ছেলেদের পোশাক (শার্ট, টিশার্ট ইত্যাদি) কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো জায়েজ আছে কি না?
Family Life · Hanafi
Question
পোষাক বানানোর পর যদি সেটা মেয়েদের পোষাকের মতো দেখায়। ছেলেদের শার্ট,টিশার্ট এগুলা কেটে মেয়েদের পোশাক বানালে পড়া যাবে কি?
Answer
ছেলেদের পোশাক কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো প্রসঙ্গে
উত্তর
ছেলেদের পোশাক (শার্ট, টিশার্ট ইত্যাদি) কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো জায়েজ আছে কি না—এই প্রশ্নের মূল বিষয় হলো পোশাকের প্রকৃতি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পোশাকের ক্ষেত্রে প্রধান নীতিমালা হলো:
১. পোশাক অবশ্যই শরীয়তসম্মত সীমার মধ্যে হতে হবে — অর্থাৎ পোশাকটি অবশ্যই সতর ঢাকতে হবে এবং এমন হতে হবে না যা শরীরের আকর্ষণীয় অংশ প্রকাশ করে। ২. পুরুষ ও নারীর পোশাকের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে — ইসলামে পুরুষের জন্য নারীর পোশাক পরা এবং নারীর জন্য পুরুষের পোশাক পরা নিষিদ্ধ।
মূল বিধান
ছেলেদের শার্ট বা টিশার্ট কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো জায়েজ আছে, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করা হয়:
১. পোশাকটি মেয়েদের জন্য শরীয়তসম্মত হতে হবে — অর্থাৎ পোশাকটি মেয়েদের সতর (পুরো শরীর, চেহারা ও হাতের কব্জি ছাড়া) ঢাকতে হবে। ২. পোশাকটি আকর্ষণীয় বা ফিতনার কারণ হবে না — অর্থাৎ এমন পোশাক হতে পারবে না যা শরীরের গঠন প্রকাশ করে বা অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ৩. পোশাকটি পুরুষের পোশাকের মতো দেখতে হবে না — অর্থাৎ পোশাকটি কেটে পরিবর্তন করার পর যদি তা সম্পূর্ণভাবে মেয়েদের পোশাকের রূপ নেয়, তাহলে তা পরা জায়েজ।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
তবে যদি পোশাকটি কেটে পরিবর্তন করার পরও তা পুরুষের পোশাকের মতো দেখায় বা মেয়েদের পোশাক হিসেবে স্পষ্ট না হয়, তাহলে তা পরা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হবে।
হাদীসের আলোকে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ"
"রাসূলুল্লাহ ﷺ অভিশাপ দিয়েছেন সেই পুরুষদের উপর যারা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং সেই নারীদের উপর যারা পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।" (সহীহ বুখারী: ৫৮৮৫)
এই হাদীসের আলোকে, যদি ছেলেদের শার্ট বা টিশার্ট কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো হয় এবং তা সম্পূর্ণরূপে মেয়েদের পোশাকের রূপ নেয়, তাহলে তা পরা জায়েজ। কিন্তু যদি তা পুরুষের পোশাকের মতো দেখায়, তাহলে তা পরা নিষিদ্ধ হবে।
ফিকহী নীতিমালা
হানাফী ফিকহের আলোকে:
১. ইমাম আবু হানীফা (রহ.) -এর মতে, পোশাকের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হলো পোশাকের প্রকৃতি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য। যদি পোশাকটি মেয়েদের জন্য নির্ধারিত হয় এবং তা শরীয়তসম্মত হয়, তাহলে তা জায়েজ।
২. ইবনে আবেদীন (রহ.) -এর "রদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ আছে যে, পোশাকের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো সতর ঢাকা এবং তা এমন হওয়া উচিত নয় যা পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়।
৩. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) -তে বলা হয়েছে যে, নারীদের জন্য পুরুষের পোশাক পরা এবং পুরুষদের জন্য নারীর পোশাক পরা নিষিদ্ধ, তবে যদি পোশাকটি পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ দেওয়া হয়, তাহলে তা ভিন্ন বিধান পাবে।
আমাদের প্রিয় মুফতিয়ানে কেরামদের মত
মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) এবং মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) -এর মতে, পোশাকের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হলো:
- পোশাকটি শরীয়তসম্মত সীমার মধ্যে হতে হবে
- পোশাকটি পুরুষ ও নারীর পার্থক্য রক্ষা করতে হবে
- পোশাকটি ফিতনার কারণ হবে না
সারসংক্ষেপ
ছেলেদের শার্ট বা টিশার্ট কেটে মেয়েদের পোশাক বানানো জায়েজ, যদি:
✅ পোশাকটি সম্পূর্ণরূপে মেয়েদের পোশাকের রূপ নেয়,পাশাপাশি শার্ট, টিশার্ট ইত্যাদিতে রুপ না না নেয়,কেননা শার্ট, টিশার্ট ইত্যাদি পরিধান করা মেয়েদের জন্য জায়েজ নেই।
✅ পোশাকটি মেয়েদের সতর ঢাকে
✅ পোশাকটি আকর্ষণীয় বা ফিতনার কারণ না হয়
✅ পোশাকটি পুরুষের পোশাকের মতো না দেখায়
তবে যদি পোশাকটি কেটে পরিবর্তন করার পরও পুরুষের পোশাকের মতো দেখায় বা মেয়েদের পোশাক হিসেবে স্পষ্ট না হয়, তাহলে তা পরা মাকরূহ হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।