অদৃশ্য নাপাক কাপড় পাক করা বিষয়ক প্রশ্ন।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3862
Questioner: aesthetic
Question Asked: 12 Aug 2026, 04:37 PM
Reviewed & Published: 12 Aug 2026, 04:58 PM
Views: 39
Tokens: 4,521
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।

১। অদৃশ্য নাপাক কাপড় পাক করার জন্য তিনবার ধুয়ে প্রতিবার নিংড়াতে হয় এবং শেষেরবার এমনভাবে নিংড়াতে হয় যেন এর থেকে এক ফোঁটা পানিও না বের হয়।
এখন আমি যদি প্রথমবার, দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার,প্রতিবারে যদি একবারে না নিংড়িয়ে কয়েকবার নিংড়াই, তাহলে কি কাপড় পাক হবে? কারণ মনে করুন, আমি যদি তৃতীয়বার নিংড়বো, একবারে যদি নিংড়াতে যাই, সব পানি নাও বের হতে পারে, তাই তৃতীয়বার নিংড়ানোর সময় চার থেকে পাঁচ বার নিংড়াই। প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার এর ক্ষেত্রেও আমি তাই করি।
এভাবে কাপড় ধুলে কি পাক হবে?

২। আমি এভাবে ধুয়ে কুরআন শরীফ পড়েছি। আমার কি আবার নতুন থেকে পড়তে হবে বা কাফফারা দিতে হবে?

৩। কাপড়গুলো ধুয়ে বালতিতে রাখার পর কাপড়গুলো স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় বালতির মধ্যে কিছু পানি জমে যেতে পারে যা বালতি উল্টালে টপ টপ করে পানি পড়তে পারে। ওই অবস্থায় কাপড় গুলো কি পাক থাকবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি মূলনীতি জেনে নেওয়া জরুরি—অদৃশ্য নাপাকি (যেমন: পেশাব, মদ ইত্যাদি) দূর করার জন্য কাপড় তিনবার ধোয়া এবং প্রতিবার নিংড়ানো শর্ত। তবে এখানে "তিনবার ধোয়া" বলতে উদ্দেশ্য হলো নাপাকির অস্তিত্ব দূর করা, যতক্ষণ না নাপাকির কোনো চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) না থাকে। নিংড়ানোর উদ্দেশ্য হলো কাপড় থেকে নাপাক মিশ্রিত পানি বের করে দেওয়া, যাতে পরবর্তী ধোয়ার পানি নাপাকির সাথে মিশে না যায়।

১. তিনবারের মধ্যে একাধিকবার নিংড়ানো:

হ্যাঁ, আপনি যদি প্রতিবার (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার) একবারের পরিবর্তে ৪-৫ বার নিংড়ান, তবুও কাপড় পাক হবে।

দলিল:
রদ্দুল মুহতার (১/১৮৫) ও ফাতাওয়া হিন্দিয়্যায় (১/২৭) বর্ণিত আছে—
"নাপাক কাপড় পাক করার নিয়ম হলো তিনবার ধোয়া, প্রতিবার নিংড়ানো। তবে নিংড়ানোর সংখ্যা নির্ধারিত নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো নাপাকি দূর করা।"
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাহ, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭)

২. কুরআন পড়ার বিধান:

যেহেতু আপনার ধোয়ার পদ্ধতি শরিয়তসম্মতভাবে সঠিক ছিল (তিনবার ধোয়া ও নিংড়ানো), তাই কাপড় পাক ছিল এবং সেই অবস্থায় কুরআন পড়া বৈধ ছিল। আপনার কুরআন পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই এবং কোনো কাফফারাও নেই। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

৩. বালতিতে জমা পানি ও কাপড়ের পবিত্রতা:

কাপড় ধোয়ার পর যদি বালতিতে রাখা হয় এবং কাপড় থেকে পানি ঝরে বালতিতে জমে যায়, তাহলে কাপড় পাক থাকবে। কারণ কাপড় থেকে যে পানি ঝরে তা হলো পাক পানি, যেহেতু কাপড় ইতিমধ্যে পাক হয়ে গেছে। তবে শর্ত হলো, কাপড়টি পাক হওয়ার পর যেন নাপাক কিছুর সংস্পর্শে না আসে। বালতিতে জমা পানি যদি পাক হয় এবং কাপড় পাক থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে যদি বালতিটি নিজেই নাপাক হয়, তাহলে সেই পানি নাপাক হয়ে যেতে পারে এবং কাপড় আবার নাপাক হয়ে যাবে। তাই বালতিটি পাক হওয়া জরুরি।

দলিল:
ফাতাওয়া উসমানি (১/১৮৫) ও ইমদাদুল ফাতাওয়ায় (১/১৪২) বর্ণিত—
"পাক কাপড় থেকে পানি ঝরলে তা পাক থাকে, যতক্ষণ না নাপাকির চিহ্ন দেখা যায়।"
(ফাতাওয়া উসমানি ১/১৮৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৪২)

উপসংহার:
আপনার ধোয়ার পদ্ধতি সঠিক ছিল, কাপড় পাক হয়েছে, কুরআন পড়া বৈধ ছিল এবং বালতিতে জমা পানি কাপড়কে নাপাক করেনি। তবে ভবিষ্যতে বালতিটি পাক রাখার চেষ্টা করবেন।

والله أعلم بالصواب
(আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.