা সাজসজ্জার মাধ্যম, যা মহিলাদের জন্য বৈধ। তবে শর্ত হলো, এটি এমন কোনো অনুষ্ঠানে পরিণত না হওয়া যেখানে শরীয়তবিরোধী কাজ হয় (যেমন: গান-বাজনা, অশ্লীল নাচ, পুরুষের উপস্থিতি, ইত্যাদি)। যেহেতু আপনি উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে কোনো ছেলেমানুষ (পুরুষ) থাকবে না এবং শুধুমাত্র মেয়েরা থাকবে, তাই এটি জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ।
নাশিদ শোনা: নাশিদ (ইসলামী গান বা কবিতা) শোনা জায়েয, যদি তা এমন হয় যা ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার পরিপন্থী না হয় এবং সাথে বাদ্যযন্ত্র না থাকে। তবে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সাজসজ্জা ও ভালো জামা পরা: মেয়েদের জন্য নিজেদের মধ্যে সাজসজ্জা করা এবং ভালো পোশাক পরা বৈধ, যতক্ষণ তা শরীয়তের পর্দার নিয়ম মেনে হয় এবং অশ্লীলতা না থাকে। যেহেতু সেখানে পুরুষ থাকবে না, তাই এটি জায়েয।
ঘর পরিপাটি রাখা ও খাবারের আয়োজন: মেহমানদের জন্য ঘর পরিপাটি রাখা এবং খাবারের আয়োজন করা একটি ভালো কাজ এবং এর জন্য সওয়াবও রয়েছে। এটি কোনো অপসংস্কৃতি নয়।
মেহেদী দেওয়াকে অপসংস্কৃতি বলা যাবে কি? যেহেতু আপনার নিয়ত কোনো অপসংস্কৃতি বা বিদ'আত পালনের নয়, বরং এটি একটি সাধারণ আনন্দের আয়োজন এবং মেহমানদারি, তাই এটি অপসংস্কৃতি হবে না। তবে যদি কোনো এলাকায় মেহেদী দেওয়াকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে মনে করা হয় বা এর সাথে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ যুক্ত থাকে, তবে তা এড়িয়ে চলা উচিত। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, এটি জায়েয।
সতর্কতা: ১. নিশ্চিত করুন যে, নাশিদ বা গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না হয়। ২. মেয়েদের সাজসজ্জা যেন শরীয়তের পর্দার নিয়ম মেনে হয় এবং অশ্লীল না হয়। ৩. কোনো প্রকার অপচয় বা বাড়াবাড়ি না করা। ৪. ব্যয় যেন পরিমিত হয় এবং কারো ওপর চাপ সৃষ্টি না হয়।
দলিল:
- কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র বস্তু সৃষ্টি করেছেন তা হারাম করবেন কে?" (সূরা আল-আ'রাফ: ৩২)
- হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "বিবাহ হলো আমার সুন্নত।" (ইবনে মাজাহ)
- বিবাহ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা এবং দফ বাজানো জায়েয হওয়ার হাদিস রয়েছে। (সহীহ বুখারী)
সারসংক্ষেপ: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, বিয়ের আগের দিন মেহেদী দেওয়া, নাশিদ শোনা, মেয়েদের সাজসজ্জা এবং খাবারের আয়োজন করা—এসব জায়েয এবং অপসংস্কৃতি নয়, যদি শরীয়তের নিয়ম মেনে চলা হয় এবং কোনো নিষিদ্ধ কাজ না থাকে। আপনার নিয়ত সঠিক থাকায় এটি বিদ'আত বা অপসংস্কৃতি হবে না।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।