উচ্চতার জন্য বিয়ে বাদ দেওয়া সম্পর্কে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
কোন একজন ব্যক্তি দ্বীনদার হলেও তার উচ্চতা যদি আমার পছন্দমাফিক না হয় তবে তাকে হ্যাঁ বলা ঠিক হবে? তার উচ্চতার কারণে অন্তরে অনবরত সংকোচ তৈরি হচ্ছে।
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নের উত্তর:
বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিত্ব (ধর্মপরায়ণতা) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তখন তাকে বিয়ে করিয়ে দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হবে।" (তিরমিজি: ১০৮৪, ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭)
উচ্চতার বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা:
১. ইসলামে বিয়ের জন্য উচ্চতা কোনো শর্ত নয়। দ্বীনদারিত্ব ও চরিত্রই মূল বিবেচ্য বিষয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:
وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ "একজন মুমিন দাসও মুশরিকের চেয়ে উত্তম, যদিও তোমাদের কাছে সে (মুশরিক) ভালো লাগে।" (সূরা আল-বাকারা: ২২১)
২. উচ্চতার কারণে সংকোচ তৈরি হওয়া — এটি শয়তানের প্ররোচনা হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ "কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। কারণ সে যদি তার একটি স্বভাব পছন্দ না করে, তবে তার অন্য স্বভাব পছন্দ হবে।" (মুসলিম: ১৪৬৯)
এই হাদিসটি উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। যদি উচ্চতা পছন্দ না হয়, তবে তার দ্বীনদারিত্ব, সচ্চরিত্র, আমানতদারিতা ইত্যাদি অনেক ভালো গুণ থাকতে পারে।
৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি: তিনি বলেছেন, বিয়ের প্রস্তাবে দ্বীনদারিত্ব ও সচ্চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। দুনিয়াবি বৈশিষ্ট্য (ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য) গৌণ বিষয়। (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ)
৪. ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় (আলমগীরি) উল্লেখ আছে: কুফু (সমতা) নির্ধারণে দ্বীনদারিত্বই মূল বিবেচ্য, উচ্চতা বা শারীরিক গঠন কুফুর শর্ত নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০৮)
আপনার করণীয়:
১. দ্বীনদার ব্যক্তিকে উচ্চতার কারণে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। দ্বীনদার স্বামী আপনার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য কল্যাণকর হবে।
২. উচ্চতার কারণে সংকোচ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি, তবে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্তের কারণ হওয়া উচিত নয়। বরং দ্বীনদারিত্ব ও চরিত্রের দিকে তাকান।
৩. ইস্তিখারা করুন — আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করুন। যদি দ্বীনদার ব্যক্তি হয় এবং আপনার পরিবার সন্তুষ্ট থাকে, তবে তাকে হ্যাঁ বলা উত্তম। উচ্চতার ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে দেখা ঠিক নয়।
৪. মনে রাখবেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ "নারীর সাথে বিয়ে করা হয় চারটি বিষয়ের জন্য: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও, তোমার হাত ধুলাময় হোক (অর্থাৎ সফল হও)।" (বুখারি: ৫০৯০, মুসলিম: ১৪৬৬)
এই হাদিসের নির্দেশনা পুরুষের পাশাপাশি নারীর জন্যও প্রযোজ্য।
সিদ্ধান্ত: যদি ব্যক্তিটি সত্যিই দ্বীনদার, সচ্চরিত্রবান এবং আমানতদার হয়, তবে উচ্চতার কারণে তাকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। দ্বীনদার স্বামীই প্রকৃত কল্যাণ। উচ্চতার কারণে যে সংকোচ তৈরি হচ্ছে, তা দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন এবং দ্বীনদারিত্বের দিকে মনোযোগ দিন।
আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন।