স্বামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ হলে করণীয় ইসলাম
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার বিয়ের ৩ বছর + আমার ২ বছর এর একটা মেয়ে আছে, আমাদের সম্পর্ক ভালো না সেই প্রথম থেকেই,তার মধ্যে মায়া, মহব্বত দয়া এইসব নাই আছে কেবল শারিরীক চাহিদা, যা আমাকে কস্ট দেয়,আল্লাহর জন্য আমি সব সময় তার ডাকে সারা দিয়েছি কিন্তু এখন আমি ৩ মাসে প্রেগন্যান্ট আর এই ছোট বাচ্চা আমার একা সামলাইতে হয় তাই মা এর বাসায় আছি,এইটা নিয়েই সমস্যা। আমি নিজেকেই সামলাতে পারতেছি না সেখানে কিভাবে আমি বাচ্চাকে নিয়ে অইখানে থাকব আর অইখানে সে রাখতেও পারে না অবস্থা এমন আমি বাথরুমে গেলেও বাচ্চা কান্না করতে থাকবে যতক্ষন না বের হই,তারা বাবা এতই কম টাইম দিয়েছে আমাদের যে বাচ্চা এখন তার কাছে যায়ই না অথচ সে সারাদিন বাসায় অফিস করে,
আমি প্রথম থেকেই তাকে পছন্দ করি নি আমি কেবল আল্লাহর জন্য বিয়েটা করেছিলাম একজন দিন্দার সাথি ভেবে যদিও যা ভেবেছি তার কাছেও নাই,আমি না চাইতেও তার ডাকে সারা দিয়েছি কিন্তু এখন অসুস্থ খারাপ লাগে তার কাছে যাইতেও মনে হইএ এইটা কি আমার গুনাহ হবে,
বিয়ের আগে ভাবতাম ইসলামে নারিদের কত সম্মান মর্যাদা এখন মনে হচ্ছে কেবল পুরুষদের সব সুবিধা, তাদের চাহিদা তাদের সব আমার মানুসিক হালতের কোন মুল্য নাই, এইভাবে কি আমি গুনাহগার হইতেছি কি করার তাহলে,এত কঠিন ইসলাম তাহলে মেয়েদের জন্য?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনার কষ্টের কথা শুনে খুবই মন খারাপ হলো। আপনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও সাহায্য দান করুন। আমিন।
আপনার প্রশ্নের উত্তর:
১. স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়া কি গুনাহ?
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, স্ত্রীর উপর স্বামীর বৈধ শারীরিক চাহিদা পূরণ করা ওয়াজিব (অবশ্যকীয়), তবে এর কিছু শর্ত রয়েছে:
-
অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতা থাকলে স্ত্রী অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মতে, স্ত্রী যদি অসুস্থ হয় বা গর্ভবতী অবস্থায় কষ্ট হয়, তাহলে সে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৬১)
-
গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে প্রথম ও শেষ trimester-এ শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যদি ডাক্তার বা আপনার শারীরিক অবস্থা বলে যে এতে ক্ষতি হতে পারে, তাহলে আপনি অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন।
-
মানসিক নির্যাতন বা কষ্টের ক্ষেত্রে: ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা ও দয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। আল্লাহ বলেন: "তোমাদের মধ্যে থেকে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে করিয়ে দাও... তারা অভাবমুক্ত হয়ে যাবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে।" (সূরা আন-নূর: ৩২)
২. স্বামীর কাছে যেতে খারাপ লাগা কি গুনাহ?
আপনার অনুভূতি স্বাভাবিক। যখন সম্পর্কে ভালোবাসা থাকে না, তখন শারীরিক সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়। এটি গুনাহ নয়, বরং এটি আপনার মানসিক অবস্থা। তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী:
- যদি আপনি শারীরিকভাবে সক্ষম হন এবং কোনো শরয়ী ওজর না থাকে, তাহলে স্বামীর বৈধ দাবি পূরণ করা আপনার উপর ওয়াজিব।
- কিন্তু গর্ভাবস্থা এবং শারীরিক/মানসিক অসুস্থতা একটি বৈধ ওজর (excuse) হিসেবে গণ্য হবে।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) বলেন: "যদি স্ত্রী অসুস্থ হয় বা গর্ভবতী হয় এবং সহবাসে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৬১)
৩. ইসলাম কি নারীদের প্রতি কঠোর?
আপনার এই ধারণা ভুল। ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন:
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ "নারীদের তেমনই (অধিকার) আছে, যেমন পুরুষদের আছে, তবে পুরুষদের মর্যাদা কিছুটা বেশি।" (সূরা আল-বাকারা: ২২৮)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।" (তিরমিযী: ১১৬২)
৪. আপনার করণীয়:
১. স্বামীর সাথে কথা বলুন: আপনার মানসিক অবস্থা, গর্ভাবস্থার কষ্ট, সন্তান লালন-পালনের চাপ—এই সব বিষয়ে তাকে জানান। সম্ভবত সে বুঝতে পারছে না আপনার অবস্থা।
২. মধ্যস্থতা করুন: পরিবারের বড়দের মাধ্যমে বা সমাজের বিজ্ঞ আলেমদের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করুন।
৩. ধৈর্য ধরুন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন।" (বুখারী: ১৪৬৯)
৪. দোয়া করুন: আল্লাহর কাছে সম্পর্ক ভালো করার জন্য দোয়া করুন। হযরত মুসা (আঃ) এর দোয়া পড়তে পারেন: "রাব্বিশরাহ লি সাদরী..." (সূরা ত্বহা: ২৫-২৮)
৫. বৈধ ওজরে অস্বীকৃতি: গর্ভাবস্থায় যদি শারীরিক সম্পর্ক আপনার জন্য কষ্টকর হয়, তাহলে আপনি বিনয়ের সাথে স্বামীকে বুঝিয়ে বলুন। এটি গুনাহ নয়।
৫. তালাকের বিষয়ে:
তালাক ইসলামে অপছন্দনীয় কিন্তু জায়েয। তবে তালাকের আগে সব চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ বলেন:
وَإِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا "যদি তারা উভয়ে সংশোধন চায়, আল্লাহ তাদের মধ্যে মিলন ঘটাবেন।" (সূরা আন-নিসা: ৩৫)
উপসংহার:
প্রিয় বোন, আপনার অনুভূতি ও কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। আপনি গুনাহগার হচ্ছেন না। আপনার গর্ভাবস্থা এবং মানসিক অবস্থা একটি বৈধ ওজর। তবে চেষ্টা করুন:
- স্বামীর সাথে খোলামেলা কথা বলুন
- পরিবারের বড়দের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করুন
- ধৈর্য ও দোয়া অব্যাহত রাখুন
- প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন
আল্লাহ আপনার অবস্থা সহজ করুন এবং আপনার সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দিন। আমিন।
মেটা ডেসক্রিপশন:
SEO কীওয়ার্ডস: ইসলামে স্ত্রীর অধিকার, গর্ভাবস্থায় স্বামীর সাথে সম্পর্ক, বৈবাহিক সমস্যার সমাধান ইসলাম, হানাফী ফিকহ, স্ত্রীর মানসিক কষ্ট, তালাকের বিধান
SEO সার্চ ফ্রেজ:
- গর্ভাবস্থায় স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া কি জরুরি
- স্বামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ হলে করণীয় ইসলাম
- ইসলামে স্ত্রীর মানসিক কষ্টের মূল্য
- হানাফী মাযহাবে স্ত্রীর অধিকার
- বৈবাহিক সমস্যার ইসলামী সমাধান