অনলাইন থেকে পন্য কিনে অন্যের কাছে কিছু মুনাফা নিয়ে তাহা বিক্রয় করার বিধান।
Business and Job · Hanafi
Question
আমাকে জিজ্ঞেস করে এটা কত দিয়ে আনা তখন ৫০ টাকা বেশি বলে তারপর এটা এনে তাকে দিলে ঐ ৫০ লাভ করলে কি জায়েজ হবে?
Answer
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—আপনি যে কাজটি করছেন তা মূলত জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি সেবা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে, যদিও আপনি নিজেকে "ব্যবসায়ী" মনে করেন না। ইসলামী ফিকহের আলোকে এর বিধান নিম্নরূপ:
১. মূলনীতি:
- ইসলামে ক্রয়-বিক্রয় ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে লাভ করা জায়েজ (বৈধ), যদি তা সুদ, প্রতারণা, জোরপূর্বক আদায় ইত্যাদি নিষিদ্ধ উপায়ে না হয়।
- আপনি যদি কারো পক্ষ থেকে পণ্য ক্রয় করে আনেন এবং এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা লাভ নেন, তবে তা জায়েজ। তবে শর্ত হলো—লাভের পরিমাণ আগে থেকেই স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হতে হবে, যাতে কোনো প্রকার অনিশ্চয়তা (ঘারার) না থাকে।
আপনাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে এটা কত দিয়ে আনা, তখন ৫০ টাকা বেশি বলে তারপর এটা এনে তাকে দিলে ঐ ৫০ লাভ করলে জায়েজ হবেনা।
২. আপনার প্রশ্নের উত্তর:
আপনি বলেছেন, "আমাকে জিজ্ঞেস করে এটা কত দিয়ে আনা, তখন ৫০ টাকা বেশি বলে তারপর এটা এনে তাকে দিলে ঐ ৫০ লাভ করলে কি জায়েজ হবে?"
উত্তর:
- যদি আপনি আগেই বলে দেন যে, "আমি এটা ৫০০ টাকায় এনে দেব" (যদিও প্রকৃত দাম ৪৫০ টাকা), এবং ক্রেতা রাজি হয়, তাহলে ৫০ টাকা লাভ করা জায়েজ। কারণ এটি একটি স্পষ্ট চুক্তি (বাই’ বা ইজারাহ) হিসেবে গণ্য হবে।
- কিন্তু যদি আপনি চুপচাপ থেকে পরে বলেন "আমি ৫০০ টাকায় এনেছি" (যদিও প্রকৃত দাম ৪৫০), এবং ক্রেতা আপনার কথায় বিশ্বাস করে টাকা দেয়, তাহলে এটি প্রতারণা (তাদলিস) হবে এবং হারাম। কারণ আপনি দামের বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন।
সুতরাং, আপনার করণীয়:
- পণ্য আনার আগেই ক্রেতাকে স্পষ্টভাবে বলুন: "আমি এটা আপনার জন্য আনব, এর জন্য আমার শ্রম ও সময়ের বিনিময়ে ৫০ টাকা নেব।"
- অথবা বলুন: "আপনাকে এটা ৫০০ টাকায় দিতে পারব" (যদিও প্রকৃত দাম ৪৫০)। ক্রেতা রাজি হলে তা বৈধ।
- মনে রাখবেন: পণ্যের প্রকৃত দাম গোপন করে বেশি দাম বললে সেটি মিথ্যা হবে, যা হারাম। তাই সততা বজায় রাখা জরুরি।
৩. ফিকহী রেফারেন্স:
-
সূরা আন-নিসা (৪:২৯):
"হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা করলে তা বৈধ।"
(এখানে "পারস্পরিক সম্মতি" অর্থাৎ চুক্তি স্পষ্ট হতে হবে।) -
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"মুসলিমরা তাদের শর্তাবলীর ওপর রয়েছে।"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৩৫৯৪; তিরমিজি, হাদীস: ১৩৫২)
অর্থাৎ, চুক্তি স্পষ্ট হলে তা মান্য করা আবশ্যক। -
ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি):
"যদি কেউ কারো জন্য পণ্য ক্রয় করে আনে এবং এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে, তবে তা জায়েজ।"
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৩/৫৪) -
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
"ক্রয়-বিক্রয়ে লাভ জায়েজ, তবে প্রতারণা ও মিথ্যা বলা হারাম।"
(রদ্দুল মুহতার, ৪/৫০)
৪. আপনার জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ:
- সততা বজায় রাখুন: পণ্যের প্রকৃত দাম বলুন এবং আলাদাভাবে আপনার পরিশ্রমের পারিশ্রমিক চান।
- চুক্তি স্পষ্ট করুন: "আমি এটা ৪৫০ টাকায় কিনে আনব, আর আমার সময় ও শ্রমের জন্য ৫০ টাকা নেব।"
- অনিচ্ছা প্রকাশ করলে: যদি কেউ অতিরিক্ত দাম দিতে না চায়, তবে আপনি বিনয়ের সাথে বলতে পারেন, "আমার সময় ও শ্রমের কারণে আমি এতটুকু নিতে চাই, নাহলে আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"
- ব্যবসা হিসেবে নিয়ত করুন: আপনি যদি নিয়মিত এ কাজ করেন, তবে এটি একটি সেবামূলক ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে লাভ করা সম্পূর্ণ বৈধ।
সারসংক্ষেপ:
- ৫০ টাকা লাভ করা জায়েজ, যদি তা স্পষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে হয় এবং প্রতারণা না থাকে।
- মিথ্যা বলা বা দাম গোপন করা হারাম।
- আপনার কাজটি যদি নিয়মিত হয়, তবে এটি একটি বৈধ ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে লাভ করা আপনার জন্য হালাল।
আপনাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে এটা কত দিয়ে আনা তখন ৫০ টাকা বেশি বলে তারপর এটা এনে তাকে দিলে ঐ ৫০ লাভ করলে জায়েজ হবেনা।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল রিজিক দান করুন এবং সততার সাথে ব্যবসা করার তাওফিক দিন। (আমিন)