ঝগড়ার সময় স্বামীর "ডিভোর্স দিয়ে দিবা" বা "তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও" জাতীয় কথার শরীয়ত হুকুম — নিয়ত ছাড়া এসব কথায় কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পায়?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত বুঝিয়েছেন আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।
Answer
ঝগড়ার সময় স্বামীর "ডিভোর্স দিয়ে দিবা" জাতীয় কথার হুকুম
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
স্বামী ঝগড়ার সময় রাগের মাঝে বা উপদেশ দেওয়ার নিয়তে বলে: "তোমার যদি ভবিষ্যতে আমাকে ভালো না লাগে তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না" — এ ধরনের কথার দ্বারা কি স্ত্রী নিজে থেকে তালাক নেওয়ার অধিকার পায়?
উত্তর
না, এ ধরনের কথার দ্বারা স্ত্রী কোনো তালাকের অধিকার পায় না। কারণ:
১. তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে, তখন তাদেরকে তালাক দেবে তাদের ইদ্দতের হিসাব অনুযায়ী।" (সূরা আত-তালাক: ১)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
"পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল।" (সূরা আন-নিসা: ৩৪)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তালাক কেবল সেই ব্যক্তির অধিকার, যে স্ত্রীর মালিক (স্বামী)।" (ইবনু মাজাহ: ২০৮১, আবু দাউদ: ২১৯০ — শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)
২. নিয়ত ছাড়া শর্তমূলক কথা তালাকের অধিকার সৃষ্টি করে না
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন:
"কেউ যদি শর্তসাপেক্ষে তালাকের কথা বলে কিন্তু তালাক দেওয়ার নিয়ত না থাকে, বরং ভয় দেখানো বা উপদেশ দেওয়ার নিয়তে বলে, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।" (মাজমু'উল ফাতাওয়া: ৩৩/১০৮)
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন:
"তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত। নিয়ত ছাড়া শুধু মুখের কথা তালাক সংঘটিত করে না।" (ইগাসাতুল লাহফান: ১/৩৪৭)
৩. "তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও" — এটা তালাকের অধিকার প্রদান নয়
স্বামী যদি বলে "তুমি খুশি হলে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও" — এটা মূলত উপদেশ ও সতর্কতা। এতে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা (তালাক-ই-তাফউইজ) প্রদান করা হয়নি, কারণ:
- তাফউইজে তালাক (স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান) স্পষ্টভাবে হতে হবে
- শর্তসাপেক্ষ বা অস্পষ্ট কথায় তাফউইজ সংঘটিত হয় না
- শাইখ ইবনু উসাইমীন রহ. বলেন: "তাফউইজে তালাক তখনই সহীহ হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে বলে: 'তুমি নিজেকে তালাক দিতে পারবে' বা অনুরূপ স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে।" (আশ-শারহুল মুমতি': ১৩/৪২)
৪. রাগের অবস্থায় বলা কথার হুকুম
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"রাগের অবস্থায় তালাক হবে না, এবং দাস মুক্তিও হবে না।" (আবু দাউদ: ২১৯২, ইবনু মাজাহ: ২০৪৬ — শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)
শাইখ ইবনু বায রহ. বলেন:
"রাগের সময় উচ্চারিত তালাকের শব্দ যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া হয়, তবে তা কার্যকর হবে না। আর যদি নিয়ত থাকে, তবে জমহুর উলামার মতে তা পতিত হবে, তবে এটা আল্লাহর নিকট জবাবদিহির বিষয়।" (মাজমু'উ ফাতাওয়া ইবনু বায: ২১/২৭৩)
৫. উপদেশমূলক কথার প্রকৃতি
স্বামী যখন বলে "তুমি খারাপ হলে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও" — এর অর্থ:
- সে তালাকের অধিকার দিচ্ছে না
- বরং বলছে: যদি তুমি খারাপ হওয়ার ইচ্ছা কর, তাহলে তালাক চেয়ে নিও, আমি দিয়ে দেব
- অর্থাৎ তালাক দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা স্বামীর হাতেই থাকছে
এটা ঠিক যেমন কেউ বলে: "তুমি যদি চুরি কর, তাহলে তোমার হাত কাটা হবে" — এতে কেউ হাত কাটার অধিকার পায় না, বরং সতর্ক করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত
| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | নিয়ত ছাড়া শর্তমূলক তালাকের কথা | তালাক পতিত হয় না | | "তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও" বলা | তাফউইজে তালাক হয় না | | রাগের সময় বলা | নিয়ত ছাড়া পতিত হয় না | | স্ত্রীর নিজে থেকে তালাক নেওয়ার অধিকার | সৃষ্টি হয় না |
স্ত্রী নিজে থেকে তালাক নিতে পারবে না। যদি সে আলাদা হতে চায়, তবে শরীয়তসম্মত পন্থা হলো:
- স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া (খুলু')
- অথবা শারী'আহ আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ
- অথবা স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক দিলে তা কার্যকর হবে