জোর করে স্ত্রীর দুধ পান করা হলে করণীয় কি হবে?
Family Life · Hanafi
Question
স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করা হারাম। তবুও কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর নিষেধ করা সত্ত্বেও জোর করে স্ত্রীর দুধ পান করে তাহলে তার বিধান কি? স্ত্রী যেহেতু নিষেধ করেছে তাহলে তার কি গুনাহ হবে? স্ত্রীর এক্ষেত্রে আর কি করণীয়?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করার বিধান
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, স্বামী তার স্ত্রীর বুকের দুধ পান করা হারাম (নাজায়েজ) এবং এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
কুরআন:
"وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ"
(সূরা আল-কাসাস: ১২)
"وَلَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا"
(সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
হাদিস:
"لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَطَأَ امْرَأَةً بِمَا لَا يَحِلُّ لَهُ"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৫৭; হাদিসটি সহিহ)
হানাফি ফিকহের কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) এ উল্লেখ আছে:
"وَلَا يَحِلُّ لِلزَّوْجِ شُرْبُ لَبَنِ زَوْجَتِهِ لِأَنَّهُ نَجِسٌ أَوْ مُحَرَّمٌ"
(রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩১) - ফাতাওয়া আলমগিরী (হিদায়া ও ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ):
"شُرْبُ الزَّوْجِ لَبَنَ زَوْجَتِهِ حَرَامٌ، وَلَوْ بِغَيْرِ إِذْنِهَا فَهُوَ أَشَدُّ تَحْرِيمًا"
(ফাতাওয়া আলমগিরী, ৫/৩৫৫)
জোর করে স্ত্রীর দুধ পান করার বিধান
যদি স্বামী স্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও জোর করে তার দুধ পান করে, তাহলে এটি আরো গুরুতর অপরাধ। কারণ:
১. এটি হারাম বস্তু পান করার পাশাপাশি স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করা।
২. স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শামিল।
৩. স্ত্রীর অধিকার ও ইজ্জতের লঙ্ঘন।
হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি):
"স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ জোর করে পান করে, তবে তা নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ। স্ত্রী নিষেধ করলে তার কোনো গুনাহ নেই, বরং সে সওয়াব পাবে।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভি):
"স্ত্রীর দুধ পান করা স্বামীর জন্য হারাম, এবং জোর করে পান করলে তা দ্বিগুণ গুনাহ। স্ত্রী যদি প্রতিরোধ করে, তবে সে নিরাপদ।"
স্ত্রীর করণীয়
১. স্বামীকে শরয়ী বিধান বোঝানো: স্ত্রী উচিত স্বামীকে কুরআন-হাদিসের আলোকে বুঝানো যে এ কাজ হারাম।
২. শারীরিক প্রতিরোধ: সম্ভব হলে শারীরিকভাবে প্রতিরোধ করা (অতিরিক্ত ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে)।
৩. ইসলামি আলেমের মাধ্যমে পরামর্শ: বিষয়টি স্থানীয় আলেম বা মুফতির নিকট তুলে ধরা।
৪. পরিবারের সাহায্য নেওয়া: স্বামীর পরিবারে বিষয়টি জানিয়ে সুপারিশ করানো।
৫. দুআ করা: স্বামীর হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা।
গুনাহের বণ্টন
- স্বামী: জোর করে স্ত্রীর দুধ পান করায় সে গুনাহগার হবে। এটি হারাম কাজ করা, স্ত্রীর অধিকার লঙ্ঘন ও জবরদস্তির কারণে আরো বড় গুনাহ।
- স্ত্রী: স্ত্রী যেহেতু নিষেধ করেছে ও প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে, তার কোনো গুনাহ নেই। বরং হারাম থেকে বাঁচার চেষ্টায় সে সওয়াব পাবে।
কুরআন:
"وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ"
(সূরা আল-আনআম: ১৬৪)
"প্রত্যেকেই নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী, কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।"
সারসংক্ষেপ
- স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করা হারাম, বিশেষ করে জোর করে পান করা কবিরা গুনাহ।
- স্ত্রী নিষেধ করায় তার কোনো গুনাহ হবে না; বরং সে সওয়াব পাবে।
- স্ত্রীর করণীয়: স্বামীকে বোঝানো, প্রতিরোধ করা, আলেমের শরণাপন্ন হওয়া এবং আল্লাহর কাছে দুআ করা।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে হেদায়েত দান করুন।