গোসলের পর লজ্জাস্থান থেকে পানি বের হলে কি ওযু ভাঙে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6280
Questioner: Mim Islam
Question Asked: 02 Oct 2026, 09:37 PM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 09:57 PM
Views: 8
Tokens: 4,227
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গোসলের পর লজ্জাস্হান থেকে গোসলের জমে থাকা পানি বের হলে কি আবার ওযু করতে হবে? গোসলের পর যখন নামাজে রুকু সিজদা করতে গেলাম তখন মনে হয়ে যে গোসলের জমে থাকা পানি বের হয়। তাহলে কি করা উচিত? আবার কি ওযু করতে হবে?

Answer

গোসলের পর লজ্জাস্থান থেকে পানি বের হলে করণীয়

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

গোসলের পর লজ্জাস্থান থেকে গোসলের জমে থাকা পানি বের হলে কী আবার ওযু করতে হবে? নামাজে রুকু-সিজদা করার সময় মনে হলো পানি বের হয়েছে — তখন কী করা উচিত?


১. মূল শরয়ী ফায়সালা:

  • যদি পানি নিশ্চিতভাবে বের হয়ে থাকে: গোসলের সময় লজ্জাস্থানের ভেতর আটকে থাকা পানি পরবর্তীতে যদি নিশ্চিতভাবে বাইরে বের হয়ে আসে, তবে শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী আপনার ওযূ ভেঙে যাবে এবং পুনরায় ওযূ করা আবশ্যক [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৪২]।
  • যদি কেবল সন্দেহ বা অনুমান হয়: নামাযের ভেতরে রুকু বা সিজদায় যাওয়ার সময় যদি কেবল মনে হয় বা সন্দেহ জাগে, কিন্তু পানি নির্গত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া না যায়—তবে নিছক সন্দেহের কারণে ওযূ বা নামায ভাঙবে না [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬১, ৯১]।

২. বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ ও করণীয়:

১. লজ্জাস্থান থেকে পানি নির্গত হওয়ার হুকুম:
ইসলামি ফিকহে ওযূ ভঙ্গের অন্যতম প্রধান কারণ হলো—পায়খানা বা প্রস্রাবের রাস্তা (সাবীলান) দিয়ে যেকোনো বস্তু (যেমন: প্রস্রাব, বায়ু, রক্ত বা ভেতরে আটকে থাকা পানি) বের হয়ে আসা [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩১]। গোসল বা এস্তেনজার সময় লজ্জাস্থানের ভেতরে ঢুকে আটকে থাকা পানি যদি পরে বাইরে বের হয়ে ত্বকে বা কাপড়ে গড়িয়ে পড়ে, তবে তা নির্গত হওয়ার দ্বারা ওযূ ভেঙে যায় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৪২]।

২. নামাযের ভেতরের পরিস্থিতির সমাধান:

  • নিশ্চিত হলে: রুকু বা সিজদায় থাকার সময় যদি আপনি নিশ্চিত হন যে সত্যাসত্যই পানি নির্গত হয়ে বাইরে চলে এসেছে, তবে আপনার উক্ত ওযূ ও নামায ভেঙে গেছে। এমতাবস্থায় নামায ছেড়ে দিয়ে প্রস্রাবের স্থান পরিষ্কার করে পুনরায় ওযূ করে নতুন করে নামায শুরু করতে হবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫, ৬০]।
  • সন্দেহ দূর করার উপায় (ওয়াসওয়াসা পরিহার): যদি আপনার নিশ্চিত বিশ্বাস না থাকে, বরং এটি কেবল শয়তানী ওয়াসওয়াসা বা অহেতুক আশঙ্কা মনে হয়, তবে নামায ভেঙে ফেলার প্রয়োজন নেই। নামায শেষে প্রয়োজনে কাপড়ে পানি নির্গত হওয়ার কোনো ভেজা আলামত আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেবেন। নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত নামায সহীহ বলে গণ্য হবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬১]।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৫৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৫ম পরিচ্ছেদ: ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ — প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে যেকোনো কিছু নির্গত হলে ওযূ ভঙ্গ হওয়া) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড), পৃষ্ঠা: ৫৫]।
  • পৃষ্ঠা: ৬০–৬১: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত — নিছক সন্দেহ বা শঙ্কার কারণে ওযূ ও নামায বাতিল না হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড), পৃষ্ঠা: ৬০, ৬১]।

২. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৩১: (অনুচ্ছেদ: ওযূভঙ্গের কারণসমূহ — কুবুল ও দুবুর থেকে কিছু নির্গত হওয়া সংক্রান্ত মূল ফিকহী সিদ্ধান্ত) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩১]।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৪২: (অধ্যায়: বাবুল ওযূ, ৫ম পরিচ্ছেদ: নওয়াক্বিযে ওযূ — গুপ্তাঙ্গ থেকে রতূবত বা জমে থাকা পানি বের হলে ওযূ ভঙ্গের ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৪২]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.