শরীর জ্বালাপোড়ার ইসলামী চিকিৎসা

Food and Drink · Hanafi

Question No: 3919
Questioner: Anika Tahsin
Question Asked: 13 Aug 2026, 07:36 PM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 07:41 PM
Views: 10
Tokens: 2,750
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রবাশে থাকা একজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যায় এবং উনি বলেন শরীর জ্বলে ওনার।
কোনো ডাক্তার রোগ ধরতে পারছেনা। উনি নামাজ পড়েন নিয়মিত। এখন কী করা যেতে পারে?

Answer

উত্তর

প্রবাসে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া এবং ডাক্তাররা রোগ নির্ণয় করতে না পারা একটি কঠিন পরিস্থিতি। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই অবস্থায় নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা করাও, কেননা আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় সৃষ্টি করেননি।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫; তিরমিজি, হাদিস: ২০৩৮)

তাই ডাক্তাররা রোগ ধরতে না পারলেও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ভিন্ন দেশের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

২. ধৈর্য ধারণ করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "মুসলিমের ব্যাপারটি চমৎকার! তার সকল অবস্থাই কল্যাণকর। যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে, তখন সে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়, তখন সে ধৈর্য ধারণ করে, যা তার জন্য কল্যাণকর।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)

৩. রুকইয়াহ (দু'আ দ্বারা চিকিৎসা)

যেহেতু ডাক্তাররা রোগ ধরতে পারছেন না, তাই এটি জ্বর বা শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি অন্য কোনো কারণে হতে পারে। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বর্ণিত দু'আ এবং রুকইয়াহ করা যেতে পারে:

  • সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দেওয়া
  • সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁক দেওয়া
  • আয়াতুল কুরসি পড়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ হলে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের শরীরে ফুঁক দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)

৪. তাওয়াক্কুল ও দু'আ

আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা রেখে দু'আ করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এই দু'আ শিখিয়েছেন:

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাস, আজহিবিল বা'স, ইশফি আন্তাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা"

অর্থ: "হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান করুন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখবে না।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪২)

৫. নামাজ অব্যাহত রাখা

প্রশ্নকারী জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নামাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। তবে অসুস্থ অবস্থায় নামাজের নিয়মে শিথিলতা রয়েছে:

  • দাঁড়াতে না পারলে বসে নামাজ পড়া যাবে
  • বসতেও কষ্ট হলে শুয়ে নামাজ পড়া যাবে
  • ইশারায় নামাজ পড়া যাবে

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর দাঁড়ানো, বসা ও শায়িত অবস্থায়।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)

৬. সদকা করা

অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য সদকা করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা সদকার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা করাও।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৭০৮; তিরমিজি, হাদিস: ৬৬৫)

৭. পরিবার ও আত্মীয়দের দু'আ

পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের দু'আ করা এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।


উপসংহার

১. চিকিৎসা চালিয়ে যান এবং প্রয়োজনে ভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ২. ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন ৩. কুরআন ও সুন্নাহ থেকে রুকইয়াহ করুন ৪. নিয়মিত নামাজ ও দু'আ চালিয়ে যান ৫. সদকা করুন ৬. পরিবারের সদস্যদের দু'আ করতে বলুন

দলিলসমূহ:

  • সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭, ৫৭৪২
  • সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯
  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫, ১৭০৮
  • সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০৩৮, ৬৬৫
  • সূরা আন-নিসা: ১০৩

আল্লাহ তাআলা উনাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং সব রোগ থেকে মুক্তি দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.