ফরজ গোসলে নাকি পানি দেওয়া ও কুলি করা

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 4392
Questioner: Tania Rahman
Question Asked: 24 Aug 2026, 12:04 PM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 12:15 PM
Views: 35
Tokens: 2,568
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফরজ গোসলে নাকে পানি এবং কুলি শুধু একবার করলে কি আদায় হয়ে যাবে? আর আমার নাকে পানি দিলে কোন জায়গায় দিব তা বুঝি না অনেক সময় নাকের ভিতরে পানি চলে মাথা কামড়ায় উঠে। আর কুলি করার সময় যদি প্রসাবের ছিটা বের হয় আবার করতে হবে?

Answer

ফরজ গোসলের বিধান সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নের উত্তর

১. ফরজ গোসলে নাকে পানি ও কুলি একবার করলে কি আদায় হবে?

হ্যাঁ, ফরজ গোসলে নাকে পানি দেওয়া (ইস্তিনশাক) এবং কুলি করা (মাদমাদা) একবার করলেই ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে মাসনুন (সুন্নত) হলো তিনবার করা

দলিল:

রদ্দুল মুহতার (রাদ্দুল মুহতার) গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

"وَأَمَّا الْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ فَفَرْضُهُمَا مَرَّةٌ وَاحِدَةٌ وَسُنَّتُهُمَا ثَلَاثٌ"

"কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার ফরজ হলো একবার, আর সুন্নত হলো তিনবার।"

(রদ্দুল মুহতার, ১/১৪৩)

আরও উল্লেখ আছে:

"يُجْزِئُهُ مَرَّةٌ وَاحِدَةٌ فِي الْغُسْلِ"

"গোসলে একবারই যথেষ্ট।"

(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১৪)

২. নাকে পানি দেওয়ার সঠিক স্থান

নাকে পানি দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো:

  • নাকের নরম অংশ (গোঁড়া) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ।
  • নাকের শক্ত হাড়ের অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো সুন্নত।
  • নাকের ভিতরে এমন গভীরে পানি নেওয়া যেখানে গেলে মাথা কামড়ায় বা অসুবিধা হয়, তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং প্রয়োজন নেই।

দলিল:

বাদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

"وَالِاسْتِنْشَاقُ أَنْ يُوصِلَ الْمَاءَ إِلَى مَا انْتَهَى إِلَيْهِ الْخَيْشُومُ وَهُوَ اللَّحْمُ الرَّخْوُ مِنْ الْأَنْفِ"

"ইস্তিনশাক হলো নাকের নরম অংশ (গোঁড়া) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।"

(বাদায়েউস সানায়ে, ১/৩৩)

আরও উল্লেখ আছে:

"وَلَا يَنْبَغِي أَنْ يُبَالِغَ فِي الِاسْتِنْشَاقِ حَتَّى يَصِلَ الْمَاءُ إِلَى الدِّمَاغِ"

"নাকে পানি দেওয়ার সময় এত বেশি গভীরে নেওয়া উচিত নয় যে পানি মগজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।"

(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১৪)

আপনার জন্য সমাধান: আপনি নাকের শুধু নরম অংশ (গোঁড়া) পর্যন্ত পানি পৌঁছাবেন। মাথা কামড়ানোর মতো গভীরে পানি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে গোসল সহজ হবে এবং অসুবিধাও হবে না।

৩. কুলি করার সময় প্রস্রাবের ছিটা বের হলে কি গোসল আবার করতে হবে?

না, কুলি করার সময় যদি প্রস্রাবের ছিটা বের হয়, তাহলে গোসল আবার করতে হবে না। কারণ:

  • গোসলের মাঝে অযু ভঙ্গ হলে গোসল ভঙ্গ হয় না, বরং গোসল শেষে আবার অযু করতে হয়।

দলিল:

রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

"لَوْ خَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ فِي أَثْنَاءِ الْغُسْلِ لَا يَفْسُدُ غُسْلُهُ وَلَكِنْ يَتَوَضَّأُ بَعْدَهُ"

"গোসলের মাঝে যদি (নাপাকি) বের হয়, তাহলে গোসল নষ্ট হয় না, বরং গোসলের পর অযু করতে হবে।"

(রদ্দুল মুহতার, ১/১৫০)

মনে রাখবেন: গোসলের পর যদি প্রস্রাবের ছিটা বের হয়, তাহলে শুধু অযু ভঙ্গ হবে। গোসলের প্রয়োজন নেই। নামাজের জন্য নতুন অযু করলেই হবে।


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |-------|--------| | গোসলে কুলি ও নাকে পানি একবার | ফরজ আদায় হবে, তিনবার সুন্নত | | নাকে পানি দেওয়ার স্থান | নাকের নরম অংশ (গোঁড়া) পর্যন্ত ফরজ, হাড় পর্যন্ত সুন্নত | | মাথা কামড়ানো পর্যন্ত পানি | প্রয়োজন নেই, মাকরূহ | | গোসলের মাঝে প্রস্রাবের ছিটা বের হলে | গোসল ভঙ্গ হবে না, গোসল শেষে অযু করতে হবে |

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.