পিতার দায়িত্বহীনতা ও খারাপ আচরণের কারণে সন্তানদের করণীয়

Family Life · Hanafi

Question No: 4426
Questioner: Study Buddy
Question Asked: 24 Aug 2026, 10:27 PM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 10:33 PM
Views: 32
Tokens: 2,998
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

assalamualikum
amra 4 bon ami shobar boro . amr baba beche thekeo beche nai . onek opportunity thakar por o kono kaj korte chan na shudu onner upr depend kore thaken amader niye kono chinta nai unar basha kivave choble kono chinta nai amr ammu Housewife otoccho amr baba sharadin shuye boshe katan din seshe eshe amader kache ammu r kache tk khujen eidik ammu amader niye onek kosto survive korche . tarpor baba unar nij family members der sathe o khub kharap behaviour koren jar fal e tara unak kharap bole na amader bonder ovishap dey . tarpor amr baba namok bondo tar personality teo somossha ache . mane Joto doroner baje obbash thaka jay ekta manush er moddhe shob e ache. chaite iccha korena unar dikhe . kintu ami toh meye ghor theke ber hoye jeteo parbo na geleo kutuay jabo amr bonder ma k chere ora j khub disturbed . amr majhe moddhe abbu k niye khub kharap dua ashe tarpor abar tawba kori . ki kora uchit amr ?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার পারিবারিক পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন এবং সংবেদনশীল। আপনার অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও সাহায্য দান করুন।

আপনার উত্তরে আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করব:

১. পিতার অবাধ্যতা ও দায়িত্বহীনতা: ইসলামে পিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব অপরিসীম। তবে পিতারও সন্তান ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর পিতার দায়িত্ব হচ্ছে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের (সন্তানদের) খোরাকি ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।" (সূরা বাকারা: ২৩৩)

আপনার পিতা যদি কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাজ না করে পরিবারের দায়িত্ব পালন না করেন, তবে এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, আপনারা তার প্রতি দায়িত্বহীন হয়ে যাবেন। পিতার অবাধ্যতা সন্তানের জন্য জায়েয নয়, তবে পিতার অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করা এবং তাকে সৎপথে আনার চেষ্টা করা আপনার কর্তব্য।

২. পিতার সাথে আচরণ: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।" (বুখারী ও মুসলিম)

তবে পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ফরজ। এমনকি পিতা যদি অন্যায়ও করেন, তবুও তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তার অন্যায় আচরণকে সমর্থন করতে হবে। আপনি তাকে নরম ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করবেন, কিন্তু যদি তিনি না শোনেন, তাহলে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করবেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।

৩. আপনার মা ও বোনদের প্রতি দায়িত্ব: আপনার মা একজন গৃহিণী এবং আপনার বোনেরা আপনার উপর নির্ভরশীল। আপনি তাদের প্রতি দায়িত্বশীল। তবে মনে রাখবেন, আপনার পিতার দায়িত্ব হচ্ছে পরিবারের ভরণপোষণ করা। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, আপনি এবং আপনার বোনেরা যদি উপার্জন করতে সক্ষম হন, তাহলে আপনারা পরিবারের জন্য কাজ করতে পারেন। তবে এটি করার সময় পিতার অনুমতি নেওয়া উত্তম, কিন্তু যদি তিনি অনুমতি না দেন এবং পরিবারের প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনি কাজ করতে পারেন।

৪. পিতার জন্য খারাপ দোয়া করা: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, মাঝে মাঝে আপনার পিতার জন্য খারাপ দোয়া চলে আসে, তারপর তাওবা করেন। এটি স্বাভাবিক মানবিক দুর্বলতা। তবে ইসলামে পিতার জন্য খারাপ দোয়া করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"তোমরা নিজেদের উপর, নিজেদের সন্তানদের উপর, নিজেদের সম্পদের উপর অভিশাপ দিও না। কারণ এমন হতে পারে যে, তা এমন সময় পৌঁছে যাবে যখন আল্লাহ তা কবুল করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।" (মুসলিম)

তাই আপনি যখনই এমন খারাপ দোয়া করার ইচ্ছা করবেন, তখনই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়বেন এবং আল্লাহর কাছে পিতার হিদায়াতের জন্য দোয়া করবেন।

৫. আপনার করণীয়:

  • ধৈর্য ধারণ করুন: আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারা: ১৫৩)
  • পিতার জন্য দোয়া করুন: আল্লাহর কাছে পিতার হিদায়াতের জন্য দোয়া করুন। দোয়া করলে আল্লাহ পিতার অন্তর পরিবর্তন করতে পারেন।
  • পিতাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন: নরম ভাষায়, ভালোবাসা দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে কোনো সম্মানিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে বোঝান।
  • মা ও বোনদের পাশে থাকুন: তাদের প্রতি দায়িত্বশীল থাকুন। প্রয়োজনে কাজ করে পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা করুন।
  • বিয়ে সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি মেয়ে হয়ে ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। তবে শরীয়তে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (যেমন: শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় কাজ) ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয আছে। তবে বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া উচিত নয়। আপনি যদি পরিবারের প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য কাজ করতে চান, তাহলে তা জায়েয হবে, তবে পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।

৬. বিয়ের বিষয়ে: আপনি উল্লেখ করেছেন যে, ঘর থেকে বের হয়ে গেলে আপনার বোনেরা কষ্ট পাবে। এটি আপনার দায়িত্ববোধের পরিচয়। তবে মনে রাখবেন, আপনার বিয়ে আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি কোনো ভালো প্রস্তাব আসে, তাহলে তা বিবেচনা করা উচিত। তবে বিয়ের পরও আপনি আপনার মা ও বোনদের খোঁজখবর রাখতে পারবেন।

৭. সর্বশেষ পরামর্শ: আপনার উচিত:

  • ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা।
  • পিতার জন্য দোয়া করা এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা।
  • মা ও বোনদের পাশে থাকা এবং তাদের প্রয়োজন মেটানো।
  • প্রয়োজনে কাজ করে পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা করা (পর্দার বিধান মেনে)।
  • পিতার জন্য খারাপ দোয়া থেকে বিরত থাকা এবং তাওবা করা।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও সাহস দান করুন এবং আপনার পরিবারের অবস্থার উন্নতি করুন। আমিন।

রেফারেন্স:

  • সূরা বাকারা: ২৩৩
  • সূরা বাকারা: ১৫৩
  • সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩০০৯
  • সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৬০১৮
  • ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৪
  • রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪১৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.