স্বামীর নিয়ত না থাকলে শর্তযুক্ত তালাক হয় কি?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4497
Questioner: Sagorika Tasnim
Question Asked: 26 Aug 2026, 12:01 PM
Reviewed & Published: 26 Aug 2026, 01:20 PM
Views: 15
Tokens: 14,406
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী আমাকে বলেছিলেন micro cheating বা cheating মানে উনাকে ধোঁকা বা না জানিয়ে কিছু করলে দিলে বাকি দুইটা হয়ে যাবে বা বাকি দুইটা তালাক হয়ে যাবে নিয়ত করে রাখলাম । মানে আমি যদি ভবিষ্যতে ওইরকম কিছু করি তাহলে উনি সরাসরি তালাক দিলে তখন হবে এটা বুঝিয়েছেন অটোমেটিক্যালি হবে এমন বলেন নি উনি পরে সরাসরি দিলে হবে ।আমার স্বামী আমাকে কোনো শর্তযুক্ত তালাক দেন নি নিয়ত ও ছিলোনা শুধু মাত্র আমাকে ভয় দেখানোর জন্য রাগ করে বলেছেন যেনো সাবধানে থাকি উনি আমাকে ঝগড়ার সময় চুপ করানোর জন্যে বলেন স্বামী নিশ্চিত করেছেন যে উনি কোনো শর্তযুক্ত তালাক দেন নি কখনো। সত্যি সত্যি কোন শর্তযুক্ত তালাক দেন নি।হুজুর আমার স্বামী বলেছেন যে উনি শর্তযুক্ত কোনো তালাক দেন নি আরেকটা কথা cheating করলে তালাক হয়ে যাবে বা micro cheating করলে বাকি দুইটা হয়ে যাবে নিয়ত ছাড়া ভয় দেখানোর জন্যে নিয়ত ছাড়া সাবধানে রাখার জন্যে বলেছেন ।উনি বলেছেন উনি শর্ত দেন নি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন এবং সেটাও মন থেকে বলেন নি এবং পরে উনি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন পরের দিন । যেহেতু নিয়ত ছাড়া বলেছেন তাই উঠিয়ে না নিলে কি কোনো সমস্যা হবে । উনি আমাকে শাসন করার জন্যে বলেছেন তালাকের কোনো নিয়ত ছিলো না আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে ওসিডিট্রিটমেন্ট চলছিল । আমার আমার স্বামীর অন্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিলো এক পর্যায়ে আমাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং আমার স্বামী আমাকে পূর্বে একটি শর্তযুক্ত তালাকের মত কথা বলেছিলেন তাই ওইটার রাগ দেখাচ্ছিলাম স্বামীকে উনি বার বার আমাকে খোঁচা মেরে কথা বলার কারণে তখন আমি বলি যে আপনার কি শর্তপূরণ হয়েছে শর্ত দিয়ে থাকলে উনি বলেন যে কোনো তুই কি কাজটি করেছি করে থাকলে হয়েছে আমি রাগ করে মিথ্যা কথা বলি যে তাহলে হয়ে গেছে আপনার আর কিছু বলার আছে আমাকে উনি বলেন যে যেহেতু বিয়ের পরে cheat করেছিস তাহলে আর কিছু বলার নাই তোকে get lost আমি বলি যে করিনি বলি যে না আপনার তো আবার চিন্তা ধারা অন্য রকম উনি তখন বলেন যে তাহলে তুই কথা টা তুললি কেনো তুই আমাকে ছাড়তে চাস তাই তুলেছিস আমিও তোর কথাই রাজি(তালাকের নিয়ত ছাড়া বলেছেন তাতে কি কোনো সমস্যা হবে ) আমি তখন বলি যে ছাড়তে চাই না । এবং স্বামীকে মিথ্যা বলার জন্যে উনি আমাকে বকাবকি করতে থাকেন যে এমন কথা বললি কেনো। এতে কি কোনো সমস্যা হবে

Answer

শর্তযুক্ত তালাক (তালাক মু'আল্লাক) ও এর বিধান সম্পর্কে উত্তর

পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

আপনার স্বামী শর্তযুক্ত তালাকের বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেছেন যে:

  1. তিনি শর্তযুক্ত তালাকের নিয়ত করেননি
  2. তিনি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন
  3. তিনি পরের দিন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন
  4. কথা বলার সময় তার তালাকের কোনো নিয়ত ছিল না
  5. তিনি রাগান্বিত ছিলেন এবং ঝগড়ার সময় আপনাকে চুপ করাতে চেয়েছিলেন

শর্তযুক্ত তালাক (তালাক মু'আল্লাক) এর বিধান

মূলনীতি: নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى" "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯০৭)

নিয়ত ছাড়া শর্তযুক্ত তালাক সম্পর্কে আলেমদের মতামত

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে, 'তুমি যদি অমুক কাজ করো, তবে তুমি তালাক', এবং সে তালাকের নিয়ত না করে বরং ভয় দেখানো বা শাসন করার নিয়ত করে, তাহলে সঠিক মত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হবে না, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।'"

শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীকে বলেছিল, "তুমি যদি তোমার মায়ের বাড়িতে যাও, তবে তুমি তালাক", কিন্তু সে শুধু তাকে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিল। তিনি উত্তর দেন:

"যদি সে তাকে বিরত রাখার নিয়ত করে এবং তালাকের নিয়ত না করে, তাহলে তার উপর তালাক পতিত হবে না, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।' তবে, যদি সে তালাকের নিয়ত করে, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে।"

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বলে, 'তুমি যদি অমুক কাজ করো, তবে তুমি তালাক', এবং সে তালাকের নিয়ত না করে বরং শাসন করা বা ভয় দেখানোর নিয়ত করে, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে না, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।'"

আপনার স্বামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. আপনার স্বামী নিশ্চিত করেছেন যে তার শর্তযুক্ত তালাকের কোনো নিয়ত ছিল না
  2. তিনি শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছিলেন
  3. তিনি পরের দিন তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন
  4. তিনি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলেছিলেন

শায়খ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি রাগান্বিত অবস্থায় তালাক উচ্চারণ করে, তালাকের নিয়ত ছাড়া, এবং শুধু ভয় দেখানো বা শাসন করার জন্য, তাহলে শক্তিশালী মত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হবে না, বিশেষ করে যদি সে পরে নিশ্চিত করে যে তার কোনো নিয়ত ছিল না।"

আপনার "রাজি" বলার বিষয়ে

যখন আপনার স্বামী বলেছিলেন "আমিও তোর কথাই রাজি" (তালাকের অর্থে), তখন:

  • যদি তিনি তালাকের নিয়ত ছাড়া এটি বলেন, এবং তিনি এটি নিশ্চিত করেন, তাহলে কোনো তালাক সংঘটিত হবে না
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল"

শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন:

"যদি স্বামী তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে তালাকের নিয়ত ছাড়া, এবং সে শুধু রাগের বশবর্তী হয়ে বা ঝগড়া শেষ করার জন্য উত্তর দেয়, তাহলে সঠিক মত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হবে না, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।'"

চিটিং সম্পর্কে আপনার মিথ্যা বলার বিষয়ে

আপনি উল্লেখ করেছেন যে আপনি রাগের বশবর্তী হয়ে মিথ্যা বলেছিলেন যে "হয়ে গেছে" (চিটিং হয়েছে)। এটি একটি পাপ, এবং আপনার উচিত:

  1. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা এই মিথ্যার জন্য
  2. আপনার স্বামীর কাছে ক্ষমা চাওয়া
  3. তওবা করা এবং ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা

আল্লাহ বলেন:

"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ" "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।" (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১১৯)

আপনার পরিস্থিতির বিধান

আলেমদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ভিত্তিতে:

  1. কোনো শর্তযুক্ত তালাক সংঘটিত হয়নি কারণ আপনার স্বামীর তালাকের নিয়ত ছিল না
  2. "রাজি" বলার কারণে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি কারণ তার নিয়ত ছিল না
  3. আপনার বিবাহ বৈধ ও অটুট রয়েছে এবং আপনারা এখনও স্বামী-স্ত্রী
  4. আপনাকে অবশ্যই তওবা করতে হবে চিটিং সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য

শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:

"মূলনীতি হলো, নিয়ত ছাড়া তালাক সংঘটিত হয় না। যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে তালাকের নিয়ত ছাড়া, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে না, সে রাগান্বিত হোক বা না হোক, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।'"

গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

  1. ওয়াসওয়াসাকে প্রাধান্য দেবেন না - আপনি উল্লেখ করেছেন যে আপনার ওসিডি (OCD) সমস্যা রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। এই ওয়াসওয়াসাগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, এবং আপনার উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।

  2. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যা করতে বাধ্য করা হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২০৪৫; সহীহ)

  1. আপনার স্বামীকে উপদেশ দেওয়া উচিত তালাককে হুমকি হিসেবে ব্যবহার না করতে, কারণ এটি একটি গুরুতর বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ" "আল্লাহর কাছে বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো তালাক।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২১৭৮; সহীহ)

উপসংহার

আপনার বিবাহ বৈধ ও অটুট রয়েছে। কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি কারণ:

  1. আপনার স্বামীর তালাকের নিয়ত ছিল না
  2. তিনি এই কথাগুলো শুধু ভয় দেখানো ও শাসন করার জন্য বলেছিলেন
  3. তিনি তার কথা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন
  4. নিয়তের মূলনীতি প্রযোজ্য

আপনাকে অবশ্যই:

  • চিটিং সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য তওবা করতে হবে
  • আল্লাহ ও আপনার স্বামীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে
  • আপনার ওসিডি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে
  • ওয়াসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে

আপনার স্বামীর উচিত:

  • তালাকের হুমকি না দেওয়ার বিষয়ে উপদেশ গ্রহণ করা
  • আপনার সাথে আচরণে আল্লাহকে ভয় করা
  • তালাকের গুরুতরতা বোঝা

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.