প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীর বিবাহ, কুফু এবং সাক্ষীদের কনেকে দেখার হুকুম সংক্রান্ত প্রশ্ন।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
মহোদয়,নিম্নে বর্ণিত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান ও ফতোয়া প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি:ঘটনার বিবরণ:একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে (উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক এবং হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছাত্র-ছাত্রী) একজন দ্বীনি শিক্ষক (হুজুর) এবং শরীয়তসম্মত দুজন মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) এর মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের সময় কনে পর্দার আড়ালে বা নেকাব পরিহিত অবস্থায় ছিল। বর ও কনে উভয়েই এই বিবাহে সম্পূর্ণরূপে রাজি এবং তারা জানে যে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে।কিন্তু পরবর্তীতে তৃতীয় এক ব্যক্তি (বাইরের একটি ছেলে) এই বিবাহের কথা জানতে পেরে দাবি করছে যে, তাদের বিবাহটি নাকি সহীহ বা বৈধ হয়নি। সে তার দাবির পক্ষে দুটি কারণ উল্লেখ করেছে:১. প্রথম কারণ (কুফু সংক্রান্ত): ওই তৃতীয় ব্যক্তির দাবি—যেহেতু বর একজন ছাত্র এবং বর্তমানে তার নিজস্ব কোনো স্থায়ী রোজগার বা আয়-উপার্জন নেই, তাই মেয়ের সাথে তার 'কুফু' বা সমতা মেলেনি। আর কুফু না মেলার কারণে এই বিবাহটি বাতিল বা অসিদ্ধ হয়েছে।২. ** can দ্বিতীয় কারণ (সাক্ষী সংক্রান্ত):** ওই ব্যক্তির দ্বিতীয় দাবি—বিবাহের সময় বা তার পূর্বে সাক্ষীদ্বয় কনে তথা মেয়েটির মুখমণ্ডল বা চেহারা দেখেনি। বিবাহের মজলিসেও মেয়েটি পর্দার আড়ালে বা নেকাবে ছিল। তার মতে, সাক্ষীরা কনের চেহারা না দেখলে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয় না, আর সাক্ষী সঠিক না হলে বিবাহও বাতিল।মুফতি সাহেবের নিকট প্রশ্নসমূহ:১. হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে উপস্থিত সাক্ষী ও হুজুরের সামনে ইজাব-কবুল করার পর, বর ছাত্র হওয়ার কারণে বা নিজস্ব উপার্জন না থাকার কারণে 'কুফু মেলেনি' এই অজুহাতে বিবাহ কি বাতিল বা অবৈধ হয়ে যাবে? বিশেষ করে যেখানে বর-কনে নিজেরা বিবাহে পুরোপুরি সন্তুষ্ট?২. বিবাহের সাক্ষ্য সহীহ হওয়ার জন্য সাক্ষীদের কি কনের চেহারা বা মুখমণ্ডল সরাসরি দেখা শর্ত? কনে পর্দার আড়ালে থেকে ইজাব-কবুল করলে এবং নাম-পরিচয় নির্দিষ্ট থাকার পরও কি চেহারা না দেখার কারণে সাক্ষ্য ও বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে?৩. শরীয়তের আলোকে ওই বর-কনের বিবাহটি কি বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে, নাকি ওই তৃতীয় ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী বিবাহটি বাতিল বা অসিদ্ধ গণ্য হবে?কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবুল্লাহর উদ্ধৃতিসহ (রেফারেন্স) এর একটি সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।
Answer
প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীর বিবাহ, কুফু এবং সাক্ষীদের কনেকে দেখার হুকুম
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين
প্রশ্নকারীর ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র ও ছাত্রী (উভয়েই হানাফি মাযহাবের অনুসারী) একজন দ্বীনি শিক্ষক এবং দুইজন মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-ও-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। কনে পর্দার আড়ালে বা নেকাব পরিহিত অবস্থায় ছিল। বর-কনে উভয়েই বিবাহে সন্তুষ্ট। কিন্তু তৃতীয় এক ব্যক্তি দাবি করছে যে, (১) বর ছাত্র হওয়ায় ও তার নিজস্ব উপার্জন না থাকায় কুফু (সমতা) না মেলায় বিবাহ বাতিল, এবং (২) সাক্ষীরা কনের চেহারা না দেখায় সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, তাই বিবাহ বাতিল।
১. কুফু (کفاءة) সংক্রান্ত বিধান
কুফুর সংজ্ঞা ও শর্ত
হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে কুফু (সমতা) বলতে বংশ, ধর্মপরায়ণতা, পেশা ও স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে সমতা বোঝানো হয়েছে। তবে কুফু বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত নয়, বরং এটি বিবাহের পূর্ণতা ও উত্তমতার শর্ত। অর্থাৎ কুফু না থাকলেও বিবাহ সহীহ (বৈধ) হয়ে যায়, তবে অভিভাবকদের আপত্তির অধিকার থাকে।
রদ্দুল মুহতার (দুররুল মুখতার)-এ উল্লেখ আছে:
(وشرط كونها) أي الكفاءة (معتبرة) أي معتبرا بها (في النكاح) لا لصحته بل للزومه
অর্থ: "কুফু বিবাহের শুদ্ধতার জন্য শর্ত নয়, বরং তা বিবাহের লাযিম (অবিচ্ছেদ্য) হওয়ার জন্য শর্ত।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৯৯)
কুফু না থাকলে বিবাহ বাতিল হয় না
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কুফু না থাকলেও বিবাহ সহীহ হয়ে যায়। তবে মেয়ের অভিভাবক যদি আপত্তি করেন, তাহলে বিচারক বিবাহ ভেঙে দিতে পারেন। কিন্তু বর-কনে উভয়ে যদি সন্তুষ্ট থাকে এবং অভিভাবকরাও আপত্তি না করেন, তাহলে বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ।
ফতোয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি)-তে উল্লেখ আছে:
الكفاءة معتبرة في النكاح عند أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - حتى لو تزوجت امرأة برجل غير كفء لها، فإن كان الزوج كفؤا لها في الدين خاصة جاز النكاح
অর্থ: "ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বিবাহে কুফু শর্ত। তবে যদি কোনো নারী নিজের অসম (غير كفء) পুরুষের সাথে বিবাহ করে, এবং উক্ত পুরুষ দ্বীনের দিক দিয়ে সমপর্যায়ের হয়, তাহলে বিবাহ জায়েয।" (ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৮)
বর ছাত্র হওয়া বা উপার্জন না থাকা কুফুর অন্তর্ভুক্ত নয়
হানাফি মাযহাবে কুফু বিবেচনার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গণ্য হয়:
- নসব (বংশ) - আরবদের ক্ষেত্রে
- দ্বীন (ধর্মপরায়ণতা) - ফাসিক ব্যক্তি পবিত্র নারীর সমান নয়
- পেশা (حرفة) - নিম্নমানের পেশার ব্যক্তি উচ্চমানের পেশার ব্যক্তির সমান নয়
- স্বাধীনতা - আযাদ ও গোলামের মধ্যে সমতা নেই
ছাত্র হওয়া বা বর্তমানে উপার্জন না থাকা কুফুর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ শিক্ষার্থী হওয়া একটি সম্মানজনক অবস্থা এবং ভবিষ্যতে তার উপার্জনের সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া সম্পদ বা ধন-সম্পদ কুফুর শর্ত নয়।
বাদায়েউস সানায়ে-তে উল্লেখ আছে:
وأما الحرفة فالمعتبر فيها عند أبي حنيفة رحمه الله تعالى حرفة الأب خاصة
অর্থ: "পেশার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে শুধুমাত্র পিতার পেশা বিবেচনা করা হবে।" (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১২৫)
অর্থাৎ বর নিজে ছাত্র হলেও তার পিতার পেশা যদি সম্মানজনক হয়, তাহলে কুফু বিদ্যমান। এমনকি বরের পেশা নিম্নমানের হলেও তা বিবাহ বাতিলের কারণ নয়, বরং তা শুধু অভিভাবকের আপত্তির কারণ হতে পারে।
অভিভাবকের সম্মতি থাকলে কুফুর আপত্তিও অগ্রাহ্য
যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, বর-কনে উভয়েই বিবাহে সন্তুষ্ট এবং বিবাহটি দ্বীনি শিক্ষক ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে, তাই কুফু না থাকলেও বিবাহ সহীহ। তৃতীয় ব্যক্তির (বাইরের ছেলের) আপত্তি করার কোনো অধিকার নেই, কারণ সে এই বিবাহের পক্ষ বা বিপক্ষ কেউ নয়।
রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:
وإنما تعتبر الكفاءة حقا للأولياء لا للزوجين
অর্থ: "কুফু বিবেচনা করা হয় অভিভাবকদের অধিকার হিসেবে, স্বামী-স্ত্রীর জন্য নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৯৯)
২. সাক্ষীদের কনের চেহারা না দেখার বিষয়টি
বিবাহের সাক্ষ্যের শর্ত কী?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিবাহের সাক্ষ্য সহীহ হওয়ার জন্য দুইজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানী (আকিল) পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকা শর্ত। সাক্ষীদের জন্য কনের চেহারা বা মুখমণ্ডল দেখা শর্ত নয়।
বিবাহের সাক্ষ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো ইজাব-ও-কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) সাক্ষীদের সামনে সম্পন্ন হওয়া এবং তারা তা শ্রবণ করা। সাক্ষীদের জন্য কনের চেহারা দেখা জরুরি নয়।
আল-হিদায়া-তে উল্লেখ আছে:
ولا بد من حضور شاهدين حرين عاقلين بالغين مسلمين أو شاهد وامرأتين
অর্থ: "দুইজন স্বাধীন, জ্ঞানী, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর উপস্থিতি আবশ্যক।" (আল-হিদায়া, ২/৩৪)
সাক্ষীদের কর্তব্য কী?
সাক্ষীদের কর্তব্য হলো ইজাব-ও-কবুল শোনা এবং বিবাহের বিষয়টি জানা। তারা কনের চেহারা দেখুক বা না দেখুক, নাম-পরিচয় জানা থাকলে এবং ইজাব-ও-কবুল তাদের সামনে সম্পন্ন হলে সাক্ষ্য সহীহ।
ফতোয়া হিন্দিয়া-তে উল্লেখ আছে:
وإن كان الشاهدان لا يعرفان المرأة بعينها ولكن عرفاها بالنسب والاسم جاز النكاح
অর্থ: "যদি সাক্ষীদ্বয় কনেকে চোখে না দেখে থাকে, কিন্তু নাম ও বংশ পরিচয়ে চিনে থাকে, তাহলেও বিবাহ জায়েয।" (ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৫)
পর্দার আড়ালে থেকে ইজাব-কবুল করা
ইসলামী শরীয়তে নারীর পর্দা করা ফরজ। বিবাহের সময় কনে পর্দার আড়ালে থাকা বা নেকাব পরিহিত থাকা সম্পূর্ণ বৈধ এবং তা বিবাহের শুদ্ধতার জন্য কোনো বাধা নয়। বরং এটি উত্তম ও পছন্দনীয়।
সুনানে আবু দাউদ-এ বর্ণিত আছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ»
অর্থ: "আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিবাহ নেই।'" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ২০৮৫)
এই হাদীসে সাক্ষীদের জন্য কনের চেহারা দেখার শর্ত উল্লেখ নেই। বরং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হওয়াই মূল শর্ত।
৩. তৃতীয় ব্যক্তির দাবির পর্যালোচনা
তৃতীয় ব্যক্তির দাবি কি গ্রহণযোগ্য?
তৃতীয় ব্যক্তি (বাইরের ছেলে) এই বিবাহের সাথে সম্পর্কিত নয়। সে neither অভিভাবক, neither পক্ষ। ইসলামী আইনে কুফুর আপত্তি করার অধিকার শুধুমাত্র মেয়ের অভিভাবকদের আছে। বাইরের কোনো ব্যক্তির এ বিষয়ে আপত্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই।
রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:
وإنما يعتبر اعتراض الأولياء لا اعتراض الأجانب
অর্থ: "শুধুমাত্র অভিভাবকদের আপত্তি বিবেচনা করা হবে, বাইরের লোকদের আপত্তি নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/১০১)
বিবাহের সিদ্ধান্ত
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে:
১. কুফু না থাকলে বিবাহ বাতিল হয় না - কুফু বিবাহ শুদ্ধতার শর্ত নয়, বরং তা লাযিম (অবিচ্ছেদ্য) হওয়ার শর্ত। বর-কনে সন্তুষ্ট থাকলে এবং অভিভাবকদের আপত্তি না থাকলে বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ।
২. সাক্ষীদের কনের চেহারা দেখা শর্ত নয় - সাক্ষীদের জন্য কনের চেহারা দেখা জরুরি নয়। তাদের সামনে ইজাব-ও-কবুল সম্পন্ন হওয়াই যথেষ্ট। কনে পর্দার আড়ালে থেকে ইজাব-কবুল করলে বিবাহ সহীহ।
৩. বর ছাত্র হওয়া বা উপার্জন না থাকা বিবাহ বাতিলের কারণ নয় - শিক্ষার্থী হওয়া একটি সম্মানজনক অবস্থা এবং তা কুফুর অন্তর্ভুক্ত নয়। এমনকি কুফু না থাকলেও বিবাহ বাতিল হয় না।
চূড়ান্ত ফতোয়া
প্রশ্নে বর্ণিত বিবাহটি সম্পূর্ণ বৈধ ও সহীহ। তৃতীয় ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী বিবাহটি বাতিল বা অসিদ্ধ হবে না। কারণ:
১. বিবাহটি শরীয়তসম্মত দুইজন মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-ও-কবুলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ২. বর-কনে উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিবাহে সন্তুষ্ট। ৩. কুফু না থাকলে বিবাহ বাতিল হয় না, বরং তা সহীহই থাকে। ৪. সাক্ষীদের কনের চেহারা দেখা শর্ত নয়। ৫. তৃতীয় ব্যক্তি এই বিবাহের পক্ষ নয়, তাই তার আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং উক্ত বিবাহটি বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা ভঙ্গ হবে না। তৃতীয় ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য।
দলিলসমূহ (References)
কুরআন থেকে:
وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ
অর্থ: "তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাসীও মুশরিক স্বাধীন নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের চমৎকার লাগে।" (সূরা বাকারা: ২২১)
এই আয়াতে দ্বীনকে কুফুর মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পদকে নয়।
হাদীস থেকে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ»
অর্থ: "আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: 'যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তখন তার সাথে বিবাহ দাও। যদি তা না কর, তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।'" (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১০৮৪)
হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে:
১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
(وشرط كونها) أي الكفاءة (معتبرة) أي معتبرا بها (في النكاح) لا لصحته بل للزومه
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৯৯)
২. ফতোয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি):
الكفاءة معتبرة في النكاح عند أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - حتى لو تزوجت امرأة برجل غير كفء لها، فإن كان الزوج كفؤا لها في الدين خاصة جاز النكاح
(ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৮)
৩. বাদায়েউস সানায়ে:
وأما الحرفة فالمعتبر فيها عند أبي حنيفة رحمه الله تعالى حرفة الأب خاصة
(বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১২৫)
৪. আল-হিদায়া:
ولا بد من حضور شاهدين حرين عاقلين بالغين مسلمين أو شاهد وامرأتين
(আল-হিদায়া, ২/৩৪)
৫. ফতোয়া হিন্দিয়া:
وإن كان الشاهدان لا يعرفان المرأة بعينها ولكن عرفاها بالنسب والاسم جاز النكاح
(ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৫)
৬. রদ্দুল মুহতার:
وإنما تعتبر الكفاءة حقا للأولياء لا للزوجين
(রদ্দুল মুহতার, ৩/১০১)
উপসংহার
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, প্রশ্নে বর্ণিত বিবাহটি সম্পূর্ণ বৈধ ও সহীহ। তৃতীয় ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর-কনে উভয়ে সন্তুষ্ট থাকায় এবং শরীয়তসম্মত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব-ও-কবুল সম্পন্ন হওয়ায় বিবাহটি বৈধ। কুফু না থাকা বা সাক্ষ