নিফাস অবস্থায় ঘরে অন্য কেউ নামাজ পড়তে পারবে কি

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6069
Questioner: Shazeda
Question Asked: 28 Sep 2026, 01:34 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 02:20 PM
Views: 42
Tokens: 4,356
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সদ্য বাচ্চা জন্মের পর মায়ের নিফাস থাকায় তিনি অপবিত্র অবস্থায় থাকেন। এ অবস্থায় মা ও শিশু যে ঘরে থাকেন, সেই ঘরে অন্য কেউ কি সালাত আদায় করতে পারবেন?

আর বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার পর সালাত আদায় করা যাবে কি? কারণ বাচ্চা তো নাপাক নয়। অনেকে বলেন, সদ্যজাত বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার পর সালাত আদায় করা যায় না। বিষয়টির শরয়ি বিধান ও কারণটি বিস্তারিত জানালে মুনাসিব হয়।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: ১. নিফাস অবস্থায় মা অপবিত্র (নাপাক) থাকলেও তার আশপাশের স্থান বা ঘর নাপাক হয়ে যায় না। সুতরাং সেই ঘরে অন্য কেউ (মা ও শিশু ছাড়া) সালাত আদায় করতে পারবেন—এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

২. সদ্যজাত বাচ্চা নাপাক নয়; বরং শিশু জন্মগতভাবে পবিত্র। তাই বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার পর বা দুধ খাওয়ানোর পর সালাত আদায় করা জায়েজ। বাচ্চার শরীরে সাধারণত নাপাকি (নাজাসাত) না থাকলে কোনো সমস্যা নেই। হ্যাঁ, যদি বাচ্চার কাপড় বা শরীরে নাজাসাত (যেমন পেশাব-পায়খানা) লেগে থাকে এবং তা সালাত আদায়কারীর শরীর বা কাপড়ে লেগে যায়, তাহলে তা ধুয়ে বা পরিবর্তন করে সালাত আদায় করতে হবে।


বিস্তারিত:

১. নিফাসের সময় মায়ের অপবিত্রতা ও ঘরের বিধান

নিফাস হলো প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব। এই সময়ে মা নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকেন এবং তার শরীর থেকে নির্গত রক্ত নাজাসাত (অপবিত্র)। কিন্তু ইসলামের মূলনীতি হলো—নাজাসাত শুধু তার নিজের শরীর ও ব্যবহৃত বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তা আশপাশের বাতাস, ঘর বা আসবাবপত্রকে নাপাক করে না।

ফিকহের কায়েদা: «النجاسة لا تسري إلى الهواء ولا إلى ما جاورها» — নাজাসাত বাতাসে বা পার্শ্ববর্তী বস্তুতে ছড়ায় না (যতক্ষণ না সরাসরি স্পর্শ বা সংক্রমণ হয়)।

ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

«والنجاسة لا توجب تنجيس ما جاورها من الهواء والجدار»
(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত)

সুতরাং নিফাস অবস্থায় মা যে ঘরে থাকেন, সেই ঘরে অন্য কেউ (যেমন স্বামী, পরিবারের অন্য সদস্য) নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে সতর্কতা হিসেবে মায়ের শরীর, তার বিছানা বা ব্যবহৃত কাপড় স্পর্শ করা বা তার সঙ্গে শরীর লাগানো থেকে বিরত থাকা উত্তম।

২. বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নামাজ

যেহেতু শিশু পবিত্র, তাই তাকে কোলে নেওয়ার পর বা দুধ খাওয়ানোর পর নামাজ আদায় করা জায়েজ। এ বিষয়ে ফিকহের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

তবে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:

  • বাচ্চার কাপড় বা শরীরে যদি পেশাব-পায়খানা ইত্যাদি নাজাসাত লেগে থাকে এবং তা নামাজ আদায়কারীর শরীর বা কাপড়ে লাগে, তাহলে তা পবিত্র করে নিতে হবে।

উপসংহার: নিফাস অবস্থায় মায়ের অপবিত্রতা শুধু তার নিজের শরীর ও ব্যবহৃত বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ; ঘর বা আশপাশের স্থান নাপাক হয় না। তাই সেই ঘরে অন্য কেউ নামাজ আদায় করতে পারবেন। আর সদ্যজাত শিশু পবিত্র; তাকে কোলে নিয়ে বা দুধ খাওয়ানোর পর নামাজ আদায় করা জায়েজ। তবে নাজাসাত থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

والله أعلم بالصواب

  • বাচ্চা দুধ খাওয়ানোর পর নামাজ

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.