স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিজে নিজে করার হুকুম
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
It was narrated from Abu Razin that he heard the Prophet (ﷺ) say:
“Dreams are attached to the foot of a bird* until they are interpreted, then when they are interpreted they come to pass.” He said: “And dreams are one of the forty-six parts of prophecy.” He (the narrator) said: “And I think he said: ‘(A person) should not tell them except to one whom he loves or one who is wise.’”
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ وَكِيعِ بْنِ عُدُسٍ الْعُقَيْلِيِّ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي رَزِينٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " الرُّؤْيَا عَلَى رِجْلِ طَائِرٍ مَا لَمْ تُعْبَرْ فَإِذَا عُبِرَتْ وَقَعَتْ " . قَالَ " وَالرُّؤْيَا جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ " . قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَالَ " لاَ يَقُصُّهَا إِلاَّ عَلَى وَادٍّ أَوْ ذِي رَأْىٍ " .
Grade: Hasan (Darussalam)
Reference : Sunan Ibn Majah 3914
In-book reference : Book 35, Hadith 22
English translation : Vol. 5, Book 35, Hadith 3914
১. আমার প্রশ্ন হলো আমি কি নিজের স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিজেই করলে এর ফল পাবো? আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারি না, এই সম্পর্কিত জ্ঞান আমার নেই।
২. এখন, যদি কোনো স্বপ্ন দেখি, পরে ব্যাখ্যা করলাম যে এটা ভালো স্বপ্ন বা খারাপ স্বপ্ন, অথবা নির্দিষ্ট করে বললাম যে এর মানে এই ভালো ঘটনা ঘটবে, বা এই খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে কি এর ফলাফল ঘটে যাবে আমার ব্যাখ্যা করার কারণে? মানে আমি যা ব্যাখ্যা করেছি তাই হবে নাকি(স্বপ্নের আসল ব্যাখ্যা ভিন্ন কিছু হওয়া স্বত্বেও)?
৩.আমি যদি এমনটা করি, তাহলে মনে মনে বললে, আর মুখে শব্দ করে উচ্চারণ করে বললে দুই ক্ষেত্রেই কি তা প্রযোজ্য হবে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১. নিজে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা:
ইসলামী শরীয়তে স্বপ্নের ব্যাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে এটি করার জন্য প্রয়োজন গভীর জ্ঞান, কুরআন-হাদীসের জ্ঞান এবং ইলমে রূহানিয়্যাতের অভিজ্ঞতা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "স্বপ্ন পাখির পায়ে ঝুলন্ত থাকে, যতক্ষণ না তার ব্যাখ্যা করা হয়। যখন ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তা বাস্তবায়িত হয়।" (সুনান ইবনে মাজাহ: ৩৯১৪)
আপনি যদি নিজে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার জ্ঞান না রাখেন, তাহলে নিজে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কেননা ভুল ব্যাখ্যা করলে স্বপ্নের ফলাফল ভুল দিকে মোড় নিতে পারে। হাদীসে এসেছে, "স্বপ্নের ব্যাখ্যা কেবল সেই ব্যক্তিই করবে যে জ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ।" (সুনান আবু দাউদ: ৫০২০)
তাই আপনার উচিত কোনো আলেম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে স্বপ্ন বলার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা। আর যদি কাউকে বলতেই হয়, তবে তাকে বলুন যে ব্যক্তি আপনার প্রতি স্নেহশীল এবং জ্ঞানী।
২. নিজে ব্যাখ্যা করলে ফলাফল কি ঘটবে?
হ্যাঁ, হাদীস অনুযায়ী স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার পরই তা বাস্তবায়িত হয়। আপনি যদি নিজে ব্যাখ্যা করেন (যদিও তা ভুল হয়), তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সেই অনুযায়ী ফলাফল হতে পারে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ আপনি যদি ভুল ব্যাখ্যা করেন, তাহলে স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ না জেনেই আপনি নিজের জন্য ভালো-মন্দ নির্ধারণ করে নিচ্ছেন।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা একটি ইলম, যা আল্লাহ তাআলা কেবল সেই ব্যক্তিকে দান করেন যাকে তিনি চান।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১১/৩১৪)
তাই নিজে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা না করে কোনো অভিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।
৩. মনে মনে বা মুখে উচ্চারণ করে বলার ক্ষেত্রে:
স্বপ্নের ব্যাখ্যা মুখে উচ্চারণ করলেই তা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ হাদীসে বলা হয়েছে, "যখন স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তা বাস্তবায়িত হয়।" (সুনান ইবনে মাজাহ: ৩৯১৪)
মনে মনে ব্যাখ্যা করলে সেটি ততটা কার্যকরী নয়, কারণ ব্যাখ্যা বলতে সাধারণত মুখে উচ্চারণ করাকে বোঝানো হয়। তবে আপনি যদি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন যে এটি ভালো বা খারাপ, তাহলে সেটি আপনার মনকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে মুখে উচ্চারণ করাই মূল বিষয়।
উপসংহার:
আপনার উচিত স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিজে না করা। বরং কোনো আলেম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে বলুন। আর যদি কাউকে বলতে না চান, তাহলে চুপ থাকুন এবং আল্লাহর কাছে ভালো কিছু প্রার্থনা করুন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা অন্যকে জানায়। আর যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে তা শয়তানের পক্ষ থেকে, সে যেন তা কারো কাছে না বলে এবং তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়।" (সহীহ বুখারী: ৭০৪৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।
দলিল:
- সুনান ইবনে মাজাহ: ৩৯১৪
- সহীহ বুখারী: ৭০৪৫
- সুনান আবু দাউদ: ৫০২০
- মাজমুউল ফাতাওয়া: ১১/৩১৪