কিস্তি নিয়ে কিস্তির লাভের(সুদটা) টাকা আগেই দান করে দিয়ে ব্যবসা করলে এইটা হালাল হবে কিনা?

Business and Job · Hanafi

Question No: 4201
Questioner: shakawat hossain
Question Asked: 20 Aug 2026, 12:17 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 01:06 PM
Views: 18
Tokens: 3,313
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি আরো দুইজনের সাথে একটা ডিলারশিপের ব্যবসা শুরু করেছি, এখন সমস্যাটা হচ্ছে আমার ঘর থেকে টাকা পাওয়ার কথা ছিল,কিন্তু সমস্যার কারণে টাকাটা পাচ্ছি না এখন কি আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সেই লোনের যেই লাভটা আসবে সেই লাভটা যদি দান করে দেই তারপর সেটা ব্যবসায়ী ইনভেস্ট করি তাহলে সেটা জায়েজ হবে? ব্যবসাটা হালাল হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, তাতে দুটি ভিন্ন বিষয় রয়েছে:

১. ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া (যা সুদভিত্তিক)। ২. সেই লোনের সুদ (লাভ) দান করে দেওয়া এবং মূল টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা।

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: না, এই পদ্ধতিতে ব্যবসাটি হালাল হবে না এবং এটি জায়েজ হবে না।

আসুন বিষয়টি বিস্তারিত বুঝে নিই:

১. সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম: ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণরূপে হারাম। কুরআন ও হাদিসে সুদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার বিনিময়ে যে অতিরিক্ত টাকা (লাভ/সুদ) দিতে হয়, তা স্পষ্টতই রিবা।

২. "সুদ দান করলে তা হালাল হয়ে যাবে" - এই ধারণাটি ভুল: অনেকে মনে করেন, ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক লোন নিয়ে সেই সুদের টাকা গরিবকে দান করে দিলে লোনটি হালাল হয়ে যায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

  • গুনাহের কাজটি আলাদা: ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক লোন নেওয়া একটি গুনাহের কাজ। এই গুনাহের কাজটি করার পর সেই গুনাহের অর্থ (সুদ) দান করে দিলে মূল গুনাহটি মাফ হয় না। বরং এটি আরেকটি গুনাহের কারণ হয়, কারণ সুদের টাকা দান করা বৈধ নয়।
  • ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "সুদখোরের উপর ওয়াজিব হলো সে যেন সুদের মূল টাকা নিজ মালিকানায় ফিরিয়ে দেয় এবং লাভের অংশটুকু গরিবদের মধ্যে সদকা করে দেয়। তবে এই সদকা করার কারণে মূল গুনাহ মাফ হবে না, বরং এটি তার সম্পদ থেকে পবিত্র হওয়ার একটি উপায়।" (রদ্দুল মুহতার, ৫তম খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা)

৩. মূল টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ: আপনি যদি সুদভিত্তিক লোনের মূল টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, তাহলে সেই ব্যবসার মূলধনই হবে হারাম (সুদী লেনদেনের মাধ্যমে প্রাপ্ত) টাকা। হারাম টাকা দিয়ে ব্যবসা করলে সেই ব্যবসার আয়ও হারাম হবে। শুধু সুদের অংশ দান করে দিলে মূল টাকাটি হালাল হয়ে যায় না।

৪. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা: হানাফি ফিকহের প্রখ্যাত ইমামগণ (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) সকলেই সুদভিত্তিক লেনদেনকে সম্পূর্ণ হারাম বলেছেন। ফatawa Alamgiri-তেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সুদভিত্তিক লোন নেওয়া এবং তা দিয়ে ব্যবসা করা জায়েজ নয়।

আপনার করণীয়:

১. ব্যাংক থেকে লোন না নেওয়াই উত্তম: আপনার ঘর থেকে টাকা না পেলে, অন্য কোনো হালাল উপায়ে (যেমন: পরিবারের অন্য সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে) টাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করুন। ২. অংশীদারদের সাথে আলোচনা: আপনার অংশীদারদের সাথে বিষয়টি খুলে বলুন এবং তাদের কাছ থেকে সময় নিন বা অন্য কোনো বৈধ উপায় বের করুন। ৩. তওবা করুন: যদি ইতিমধ্যেই আপনি সুদভিত্তিক লোন নিয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকার সংকল্প করুন। লোনের সুদের অংশটি যদি আপনি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি গরিবদের দান করে দিন, তবে মূল টাকা দিয়ে ব্যবসা করবেন না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক লোন নেওয়া এবং সেই লোনের সুদ দান করে মূল টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা সম্পূর্ণরূপে জায়েজ নয়। এতে ব্যবসাটি হালাল হবে না। আপনাকে অবশ্যই হালাল উপায়ে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.