ফজর নামাজ কাজা হওয়ার বিধান।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
ফজরের নামাজ কাযা হওয়ার বিধান
উত্তর
প্রশ্ন: ফজরের নামাজ ঘুমের কারণে পড়তে পারিনি। এখন কি শুধু ফরজ পড়বো, নাকি সুন্নত সহ পড়বো? আর কাযা নামাজ কি যোহরের সময় পরে নিলে হবে?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
১. ফজরের সুন্নত ও ফরজ কাযা
ঘুমের কারণে বা অন্য কোনো ওজরবশত ফজরের নামাজ কাযা হলে সেদিন জোহরের ওয়াক্তের আগে কাজা করলে, সুন্নত সহ ফরজ পড়তে হবে। অর্থাৎ, প্রথমে ফজরের ২ রাকাত সুন্নত, তারপর ২ রাকাত ফরজ পড়বেন।
হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, ফজরের সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজরের সুন্নতকে "গণিমতের চেয়েও উত্তম" বলেছেন এবং কখনো তা ছাড়তেন না।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ফরজ নামাজ কাযা হওয়ার পর যেকোনো সময় (মাকরূহ সময় ব্যতীত) আদায় করা যায়। তবে দেরি করা উচিত নয়।
- কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে মুমিনদের উপর ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা নিসা: ১০৩) -
কাযা নামাজ পড়ার নিয়ম হলো:
-
নিয়ত করবেন: "আমি আজকের ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ কাযা পড়ছি"
-
সুন্নত পড়লে: "আমি আজকের ফজরের ২ রাকাত সুন্নত কাযা পড়ছি"
-
নামাজের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। ঘুমানোর আগে অ্যালার্ম দিন এবং পরিবারের কাউকে বলুন।
-
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ে নামাজ ছুটে যায় অথবা ভুলে যায়, তার কাফফারা হলো যখনই মনে পড়বে তখনই পড়ে নেওয়া।" (সহিহ মুসলিম: ৬৮৪)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজের হিফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ২/৬৪
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৭
- আল-হিদায়া, ১/৮২
- ফাতাওয়া উসমানি, ১/২৩৪
- বেহেশতী জেওর, ১/১২৫