ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করার বিধান

Business and Job · Hanafi

Question No: 3762
Questioner: Sanzida Smrity
Question Asked: 10 Aug 2026, 09:15 AM
Reviewed & Published: 10 Aug 2026, 09:25 AM
Views: 9
Tokens: 3,817
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমার দুইটি প্রশ্ন আছে।
১/ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে কি চাকরি করা যাবে??নাকি ব্যাংক চাকরির মতো এটা হিসেব হবে??

২/ মেয়েদের জন্য হাতে কাজ করা জামা,শাড়ি,গয়না ইত্যাদি যদি কেউ বিক্রি করে আর কোনো মেয়ে সেগুলো পরে নন মাহরাম এর সামনে যায়।(যাবে এটাই স্বাভাবিক।বিক্রেতাও জানেন) এক্ষেত্রে বিক্রেতার কি গুনাহ হবে এমন শাড়ি পেইন্ট করে বিক্রি করার জন্য???বা বিক্রেতা যদি কোনো একটা ভার্সিটির ভাইভা পরীক্ষা কেন্দ্র করে শাড়ি ডিজাইন করে প্রিন্ট করে বিক্রি করে সেক্ষেত্রে কি গুনাহ হবে???

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করা যাবে কি?

উত্তর: ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল এন্ড কলেজ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ইসলামী ব্যাংকের একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হলো শিক্ষা প্রদান করা, যা একটি বৈধ ও পছন্দনীয় কাজ।

যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম হলো শিক্ষা দান, এবং এটি সরাসরি সুদি লেনদেনের সাথে জড়িত নয়, তাই এখানে শিক্ষক বা অন্যান্য পদে চাকরি করা জায়েয হবে। তবে শর্ত হলো, আপনি যেন প্রতিষ্ঠানটির আয়ের উৎস (যা ব্যাংকের সুদি লেনদেন থেকে আসতে পারে) সরাসরি পরিচালনা বা সেই লেনদেনের সাথে জড়িত না হন। অর্থাৎ, আপনি যদি শিক্ষক বা প্রশাসনিক কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত হন, এবং আপনার কাজ সুদি লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়, তাহলে আপনার চাকরি জায়েয হবে।

তবে, যদি আপনার কাজের দায়িত্ব এমন হয় যা সরাসরি ব্যাংকের সুদি কার্যক্রমকে সহায়তা করে (যেমন: ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ বা তহবিল সংগ্রহ), তাহলে সেটি এড়িয়ে চলা উচিত। সাধারণভাবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ব্যাংকের সুদি লেনদেনের মতো গুনাহের কাজ নয়।

প্রশ্ন ২: মেয়েদের জন্য হাতে কাজ করা জামা, শাড়ি, গয়না ইত্যাদি বিক্রি করা এবং ক্রেতা যদি তা পরে নন-মাহরামের সামনে যায়, তাহলে বিক্রেতার গুনাহ হবে কি?

উত্তর: এই বিষয়ে ইসলামী বিধান হলো, যে পণ্য বিক্রি করা হয় তা যদি বৈধ হয় এবং ক্রেতা তা ব্যবহার করে কোনো হারাম কাজে লাগায়, তাহলে বিক্রেতা সেই গুনাহের অংশীদার হবে না, যদি না বিক্রেতা জানত যে, ক্রেতা তা হারাম কাজে ব্যবহার করবে এবং বিক্রেতার উদ্দেশ্যই ছিল হারাম কাজে সহায়তা করা।

তবে, যদি বিক্রেতা নিশ্চিতভাবে জানে যে, ক্রেতা এই পোশাক বা গয়না পরে নন-মাহরামের সামনে যাবে এবং এর ফলে গুনাহ হবে, তাহলে সেক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য সেই পণ্য বিক্রি করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হবে। কারণ, এটি হারাম কাজে সহায়তা করার শামিল। কিন্তু যদি বিক্রেতা জানে না বা ধারণা করে যে, ক্রেতা সম্ভবত সঠিকভাবে ব্যবহার করবে (যেমন: মাহরামের সামনে বা ঘরে), তাহলে বিক্রি করা জায়েয।

আপনার প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন, "বিক্রেতাও জানেন যে, মেয়েটি নন-মাহরামের সামনে যাবে।" যদি বিক্রেতা নিশ্চিতভাবে জানেন যে, এই পোশাক পরে মেয়েটি নন-মাহরামের সামনে যাবে এবং এর ফলে গুনাহ হবে, তাহলে এই পোশাক বিক্রি করা মাকরূহ হবে। তবে, যদি বিক্রেতা শুধু ধারণা করেন (নিশ্চিত নন) যে, মেয়েটি হয়তো নন-মাহরামের সামনে যাবে, তাহলে বিক্রি করা জায়েয হবে, কারণ ধারণার ভিত্তিতে কাউকে গুনাহের অংশীদার করা যায় না।

ভার্সিটির ভাইভা পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য শাড়ি ডিজাইন ও প্রিন্ট করে বিক্রি করা: যদি শাড়িটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যা শরীয়তসম্মত পর্দার নিয়ম মেনে চলে (অর্থাৎ, শরীর ঢেকে রাখে এবং আকর্ষণীয় না হয়), তাহলে তা বিক্রি করা জায়েয। কিন্তু যদি শাড়িটি এমন হয় যা শরীরের সৌন্দর্য প্রকাশ করে এবং নন-মাহরামের সামনে যাওয়ার জন্য উপযোগী হয়, তাহলে সেটি বিক্রি করা মাকরূহ হবে। তবে, সাধারণত শাড়ি বা জামা বিক্রি করা জায়েয, কারণ এর ব্যবহার সবসময় হারাম নয়। ক্রেতা যদি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করে, তাহলে বিক্রেতার কোনো গুনাহ নেই।

সারসংক্ষেপ:

  • ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক বা সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি করা জায়েয, যদি কাজটি সরাসরি সুদি লেনদেনের সাথে জড়িত না হয়।
  • পোশাক বা গয়না বিক্রি করা জায়েয, তবে যদি বিক্রেতা নিশ্চিতভাবে জানেন যে, ক্রেতা তা হারাম কাজে (নন-মাহরামের সামনে যাওয়া) ব্যবহার করবে, তাহলে সেক্ষেত্রে বিক্রি করা মাকরূহ হবে। নিশ্চিত না হলে জায়েয।

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (বিক্রয়ের শর্তাবলী)
  • রদ্দুল মুহতার (বিক্রয় ও ক্রয়ের অধ্যায়)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (বিক্রয়ের অধ্যায়)
  • বাহিশতি জেওর (পোশাক ও পর্দার বিধান)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.