এভাবে চাকরী নেয়া কি জায়েজ আছে?

Business and Job · Hanafi

Question No: 6101
Questioner: sumaiya afrinlisha
Question Asked: 29 Sep 2026, 05:41 AM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 05:58 AM
Views: 37
Tokens: 2,963
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

উস্তায সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা শেষ করা এমন কেউ যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ হতে চায়,সে যদি সিভি জমা দেয়,,কারো রেফারেন্সে ঘুষ দেয়া ছাড়াই যদি চাকরী পেয়ে যায়, সেই চাকরী করা কি জায়েজ হবে?

Answer

উত্তর (ফতোয়া)

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে—অর্থাৎ সিভি জমা দিয়ে, কারো রেফারেন্সে ঘুষ না দিয়ে, যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে—বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইসিটি শিক্ষক পদে চাকরি করা, এক্ষেত্রে সে যদি আসলেই যোগ্য ব্যাক্তি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত চাকরি করা তার জন্যজায়েজ।

তবে কারো রেফারেন্সে চাকরি নেয়া অন্যের হক নষ্টের শামিল,তাই এ ধরনের কাজ হতে বিরত থাকা উচিত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

ইসলামে চাকরি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো—যোগ্যতা, সততা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া। ঘুষ, সুদ, প্রতারণা বা অন্যায় শর্ত থাকলে তা হারাম। কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায়:

  1. সিভি জমা দেওয়া — এটি একটি স্বাভাবিক ও বৈধ পদ্ধতি।
  2. রেফারেন্স — যদি রেফারেন্স শুধু পরিচিতি বা সুপারিশ হয়, ঘুষ বা অবৈধ লেনদেন না হয়, তবে তা জায়েজ। রেফারেন্সের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে চিহ্নিত করা নিয়োগকর্তার অধিকার।
  3. ঘুষ না দেওয়া — ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া উভয়ই হারাম। প্রশ্নে স্পষ্ট বলা হয়েছে ঘুষ দেওয়া হয়নি, তাই এখানে নিষিদ্ধতা নেই।
  4. যোগ্যতা — সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করা প্রার্থী আইসিটি শিক্ষক পদের জন্য যোগ্য। যোগ্যতা থাকলে নিয়োগ নেওয়া বৈধ।

দলিল:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন:
    "হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে ব্যবসার মাধ্যমে সন্তুষ্টচিত্তে হলে ভিন্ন কথা।"
    (সূরা নিসা: ২৯)

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
    "যে ব্যক্তি ঘুষ দেয় এবং যে গ্রহণ করে, উভয়েই জাহান্নামে।"
    (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৮৩; মুসনাদে আহমাদ)

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন:
    "যে ব্যক্তি কোনো কাজের দায়িত্ব পায়, তার জন্য সেই কাজের বিনিময় নির্ধারিত রয়েছে।"
    (সুনানে আবু দাউদ)

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মত হলো, ঘুষ ছাড়া নিয়োগ বৈধ।
    (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৬২; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৪৭)

  • মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:
    "চাকরির নিয়োগে যোগ্যতা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া থাকলে তা জায়েজ; ঘুষ বা সুদ থাকলে হারাম।"
    (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৪২১)

  • মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:
    "ঘুষ ছাড়া চাকরি করা জায়েজ; তবে চাকরির কাজে আমানতদারি ও সততা রক্ষা করা আবশ্যক।"
    (বেহেশতী জেওর, খণ্ড ৭, পৃ. ২৩)

শর্তাবলি:

  1. চাকরির কাজে আমানতদারি রক্ষা করতে হবে।
  2. হারাম কাজ (যেমন সুদ, ঘুষ, প্রতারণা) করতে বাধ্য করা হলে তা করা যাবে না।
  3. প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন ও চুক্তি মেনে চলতে হবে।
  4. শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া ও ন্যায়বিচার করা আবশ্যক।

উপসংহার:
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায়—ঘুষ ছাড়া, যোগ্যতার ভিত্তিতে, রেফারেন্সের মাধ্যমে— সেক্ষেত্রে সময় যদি আসলেই যোগ্য ব্যাক্তি হয়,সেক্ষেত্রে আইসিটি শিক্ষক পদে চাকরি করা জায়েজ ও বৈধ। তবে চাকরির দায়িত্বে আমানতদারি ও সততা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

তবে কারো রেফারেন্সে চাকরি নেয়া অন্যের হক নষ্টের শামিল,তাই এ ধরনের কাজ হতে বিরত থাকা উচিত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.