মুখে উচ্চারণ না করে তালাক দেয়ার বিধান।

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 3911
Questioner: Rumina Khatun
Question Asked: 13 Aug 2026, 03:19 PM
Reviewed & Published: 13 Aug 2026, 03:47 PM
Views: 21
Tokens: 33,735
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু

এক নম্বর প্রশ্ন
ফেসবুকে প্রথম পেজে যা কিছু আসবে আমি পড়বো না পড়লে আমার স্ত্রী তালাক হবে আমার যতটা মনে পড়ে তখন আমি এতটা মুখে উচ্চারণ করে বলেছি নয়তো মনে মনে আমার দিতে হয়েছে কিন্তু আমি সেটা এতদিন করে আসছি জানিনা তখন মুখে উচ্চারণ করেছে কি বা আমার এমন উদিত হয়েছিল কিন্তু আমি ভয়েতে সেগুলো করে আসছি এখন এর থেকে আমার কিছু প্রশ্ন জাগছে যেগুলো আমি নিজে করছি।

এক নম্বর পয়েন্ট
এখন এখান থেকে প্রশ্ন হচ্ছে যে আমি নাপাক অবস্থায় আছি ইসলামিক কন্টেন এসেছে আমি সেই সময় কেমন করে পড়বো সেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নামেই লেখা থাকতে পারে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ার না কারনে কি তালাক হবে

দুই নম্বর পয়েন্ট
আমি তখন বলেছি দেখলে পর্ব এলে পড়বো যেটা বলিনি তখন বলেছি কি জানিনা এখন মনে করতে পারছি না যে ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়লে তালাক হবে কিন্তু আমার উদ্দেশ্য সেটাই ছিল। যে যদি লেগে থাকি যে ইচ্ছাকৃতভাবে যদি না পড়ি কিন্তু মুখে হয়তো উচ্চারণ করে বলিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যদি না পড়ি তাহলে তালাক হবে তো একদিন আমি এরকম ভিডিও এসেছিল আমি পড়ছিলাম পড়তে পড়তে কোন একটা কাজ করছিলাম ভিডিওটা অটোমেটিক্যালি রিফ্রেস হয়ে যায় আমি পুরোটা পড়তে পারিনি এতে কি তালাক হবে? আমি তো ইচ্ছাকৃতভাবে রিচার্জ করিনি পড়তে পড়তে কোন একটা কাজ এসে গিয়েছিল সেটা করছিলাম আবার পড়ার উদ্দেশ্যে যখন মোবাইল অন করি দেখি যে সেটি রিফেস হয়ে গেছে এতে কি তালাক হবে আমি তো এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি। কিন্তু আমি যখন সত্যটা দিই তখন এটা আমি বলেছি কি জানি না যে ইচ্ছা করে যদি না পড়ি বা আমার পড়ার আগে যদি রিফেস্ হয়ে যায় তাহলে তালাক হবে কিন্তু আমার ইচ্ছা সেটাই ছিল অন্তরে যদি আমি ইচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি না করি কিন্তু মুখে হয়তো তখন এটা বলেছি যে না পড়লে তারা ভাবে পুরোটা হয়তো বলিনি এখন আমি কি করবো

তিন নম্বর পয়েন্ট
সন্দেহ আছে যে সেটি আমি মুখে উচ্চারণ করে বলেছিলাম নাকি ভাবনা এসেছিল কিন্তু তখন যদি সত্যিই আমি মুখে উচ্চারণ করে বলে থাকি এখন আমার সন্দেহ এসে গেছে একটা প্রতি যেহেতু এতদিন আমি এটা করে আসছি কিন্তু এখন সন্দেহ আসছে যে সত্যি আমি মুখে উচ্চারণ করেছি তো নাকি মনে মনে এমন ভাবনা ছিল ভয়তে আমি এতদিন করে আসছি কারণ আমি সব সময় ওয়াসওয়াসাই আক্রান্ত থাকি মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে এক প্রকার আমার স্ত্রী আমাকে সব সময় সূচি বলে ডাকে কারণ আমি এটা আপনাকে সুচি বায় ু রোগ বলে তাই। আমাকে সঠিক পরামর্শ দিন আর দয়া করে আমাকে অন্য কারো কাছে গিয়ে উত্তর দিতে বলবেন না কারণ আমি ইন্ডিয়া থেকে প্রশ্ন করছি ওয়েস্ট বেঙ্গলে। এখানে ওরকম আপনাদের মত ফতোয়া বিভাগ নেই এবং বিজ্ঞ আলেম নেই মুফতি সাহেব পাওয়া যায় না। এখানে মাওলানা হাফেজ কি আছে দয়া করে আপনারা আমাকে সঠিক পরামর্শ দেন আমি সেই ভাবে চলতে চাই। একটা জীবন আমি শান্তিতে বাঁচতে চাই প্লিজ আমাকে বাঁচান।

দুই নম্বর প্রশ্ন
আমি এমন শর্ত যুক্ত তালাক রেখেছি কি জানিনা যে আমি মোবাইলে আরবি লেখা দেখলে আল্লাহু আকবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না বললে আমার স্ত্রী তালাক হবে এমন আমি মুখে উচ্চারণ করে বলেছি কি জানিনা থেকে কিছু পয়েন্ট বের হয় যা আমি নিচে বলছি

এক নম্বর পয়েন্ট
আমি নিশ্চির নয় যে আমি মুখে উচ্চারণ করে এমন শর্ত যুক্ত তালাক দিয়েছে সেটা আমি নিশ্চিত নয়। কিন্তু এতদিন আমি করে আসছি হয়ত ভয়েতে যে এটা যদি হয় তাই আমি এতদিন ধরে কোরে আসছি কিন্তু হুজুর আমার জানার বিষয় এটা যে সত্যিই যদি তখন আমি মুখে উচ্চারণ করে এটা সত্য দিয়ে থাকি কিন্তু এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে আমি আজও মুখে সেটা উচ্চারণ করেছি কি এবং এটাকে এড়িয়ে যায় তাহলে এর পরে কি তালাক হবে

দুই নম্বর পয়েন্ট
আমি সম্ভবত ফেসবুকের উপরে ইসলামিক কন্টেনারে এমনটা হয়তো সত্তরে গেছি কিন্তু আরবি লেখা দেখলে সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলতে হবে এমনটা সত্যি বলে আমি নিশ্চিত হতে পারছি না দয়া করে সাজেশন দেন আর বুঝতে না পেরে নিশ্চিত হতে না পেরে শতটাকে নিজের কাছে নিজে ঘুরিয়ে বলেছি যে সত্য এমন হবে যে আরবি লেখা দেখলে আল্লাহু আকবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবো কিন্তু একই জায়গায় অনেকগুলো আরবি লেখা দেখিয়ে দিন। সবগুলোর জন্য আল্লাহু আকবর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবো। এমনটা নয় একবারই বলবো বা কিছু লোক যাচ্ছে বিভিন্ন পতাকা নিয়ে সেখানে আরবি লেখা অনেকগুলো পতাকা আছে সবগুলোর জন্য বলব এমনটা সত্য নয় একবারই বলবো। সবগুলোর জন্য বা কিছু মেয়ে যাচ্ছে হিজাব পরা মাথায় নেকাবে লেখা আরবি লেখা আছে অনেকগুলো হয়তো পাঁচ থেকে ছয় জন লেডিস যাচ্ছে সবার জন্য আল্লাহু আকবার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে হবে এমনটা সত্য নয় একজনার জন্য বলবো। হুজুর এটা আমি নতুন সত্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলিনি বরং সত্যটা বুঝতে না পেরে ঘুরে আমি ভয়তে এমন করে বলে এমনভাবে শতট করে আসছিলাম কিন্তু এইভাবে প্রতিদিন চলবে হুজুর আমাকে সঠিক পথ দেখান আমি কি এটা বাদ দিতে পারি এরকম বলার কারন এটা কি নতুন সত্যি হিসেবে গণ্য হবে না এটা বাতিল হয়ে যাবে আমি তো নতুন সত্যি হিসেবে বলিনি আগের সত্য বুঝতে না পেরে বলেছি দয়া করে আমাকে সাজেশন দেন।

তিন নম্বর প্রশ্ন
আমি গুগল ক্রোম ব্রাউজারে কিছু সার্চ করছিলাম সেই সময় আমার মনে এমন ভাবনা এসেছিল কি আমি সত্যি তখন মুখ উচ্চারণ করে সত্য দিয়েছি। যে সাজবারে যা সার্চ করব সেটি যদি ডিলিট না করি তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হবে এমনটা মুখে উচ্চারণ করে বলেছি নাকি মনে মনে বলেছি আমার মনে ভাবনা এসেছে ভয় পেয়ে এতদিন শর্তটা পূরণ করে আসছি। এর থেকে কিছু পয়েন্ট আপনাকে নিচে আমি করছি দয়া করে দেখেন

এক নম্বর পয়েন্ট
আমি তখন মুখে উচ্চারণ করেছি, কিছু মনে মনে বলেছি বা মনে মনে এমন ভাবনা এসেছে ভয় পেয়ে করে আসছিলাম এতদিন কিন্তু সত্যটা আমি কেমন দেখেছিলাম নিশ্চিত হতে পারছি না আমি কি এমন বলেছি যে গুগল ক্রোম বাজারে ঝার সার্চ করব সেই সাজবার থেকে হিস্ট্রি ডিলিট না করলে আমার স্ত্রী তালাক হবে নাকি এমন বলেছি? সাজবার হিস্ট্রি এবং যা কিছু আছে ইউজ করা হিস্ট্রি ছিল উভয় ডিলিট করতে হবে। এমনটা রেখেছি সেটা প্রতি সন্দেহ সম্ভবত শুধু সাজবার হিস্ট্রি টা ডিলিট করার কথা এসেছে। যতটা মনে পড়ছে ।

দুই নম্বর পয়েন্ট
আমি তখন মুখে আমান উচ্চারণ করে বলেছি কি জানি না যে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিলিট না করলে তালাক হবে। নাকি শুধুই এমন বলেছি যে ডিলিট না করলে তালাক হবে। কারণ একদিন আমি ডিলিট করেছি কিন্তু কোন টেকনিক্যাল ফলটির কারণে সেটির ডিলিট হয়নি। কিন্তু সেই মুহূর্তে সেটা ডিলিট হয়েছে এমনটা সহজ ছিল। কিন্তু পরে আবার একসাথে যখন ফিরে এসে দেখি যে না সেটি ডিলিট হয়নি কিন্তু আমিও মনে আছে আমি ডিলিট করেছি কিন্তু কোন টেকনিক্যাল ফল্ট এর কারণে সেটা ডিলিট হয়নি এখন এর দ্বারা কি তালাক হবে আমার মনেই নেই যে আমি কেমন সত্যি রেখেছি বা এটি মুখে উচ্চারণ করে রেখেছি নাকি মনে মনে উদিত হয়েছিল ভয়ে এতদিন পরে আসছিলাম তবে আমি শুধু সাজবার হিস্ট্রি টা ডিলিট করে আসছিলাম এখন আমি কি করবো

তিন নম্বর পয়েন্ট
সততা আমি বুঝতে না পেরে পরে নিজের কাছে নিজে বুঝে বলেছি যে সত্যি যদি এমন হয় যে শুধু সাজ বার ডিলিট করব কিন্তু আমি ডিলিট করে দেবো টেকনিকাল ফলটা যদি ডিলিট না হয় তার জন্য আমার কিছু করার নেই। এটি সত্য হিসেবে ধরা হবে না বুঝতে না পেরে পরে এমনটা নিজের কাজে বলেছি এটা কি নতুন সত্যি হিসেবে গণ্য হবে আমি কিন্তু নতুন সত্যি হিসেবে এটাকে বলিনি উদ্দেশ্য করে বরং এটি বুঝতে না পেরে বলেছি। আমি কি এগুলো কি বাদ দিতে পারব এগুলো কি বাতিল হবে। সত্যি নিশ্চিত হতে পারছি না কি বলেছিলাম বা মুখে উচ্চারণ করে বলেছিলাম কি।

চার নম্বর প্রশ্ন
একদিন আমি আমার বাড়ির জানালা দিয়ে থুতু ফেলছিলাম তখন আমি মুখে উচ্চারণ করে বলেছি না কি মনে এমন উদিত হয়েছিল যে শুধু জানলায় পড়লে না মুছে দিলে আমার স্ত্রী তালাক হবে। তো এর থেকে কিছু পয়েন্ট আমি নিচে করছি।

এক নম্বর পয়েন্ট
এটা আমি মুখে উচ্চারণ করে বলেছি কি আমি জানিনা সবসময়ের জন্য এটা সত্যযুক্ত তালাক দিয়েছি কি যাও জানিনা সেই সময়ের জন্য এটা বলেছি নাকি সবসময়ের জন্য এটা সতর্কিত তালাক হিসেবে বলেছি এবং উচ্চারণ করে বলেছি কি আমি নিশ্চিত হতে পারছি না

দুই নম্বর পয়েন্ট
অন্য কারো বাড়ি গেলে জানালা দিয়ে যদি থুতু ফেলি এবং সেই জানালে যদি থুতু পড়ে তাহলে কি সেই থুতু টা মুছে ফেলতে হবে? আমি কি অন্য কারো বাড়ির সঙ্গে সততা এড করেছিলাম আমি হয়তো যদি চান করে থাকি হয়তো শুধু এমন বলেছি যে আমার বাড়ি জানালা এমনটা আমার উদ্দেশ্য ছিল সব জায়গার জন্য এমনটা আমার শর্ত দেওয়া ছিল কি জানিনা। অন্য জায়গায় একবার এখন শুধু ফেলেছি জানালায় লেগেছিল আমি মুছেছি যতটুকু দেখেছি বাট আড়াই জায়গায় বুঝতে পারবে সে তালাক হবে। বুঝে না পেরে নিশ্চিত না হতে পেরে আমি নিজের কাছে নিজে ঘুরিয়ে বলেছি যে আমি দেখতে পেলে মুছে দেব না চোখে পড়লে মুছবো না। কিন্তু এটা আমার বাড়ি জানলা নয় অন্য জানালা। সত্যটা এমন ভাবনা এসেছিল আমার বাড়ির প্রতি হয়তো বাড়ি জানালার প্রতি, অন্য জানালার প্রতি এমনটা দিয়েছে কি নিশ্চিত নয় সেটাও এখন সন্দেহ পরিণত হয়েছে কিন্তু পরে নিজের কাছে নিজে এটাকে ঘুরে বলার জন্য কি আলাদা স্বার্থ পরবে? এটা কিন্তু আমি আলাদা শর্ত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলিনি বরং আগে সত্যটা বুঝতে না পেরে বলেছি। দয়া করে জানান।

পাঁচ নম্বর প্রশ্ন
আমি এমন শর্ত যুক্ত তালাক রেখেছি কি আমি নিশির হতে পারছি না যে আমাকে কেউ সালাম দিলে আমি যদি সালামের উত্তর না দেই তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হবে এমনটা মুখে উচ্চারণ করে বলেছি কি আমি নিশ্চিত হতে পারছি না এর থেকে কিছু পয়েন্ট আমি নিচে দিচ্ছি।

এক নম্বর পয়েন্ট
নিশিত হতে না পেরে নিজের কাছে নিজে বলেছি যে সত্য এমন হবে যে কেউ আমাকে সালাম দিয়েছে আমি যেন নিশ্চিত হতে পারি সে আমাকে সালাম দিয়েছে তখন সালামের উত্তর দেব। একদিন আমি কোন দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পিছন থেকে কোন এক ব্যক্তি আমাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিয়েছে কেউ অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে জানি না তিনি সালাম দিয়েছেন কিন্তু আমি নিশি হতে পারিনি তবু আমি দানাকে উদ্দেশ্য করে ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ বারাকাতুহু বলেছেন জোরে বলিনি আস্তে আস্তে বলেছি তানাকে উদ্দেশ্য করে। এভাবেই কি তালাক হবে? আমিতো টানাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিয়ে দিছি কিন্তু আমি তো জানি না তুমি আমাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিয়েছে দয়া করে আমাকে সাজেশন দেন


বিদ্রোহ
যতগুলো প্রশ্ন করেছি সন্দেহ মুখে উচ্চারণ করে পড়েছি কিনা এবং বুঝতে না পেরে পরে সত্যগুলোকে নিজের কাছে নিজে ঘুরেফিরে বলেছি এইভাবে বলবে এইভাবে বলবো কিন্তু এগুলো নতুন সত্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলিনি বরং বুঝতে না পেরে বলেছি নতুন সত্য পতিত হবে নাকি এগুলো বাদ যাবে এবং আমার জন্য সঠিক পরামর্শ কি হবে দয়া করে আমাকে সঠিক পরামর্শ দিন আমি ইন্ডিয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল থেকে প্রশ্ন করছি আমার এখানে কোন ফতোয়া বিভাগ নেই এবং আপনাদের মত বিজ্ঞ আলেম ও নেই তাই আপনাদের কাছে প্রশ্ন করছি দয়া করে আমাকে সঠিক সাজেশন দেন।

Answer

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।

প্রিয় ভাই, আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনি স্পষ্টতই ওয়াসওয়াসা (waswasah/obsessive doubt) তে ভুগছেন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আমি আপনার প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর দিচ্ছি এবং সাথে সাথে দৃঢ় পরামর্শ দিচ্ছি।


মূলনীতি: তালাকের শর্ত

তালাক শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হয় যখন তা স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করা হয় (বা লিখিতভাবে প্রকাশ করা হয়) এবং উচ্চারণের সময় তালাকের নিয়ত থাকে। মনে মনে কোনো চিন্তা বা ভাবনা আসা তালাক নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ" "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনে মনে যে কথা আসে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।" (সহীহ বুখারী: 2528, সহীহ মুসলিম: 127)


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর:

১. ফেসবুক পড়া সংক্রান্ত শর্ত

ক) নাপাক অবস্থায় ইসলামিক কন্টেন্ট পড়া:

  • নাপাক অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বা পড়া নিষিদ্ধ, কিন্তু ইসলামিক পোস্ট/কন্টেন্ট পড়া বা আল্লাহ ও রাসূলের নাম বলা নিষিদ্ধ নয়। তবে উত্তম হলো পবিত্র থাকা।
  • আপনি যদি নাপাক অবস্থায় ইসলামিক কন্টেন্ট না পড়েন, তাহলে এতে কোনো তালাক হবে না। কারণ আপনার শর্ত ছিল "পড়বো না পড়লে তালাক হবে" — কিন্তু নাপাক অবস্থায় না পড়া ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা নয়, বরং শরীয়তের নিয়ম মেনে চলা।

খ) ভিডিও রিফ্রেশ হয়ে যাওয়া:

  • ভিডিওটি অটোমেটিক রিফ্রেশ হয়ে যাওয়া আপনার ইচ্ছাধীন ছিল না। এটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই এতে তালাক হবে না। শর্ত পূরণে অক্ষমতা বা অনিচ্ছাকৃত বাধা তালাক সৃষ্টি করে না।

গ) সন্দেহ: মুখে বলেছি নাকি মনে মনে:

  • যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে মুখে উচ্চারণ করেছেন কিনা, তাই মূলনীতি হলো — সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর হবে না। তালাক প্রমাণের জন্য নিশ্চিততা প্রয়োজন। শুধু সন্দেহ থাকলে তালাক পতিত হয় না।

২. আরবি লেখা দেখে "আল্লাহু আকবার" বলা সংক্রান্ত শর্ত

ক) শর্তটি মুখে উচ্চারণ করেছেন কিনা — নিশ্চিত নন:

  • আপনি নিশ্চিত নন যে শর্তটি মুখে উচ্চারণ করেছেন। তাই এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। সন্দেহ থাকলে তালাক পতিত হয় না।

খ) একাধিক আরবি লেখা দেখলে প্রতিটির জন্য বলা:

  • আপনি যদি শর্ত দিয়ে থাকেন, সেটি ছিল "আরবি লেখা দেখলে আল্লাহু আকবার বলবো" — এর অর্থ হলো আরবি লেখা দেখামাত্রই বলা। একই সময়ে একাধিক লেখা দেখলে একটি বলা যথেষ্ট। প্রতিটি লেখার জন্য আলাদাভাবে বলা শর্তের মধ্যে পড়ে না, যদি না আপনি স্পষ্টভাবে তা বলেছিলেন।

গ) নতুন শর্ত যোগ করা:

  • আপনি নিজে নিজে বুঝে বলেছেন "সবগুলোর জন্য বলবো" — এটি নতুন শর্ত হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ আপনি এটি নতুন তালাকের নিয়তে বলেননি, বরং আগের শর্ত বুঝতে না পেরে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। এটি বাতিল।

৩. গুগল ক্রোম হিস্ট্রি ডিলিট সংক্রান্ত শর্ত

ক) মুখে বলেছেন নাকি মনে মনে — নিশ্চিত নন:

  • নিশ্চিত না থাকলে তালাক পতিত হবে না। সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক হয় না।

খ) ডিলিট করেছেন কিন্তু টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে ডিলিট হয়নি:

  • আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিলিট করেছেন, কিন্তু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তা হয়নি। এটি আপনার ইচ্ছাধীন ছিল না। তাই তালাক হবে না। আপনি যা করার চেষ্টা করেছেন, তা করেছেন — ফলাফল আপনার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

গ) নিজে নিজে বুঝে বলা:

  • এটি নতুন শর্ত নয়, বরং আগের শর্ত বুঝতে না পেরে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা। এটি বাতিল।

৪. জানালায় থুতু ফেলা সংক্রান্ত শর্ত

ক) শর্তটি মুখে বলেছেন কিনা — নিশ্চিত নন:

  • নিশ্চিত না থাকলে তালাক পতিত হবে না।

খ) অন্য কারো বাড়ির জানালায় থুতু পড়লে:

  • আপনার শর্ত ছিল "আমার বাড়ির জানালায়" — আপনি নিজেই বলেছেন উদ্দেশ্য ছিল নিজের বাড়ির জানালা। অন্য বাড়ির জানালায় পড়লে তা শর্তের আওতায় পড়ে না। আর আপনি মুছে দিয়েছেন, তাই কোনো সমস্যা নেই।

গ) নিজে নিজে ঘুরিয়ে বলা:

  • এটি নতুন শর্ত নয়, বাতিল।

৫. সালামের উত্তর না দেওয়া সংক্রান্ত শর্ত

ক) শর্তটি মুখে বলেছেন কিনা — নিশ্চিত নন:

  • নিশ্চিত না থাকলে তালাক পতিত হবে না।

খ) সালাম দিয়েছেন কিনা নিশ্চিত না হয়ে উত্তর দেওয়া:

  • আপনি সালামের উত্তর দিয়েছেন, যদিও আপনি নিশ্চিত ছিলেন না যে সালামটি আপনাকে দেওয়া হয়েছে। আপনি উত্তর দিয়েছেন — তাই শর্ত লঙ্ঘিত হয়নি। তালাক হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

১. ওয়াসওয়াসা (Waswasah) থেকে মুক্তি:

আপনি স্পষ্টতই ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত। এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ" "শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে বলে: এটা কে সৃষ্টি করল? ওটা কে সৃষ্টি করল? এমনকি বলে: তোমার রবকে কে সৃষ্টি করল? যখন সে এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এ চিন্তা বন্ধ করে দেয়।" (সহীহ বুখারী: 3276, সহীহ মুসলিম: 134)

২. ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য নিয়ম:

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি যদি তালাক বা শপথের ব্যাপারে সন্দেহে থাকে, তাহলে সে সন্দেহকে আমলে আনবে না। কারণ মূলনীতি হলো — নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই পতিত হয় না।"

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত, তার জন্য ওয়াসওয়াসা ত্যাগ করাই ওয়াজিব। সে যেন সন্দেহের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে।"

৩. আপনার করণীয়:

  • আপনার স্ত্রী আপনার জন্য হালাল। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে। কোনো তালাক পতিত হয়নি।
  • ওয়াসওয়াসা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। শয়তান আপনাকে ধ্বংস করতে চায়। আপনি যতই এগুলো নিয়ে ভাববেন, শয়তান ততই আপনাকে আরও সন্দেহে ফেলবে।
  • আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন যখনই এমন সন্দেহ আসে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন — এটি একটি মানসিক রোগ (OCD), যার চিকিৎসা প্রয়োজন। ইসলামিক পরামর্শের পাশাপাশি চিকিৎসাও জরুরি।

৪. ইমামদের বক্তব্য:

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তালাকের ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে, মূলনীতি হলো — বিবাহ বহাল থাকবে। তালাক কেবল নিশ্চিত হলেই পতিত হবে।"

শাইখ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত, তার তালাকের সন্দেহ গণ্য হবে না।"


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

আপনার স্ত্রী আপনার জন্য হালাল। কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ রয়েছে। আপনি যা করেছেন, তা ছিল ওয়াসওয়াসার কারণে — যা ইসলামী আইনে গণ্য নয়।

আপনার জন্য পরামর্শ:

  1. ওয়াসওয়াসা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন।
  2. "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন।
  3. মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  4. আপনার স্ত্রীর সাথে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করুন।

আল্লাহ আপনাকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার জীবনকে শান্তিময় করুন। আমিন।


দলিলসমূহ:

  • সহীহ বুখারী: 2528, 3276
  • সহীহ মুসলিম: 127, 134
  • ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে কাইয়্যিম, ইবনে উসাইমীন, আল-আলবানী — ওয়াসওয়াসা ও সন্দেহ সংক্রান্ত ফতোয়া

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.