সচ্চরিত্রবান পুরুষ বা নারীর জীবনে দুশ্চরিত্র জীবনসঙ্গী কেন আসে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
কুরআনে সরাসরি বলা আছে সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য। (সূরা নূর: ২৪)
তাহলে কখনো কখনো কেন সচ্চরিত্র কারো জীবনসঙ্গী দুশ্চরিত্র হয়, হোক সে নারী বা পুরুষ?
এই আয়াতের ভিত্তিতে এমন কোনো মাসআলা আছে কি, যেমন: সচ্চরিত কারো সাথে দুশ্চরিত্র কারো বিয়ে শুদ্ধ হবে না (নারী/পুরুষ)?
আর আয়াতে দুশ্চরিত্র দ্বারা কাদেরকে বোঝায়? যারা বর্তমানেও খারাপ তারাতো খারাপই। যারা অতীতে খারাপ ছিলো কিন্তু পরে তাওবা করে ফিরে এসেছে তারাও কি এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد:
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কুরআনুল কারিমের সূরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা এবং এর আলোকে বিবাহ সংক্রান্ত মাসআলা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরি। আসুন আমরা হানাফি ফিকহের আলোকে এই বিষয়টি বিস্তারিত বুঝার চেষ্টা করি।
সূরা নূর (২৪:২৬) আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা
আল্লাহ তাআলা বলেন: الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ ۖ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ "দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষেরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষেরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য।" (সূরা নূর: ২৬)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীন (তাফসীরবিদ)গণ একাধিক মত পেশ করেছেন। হানাফি মাযহাবের প্রখ্যাত মুফাসসির ও ফকীহগণ এই আয়াতের কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করেছেন:
১. শান-এ-নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট): অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ (হাদীসুল ইফক) দেওয়ার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল। মুনাফিকরা যখন আয়েশা (রা.)-এর চরিত্রে অপবাদ দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করে ঘোষণা করেন যে, পবিত্র ও সচ্চরিত্র নারীরা পবিত্র ও সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্যই নির্ধারিত। অর্থাৎ, নবী করীম (সা.) যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ সচ্চরিত্র পুরুষ, তাই তার স্ত্রীও হবে সচ্চরিত্রা। এই আয়াত আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা প্রমাণের জন্য এসেছে। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.), খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৩২-৪৩৩)
২. ভাষাগত ও প্রাসঙ্গিক অর্থ: আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আয়াতটির অর্থ হলো—খারাপ কথা ও কাজ খারাপ মানুষের জন্যই উপযুক্ত, আর ভালো কথা ও কাজ ভালো মানুষের জন্য উপযুক্ত। অর্থাৎ, মানুষের চরিত্র ও কর্ম তার স্বভাবের প্রতিফলন ঘটায়। (তাফসীরে উসমানী, মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.))
৩. বিবাহ সংক্রান্ত অর্থ: অনেক মুফাসসির বলেছেন, আয়াতটি বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ, সাধারণত আল্লাহ তাআলার বিধানে সচ্চরিত্র ব্যক্তির জন্য সচ্চরিত্র জীবনসঙ্গী নির্ধারিত থাকে এবং দুশ্চরিত্র ব্যক্তির জন্য দুশ্চরিত্র জীবনসঙ্গী নির্ধারিত থাকে। তবে এটি একটি সাধারণ ঘোষণা, কোনো কঠোর বিধান নয়। (রূহুল মাআনী, আল্লামা আলুসী (রহ.))
প্রশ্ন: সচ্চরিত্র ব্যক্তির জীবনসঙ্গী দুশ্চরিত্র হয় কেন?
আপনার প্রথম প্রশ্ন হলো—যদি কুরআনে বলা হয় সচ্চরিত্রের জন্য সচ্চরিত্রা, তাহলে বাস্তবে কেন দেখা যায় সচ্চরিত্র ব্যক্তির জীবনসঙ্গী দুশ্চরিত্র হচ্ছে?
এর উত্তরে বলতে হয়, এটি একটি সাধারণ নিয়মের ঘোষণা, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। এর কারণগুলো হলো:
১. মানুষের ইখতিয়ার (স্বাধীন ইচ্ছা): আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন। তিনি জোর করে কাউকে ভালো বা খারাপ জীবনসঙ্গী দেন না। মানুষ নিজের পছন্দ-অপছন্দ, পারিবারিক সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করে। তাই কখনো কখনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সচ্চরিত্র ব্যক্তির সাথে দুশ্চরিত্র ব্যক্তির বিবাহ হয়ে যায়। (ফাতাওয়া উসমানী, মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫০)
২. পরীক্ষা ও ইমতেহান: দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো সচ্চরিত্র বান্দাকে দুশ্চরিত্র জীবনসঙ্গী দিয়ে পরীক্ষা করেন। এটি তার ধৈর্য, সহনশীলতা এবং ঈমানের পরীক্ষা। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং জীবনসঙ্গীকে সৎপথে আনার চেষ্টা করে, তবে সে মহান প্রতিদান পাবে। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৩৫)
৩. তাকদীরের রহস্য: আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি বিষয় আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ী ঘটে। তবে তাকদীরের কোনো ঘটনা অন্যায় বা খারাপ হলে তার জন্য দায়ী মানুষ নিজেই। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: "ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ" অর্থাৎ, "মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।" (সূরা রূম: ৪১) সুতরাং, খারাপ জীবনসঙ্গী পাওয়ার পেছনেও মানুষের নিজের কোনো না কোনো ভুল বা গাফিলতি থাকতে পারে, যা সে বুঝতে পারে না।
৪. আয়াতের অর্থ সাধারণ ঘোষণা: এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো—চরিত্রের সাথে চরিত্রের সামঞ্জস্য থাকা উচিত। এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয় যে, সচ্চরিত্র ব্যক্তি দুশ্চরিত্র ব্যক্তিকে বিবাহ করলেই তা অবৈধ হয়ে যাবে। বরং এটি একটি পরামর্শ ও সাধারণ নিয়মের বিবৃতি। (আহকামুল কুরআন, আল-জাসসাস (রহ.), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৩০)
প্রশ্ন: এই আয়াতের ভিত্তিতে কি কোনো মাসআলা আছে?
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো—এই আয়াতের ভিত্তিতে কি এমন কোনো মাসআলা আছে যে, সচ্চরিত্র ব্যক্তির সাথে দুশ্চরিত্র ব্যক্তির বিবাহ শুদ্ধ হবে না?
উত্তর: হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে, এই আয়াতের ভিত্তিতে সচ্চরিত্র ব্যক্তির সাথে দুশ্চরিত্র ব্যক্তির বিবাহ শুদ্ধ না হওয়ার কোনো বিধান নেই। বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো—উভয় পক্ষ মুসলিম হওয়া, সম্মতি দেওয়া, সাক্ষী থাকা এবং মোহর নির্ধারণ করা। চরিত্র ভালো বা খারাপ হওয়া বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত নয়। (আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮০; ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৫)
তবে হ্যাঁ, চরিত্র ভালো হওয়া বিবাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কাম্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ" অর্থাৎ, "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ করো, তখন তার সাথে বিবাহ দাও।" (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১০৮৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৯৬৭)
তাই, বিবাহের আগে চরিত্র যাচাই করা এবং ভালো চরিত্রের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য। কিন্তু যদি কেউ ভুল করে খারাপ চরিত্রের কাউকে বিবাহ করে ফেলে, তবে সেই বিবাহ শুদ্ধ হবে এবং তা ভাঙার প্রয়োজন নেই। বরং স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে সৎপথে আনার চেষ্টা করা। (রদ্দুল মুহতার, ইবনে আবিদীন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৫)
প্রশ্ন: আয়াতে "দুশ্চরিত্র" দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে?
আপনার তৃতীয় প্রশ্ন হলো—আয়াতে "দুশ্চরিত্র" (الْخَبِيثُ) দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? যারা বর্তমানে খারাপ তাদেরকেই কি বোঝানো হয়েছে, নাকি যারা অতীতে খারাপ ছিল কিন্তু পরে তাওবা করেছে তারাও কি এর অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: আয়াতে "الْخَبِيثُ" (দুশ্চরিত্র) দ্বারা মূলত সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যে বর্তমানে খারাপ চরিত্রের অধিকারী এবং খারাপ কাজে লিপ্ত। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বর্তমানে যিনা-ব্যভিচার, মিথ্যা, প্রতারণা, গীবত ইত্যাদি খারাপ কাজে লিপ্ত এবং তাওবা করেনি।
যারা অতীতে খারাপ ছিল কিন্তু পরে আন্তরিকভাবে তাওবা করেছে, তারা এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ ইসলামে তাওবার বিধান হলো—তাওবা করলে পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং ব্যক্তি পবিত্র হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا" অর্থাৎ, "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা যুমার: ৫৩)
তাফসীরবিদগণ বলেছেন, আয়াতের "الْخَبِيثُ" দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যে তাওবা না করেই খারাপ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে বা বর্তমানে খারাপ অবস্থায় আছে। কিন্তু যে তাওবা করেছে, সে তো "طَيِّب" (পবিত্র) হয়ে গেছে। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৩৪; তাফসীরে উসমানী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫০)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ" অর্থাৎ, "গুনাহ থেকে তাওবাকারী সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহই নেই।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২৫০)
সুতরাং, যে ব্যক্তি অতীতে খারাপ ছিল কিন্তু এখন আন্তরিকভাবে তাওবা করে সৎপথে ফিরে এসেছে, সে এখন "সচ্চরিত্র" (طَيِّب) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার সাথে বিবাহ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও উত্তম।
হানাফি ফিকহের আলোকে বিবাহের ক্ষেত্রে চরিত্রের গুরুত্ব
হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে বিবাহের ক্ষেত্রে চরিত্রের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং তার অনুসারী ফকীহগণ বলেছেন:
১. বিবাহের মূল উদ্দেশ্য হলো—দ্বীন ও চরিত্র রক্ষা করা। তাই ভালো চরিত্রের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (বদাইউস সানাই, আল-কাসানী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৫)
২. অভিভাবকের দায়িত্ব হলো—তার অধীনস্থ নারী বা পুরুষের জন্য ভালো চরিত্রের জীবনসঙ্গী খোঁজা। যদি অভিভাবক জেনেশুনে খারাপ চরিত্রের কারো সাথে বিবাহ দেয়, তবে তা নিন্দনীয়। (ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮০)
৩. বিবাহের পর যদি দেখা যায় জীবনসঙ্গীর চরিত্র খারাপ, তবে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাকে সৎপথে আনার চেষ্টা করতে হবে। তালাক দেওয়া সর্বশেষ সমাধান। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬০)
বাস্তব জীবনে করণীয়
যারা সচ্চরিত্র কিন্তু তাদের জীবনসঙ্গী দুশ্চরিত্র, তাদের জন্য হানাফি ফকীহগণ নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ধৈর্য ধারণ করুন: আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। কুরআনে বলা হয়েছে: "إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ" (সূরা বাকারা: ১৫৩)।
২. দুআ করুন: আল্লাহর কাছে জীবনসঙ্গীর হিদায়াতের জন্য দুআ করতে থাকুন। নবী করীম (সা.) বলেছেন, দুআ হলো মুমিনের অস্ত্র।
৩. নসীহত করুন: কোমল ভাষায় এবং হিকমতের সাথে জীবনসঙ্গীকে সৎপথে আনার চেষ্টা করুন। রূঢ় আচরণ না করে ভালোবাসা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
৪. সাহায্য নিন: প্রয়োজনে পরিবারের বড়দের, আলেম-উলামাদের বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।
৫. সবশেষে: যদি জীবনসঙ্গী সত্যিই সংশোধন না হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী তালাক বা খুলার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটি সর্বশেষ সমাধান। (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৫)
সারসংক্ষেপ
১. সূরা নূরের ২৬ নম্বর আয়াতটি একটি সাধারণ ঘোষণা, কোনো কঠোর বিধান নয়। ২. সচ্চরিত্র ব্যক্তির সাথে দুশ্চরিত্র ব্যক্তির বিবাহ শুদ্ধ হবে না—এমন কোনো মাসআলা হানাফি ফিকহে নেই। ৩. তবে ভালো চরিত্রের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কাম্য। ৪. আয়াতে "দুশ্চরিত্র" দ্বারা ব